চট্টগ্রামে ৬ দফা নির্দেশনা জারি জেলা প্রশাসনের
jugantor
মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
চট্টগ্রামে ৬ দফা নির্দেশনা জারি জেলা প্রশাসনের

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানা হচ্ছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, হাটবাজারে লেগে আছে ভিড়। মাস্ক ছাড়া মানুষের ঘোরাঘুরি চলছে। বিশেষ করে নগরীর গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। আসনের বাইরেও দাঁড় করিয়ে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক দেওয়া তো দূরের কথা, চালক ও চালকের সহযোগী এমনকি অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। যারা মাস্ক পরে আছেন তাদের অনেকেই তা নামিয়ে রাখছে থুঁতনিতে। আবার কারওটা দুলছে দুই কানে। কেউ মুখ ঢাকছেন তো নাক খোলা। কারওটা ঠাঁই পেয়েছে পকেটে। সাধারণ মানুষের এমন উদাসীনতা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, করোনার ভয়াবহতা ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নতুন করে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এসব নির্দেশনা বৃহস্পতিবার সকালে জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে-দোকান, শপিংমল, বাজার ও হোটেল-রেস্তারাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। নইলে তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা সনদ দেখাতে হবে। ১২ বছরের ওপরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব রকম যানের চালক ও সহকারীদের কোভিড-১৯ টিকা সনদ থাকতে হবে। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সব সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম পয়েন্টে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে পরিবহণের জন্য যাত্রীদের জটলা। আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহণের কথা থাকলেও কথা রাখছেন না পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। সব আসনের পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। শাহ আমানত সেতু এলাকায় দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসেও একই অবস্থা। বেশির ভাগ যাত্রী মাস্ক ছাড়া সব জায়গায় চলাফেরা করছেন। সামনে পুলিশ এলে কেউ মাস্ক পরার চেষ্টা করলেও পুলিশ না থাকলে আবারও একই অবস্থা। তবে দূরপাল্লার বাসে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা না গেলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে না বাস কর্তৃপক্ষকে।

বাসের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনায় বিআরটিএ এক আদেশে বলেছে, গণপরিবহণে যাত্রী, চালক, সহকারী, পরিচ্ছন্নকর্মীসহ টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান-ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব রেখে গণপরিবহণে যাত্রী ওঠানামা করার ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রার শুরু ও শেষে মোটরযান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া মোটরযানের মালিকদের যাত্রীদের হাতব্যাগ, মালপত্র জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্টাফ অফিসার পীযূষ কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নির্দেশনা জারির পাশাপাশি সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে হ্যান্ডমাইকে। ভয়াবহতা জানিয়ে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মানার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

চট্টগ্রামে ৬ দফা নির্দেশনা জারি জেলা প্রশাসনের

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানা হচ্ছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, হাটবাজারে লেগে আছে ভিড়। মাস্ক ছাড়া মানুষের ঘোরাঘুরি চলছে। বিশেষ করে নগরীর গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। আসনের বাইরেও দাঁড় করিয়ে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক দেওয়া তো দূরের কথা, চালক ও চালকের সহযোগী এমনকি অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। যারা মাস্ক পরে আছেন তাদের অনেকেই তা নামিয়ে রাখছে থুঁতনিতে। আবার কারওটা দুলছে দুই কানে। কেউ মুখ ঢাকছেন তো নাক খোলা। কারওটা ঠাঁই পেয়েছে পকেটে। সাধারণ মানুষের এমন উদাসীনতা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, করোনার ভয়াবহতা ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নতুন করে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এসব নির্দেশনা বৃহস্পতিবার সকালে জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে-দোকান, শপিংমল, বাজার ও হোটেল-রেস্তারাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। নইলে তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা সনদ দেখাতে হবে। ১২ বছরের ওপরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব রকম যানের চালক ও সহকারীদের কোভিড-১৯ টিকা সনদ থাকতে হবে। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সব সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম পয়েন্টে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে পরিবহণের জন্য যাত্রীদের জটলা। আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহণের কথা থাকলেও কথা রাখছেন না পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। সব আসনের পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। শাহ আমানত সেতু এলাকায় দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসেও একই অবস্থা। বেশির ভাগ যাত্রী মাস্ক ছাড়া সব জায়গায় চলাফেরা করছেন। সামনে পুলিশ এলে কেউ মাস্ক পরার চেষ্টা করলেও পুলিশ না থাকলে আবারও একই অবস্থা। তবে দূরপাল্লার বাসে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা না গেলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে না বাস কর্তৃপক্ষকে।

বাসের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনায় বিআরটিএ এক আদেশে বলেছে, গণপরিবহণে যাত্রী, চালক, সহকারী, পরিচ্ছন্নকর্মীসহ টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান-ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব রেখে গণপরিবহণে যাত্রী ওঠানামা করার ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রার শুরু ও শেষে মোটরযান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া মোটরযানের মালিকদের যাত্রীদের হাতব্যাগ, মালপত্র জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্টাফ অফিসার পীযূষ কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নির্দেশনা জারির পাশাপাশি সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে হ্যান্ডমাইকে। ভয়াবহতা জানিয়ে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মানার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন