যশোরে ১৬ শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত এক স্কুলেই ৬
jugantor
যশোরে ১৬ শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত এক স্কুলেই ৬

  যশোর ব্যুরো  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এক স্কুলেই করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৬ শিক্ষকের। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুল যাওয়া বন্ধ করায় ক্লাসে উপস্থিতির হার অর্ধেকে নেমে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, জেলায় করোনায় আক্রান্ত এসব শিক্ষক সবাই দুই ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। তবে শিক্ষকরা হলেও কোনো শিক্ষার্থীর আক্রান্ত হওয়ার খবর তারা পাননি। শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হলে কী করতে হবে সে ব্যাপারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। আতঙ্কিত না হতে এবং গুজবে কান না দিতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৯। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৪০০ শিক্ষক। তাদের সবার করোনার টিকাদান শেষ হয়েছে। আক্রান্ত ১৬ শিক্ষকের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ এবং অপর দুজন শার্শা ও অভয়নগর উপজেলায়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সদরের বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ শিক্ষক। এ বিদ্যালয়ে প্রথমে আক্রান্ত হন সহকারী শিক্ষক তানিয়া জামান তমা। তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ১০ জানুয়ারি তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে নমুনা দেন। ১৩ জানুয়ারি জানতে পারেন তার করোনা পজিটিভ। উপসর্গ দেখা দেওয়ায় একইদিন ওই স্কুলের ১৭ শিক্ষকের মধ্যে ৫ শিক্ষক কানিজ ফাতেমা, হোসনে আরা, সুতপা রানী, সামছুন্নাহার সালমা ও জিনজিরা খাতুন নমুনা দেন। ১৫ ও ১৭ জানুয়ারি দেওয়া ফলাফলে সবারই করোনা শনাক্ত হয়। তবে বাকি শিক্ষকরা সুস্থ থাকায় করোনা পরীক্ষা করাননি বলে জানিয়েছেন স্কুলটি প্রধান শিক্ষক।

এছাড়া ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সদর উপজেলার শহিদ সরণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিল আফরোজ নার্গিস, হালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিতা রানী মজুমদার, মেঘলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরজাহান আক্তার, নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়ালিউর রহমান, মনোহরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসাইরা সোহেলী, নতুন উপশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিনা জেসমিন, নিমতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান হিরা, চাঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজা সুলতানা, অভয়নগর উপজেলার মধ্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহানারা শিউলী ও শার্শা উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার। করোনা আক্রান্তরা সবাই বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেছে। বিষয়টি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলেননি। আমরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে তাদের সুস্থ শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে।

শার্শার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আক্রান্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার জানান, আমি কিছুটা সুস্থ আছি। আমার আক্রান্ত হওয়ার খবরে ক্লাসে উপস্থিতির হার কিছুটা কমেছে। সুস্থ শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন।

এদিকে যশোরে এক স্কুলেই ৬ শিক্ষক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সংক্রমণের ভয় করছেন অভিভাবকরা। ফলে স্কুল খোলার পর উপস্থিতি ৯০-৯৫ শতাংশ থাকলেও এখন অনেক স্কুলে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোশাররফ হোসেন জানান, সন্তানদের আপাতত স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত রয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা না দিয়ে স্কুল খোলা বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি।

যশোরে ১৬ শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত এক স্কুলেই ৬

 যশোর ব্যুরো 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এক স্কুলেই করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৬ শিক্ষকের। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুল যাওয়া বন্ধ করায় ক্লাসে উপস্থিতির হার অর্ধেকে নেমে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, জেলায় করোনায় আক্রান্ত এসব শিক্ষক সবাই দুই ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। তবে শিক্ষকরা হলেও কোনো শিক্ষার্থীর আক্রান্ত হওয়ার খবর তারা পাননি। শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হলে কী করতে হবে সে ব্যাপারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। আতঙ্কিত না হতে এবং গুজবে কান না দিতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৯। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৪০০ শিক্ষক। তাদের সবার করোনার টিকাদান শেষ হয়েছে। আক্রান্ত ১৬ শিক্ষকের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ এবং অপর দুজন শার্শা ও অভয়নগর উপজেলায়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সদরের বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ শিক্ষক। এ বিদ্যালয়ে প্রথমে আক্রান্ত হন সহকারী শিক্ষক তানিয়া জামান তমা। তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ১০ জানুয়ারি তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে নমুনা দেন। ১৩ জানুয়ারি জানতে পারেন তার করোনা পজিটিভ। উপসর্গ দেখা দেওয়ায় একইদিন ওই স্কুলের ১৭ শিক্ষকের মধ্যে ৫ শিক্ষক কানিজ ফাতেমা, হোসনে আরা, সুতপা রানী, সামছুন্নাহার সালমা ও জিনজিরা খাতুন নমুনা দেন। ১৫ ও ১৭ জানুয়ারি দেওয়া ফলাফলে সবারই করোনা শনাক্ত হয়। তবে বাকি শিক্ষকরা সুস্থ থাকায় করোনা পরীক্ষা করাননি বলে জানিয়েছেন স্কুলটি প্রধান শিক্ষক।

এছাড়া ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সদর উপজেলার শহিদ সরণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিল আফরোজ নার্গিস, হালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিতা রানী মজুমদার, মেঘলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরজাহান আক্তার, নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়ালিউর রহমান, মনোহরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসাইরা সোহেলী, নতুন উপশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিনা জেসমিন, নিমতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান হিরা, চাঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজা সুলতানা, অভয়নগর উপজেলার মধ্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহানারা শিউলী ও শার্শা উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার। করোনা আক্রান্তরা সবাই বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেছে। বিষয়টি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলেননি। আমরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে তাদের সুস্থ শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে।

শার্শার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আক্রান্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার জানান, আমি কিছুটা সুস্থ আছি। আমার আক্রান্ত হওয়ার খবরে ক্লাসে উপস্থিতির হার কিছুটা কমেছে। সুস্থ শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন।

এদিকে যশোরে এক স্কুলেই ৬ শিক্ষক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সংক্রমণের ভয় করছেন অভিভাবকরা। ফলে স্কুল খোলার পর উপস্থিতি ৯০-৯৫ শতাংশ থাকলেও এখন অনেক স্কুলে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোশাররফ হোসেন জানান, সন্তানদের আপাতত স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত রয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা না দিয়ে স্কুল খোলা বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন