শীর্ষ ডাকাত সর্দার বালির ঘাঁটি মুরাদনগরে
jugantor
শীর্ষ ডাকাত সর্দার বালির ঘাঁটি মুরাদনগরে
৩১ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার মুরাদনগরে বসে তিন উপজেলার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে চট্টগ্রামের শীর্ষ ডাকাত সর্দার সৈয়দ আহাম্মেদ বালি। শীর্ষ এ ডাকাত সর্দার বন্দর নগরী ছেড়ে মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকুট ইউনিয়নের গাঙ্গেরকুট এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত এ ডাকাত সর্দারকে শেল্টার দিচ্ছে ওই এলাকার ইউপি সদস্য ফাতু মিয়া। আসছে ৩১ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, তিন ডাকাত ছেলেসহ একটি বাহিনী নিয়ে বালি গাঙ্গেরকুট গ্রামের ফাতু মিয়ার আশ্রয়ে রয়েছে। আসছে ইউপি নির্বাচনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনায় ফাতু মিয়া এ ডাকাত দলকে এলাকায় এনেছেন। এলাকার বেশ কিছু অপরাধীও বালি বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। গাঙ্গেরকুটে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও তা চোখে পড়ছে না মুরাদনগর এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফাতু মিয়া বলেন, আমি বালি ডাকাতকে কখনো আশ্রয় প্রশ্রয় দেইনি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

তিন যুগের শীর্ষ ডাকাত সর্দার বালি গত তিন মাস ধরে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্টে অবস্থান করে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিন ডাকাত ছেলে এবং সদস্যদের নিয়ে বাঙ্গরা-কসবা-নবীনগর থানা এলাকার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে বালি বাহিনীর অবস্থান। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় এবং বিকল্প সড়ক না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির খবর আগে থেকেই পেয়ে যায় বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে কসবা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে বালি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বালি বাহিনীর অপরাধের সব চিত্র সম্পর্কে কুমিল্লার বাঙ্গরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এবং কসবা থানা পুলিশ অবগত থাকলেও সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে চলছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, তিন থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ বালি বাহিনী গাঙ্গেরকুট এলাকায় অবৈধ প্রভাব বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বালি ড্রাইভারের শ্বশুরবাড়ি বাঙ্গরাবাজার ধানাধীন গাঙ্গেরকুট গ্রামে। গাঙ্গেরকুট এলাকায় তার নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে কাঁপে। বালি এক সময় গাঙ্গেরকুট গ্রামে থাকত। সে ছিল গণধোলাইয়ে নিহত ডাকাত সর্দার শাহাদাৎ হোসেন ফারুকের সেকেন্ড ইন কমান্ড। দশ বছর আগে ফারুক নিহত হওয়ার পর বালি গাঙ্গেরকুট এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সম্প্রতি প্রভাবশালী ফাতু মিয়ার শেল্টারে এখন এলাকায় ফিরে এসেছে বালি।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমরা বালি ডাকাতকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিট পুলিশের অফিসার প্রতিনিয়ত এলাকায় অবস্থান করে অপরাধী চক্রের সন্ধানে কাজ করছে। আশা করি, শিগগিরই এ বাহিনীর সদস্যরা আইনের আওতায় চলে আসবে।

শীর্ষ ডাকাত সর্দার বালির ঘাঁটি মুরাদনগরে

৩১ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা
 আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার মুরাদনগরে বসে তিন উপজেলার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে চট্টগ্রামের শীর্ষ ডাকাত সর্দার সৈয়দ আহাম্মেদ বালি। শীর্ষ এ ডাকাত সর্দার বন্দর নগরী ছেড়ে মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকুট ইউনিয়নের গাঙ্গেরকুট এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত এ ডাকাত সর্দারকে শেল্টার দিচ্ছে ওই এলাকার ইউপি সদস্য ফাতু মিয়া। আসছে ৩১ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, তিন ডাকাত ছেলেসহ একটি বাহিনী নিয়ে বালি গাঙ্গেরকুট গ্রামের ফাতু মিয়ার আশ্রয়ে রয়েছে। আসছে ইউপি নির্বাচনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনায় ফাতু মিয়া এ ডাকাত দলকে এলাকায় এনেছেন। এলাকার বেশ কিছু অপরাধীও বালি বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। গাঙ্গেরকুটে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও তা চোখে পড়ছে না মুরাদনগর এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফাতু মিয়া বলেন, আমি বালি ডাকাতকে কখনো আশ্রয় প্রশ্রয় দেইনি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

তিন যুগের শীর্ষ ডাকাত সর্দার বালি গত তিন মাস ধরে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্টে অবস্থান করে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিন ডাকাত ছেলে এবং সদস্যদের নিয়ে বাঙ্গরা-কসবা-নবীনগর থানা এলাকার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে বালি বাহিনীর অবস্থান। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় এবং বিকল্প সড়ক না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির খবর আগে থেকেই পেয়ে যায় বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে কসবা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে বালি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বালি বাহিনীর অপরাধের সব চিত্র সম্পর্কে কুমিল্লার বাঙ্গরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এবং কসবা থানা পুলিশ অবগত থাকলেও সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে চলছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, তিন থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ বালি বাহিনী গাঙ্গেরকুট এলাকায় অবৈধ প্রভাব বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বালি ড্রাইভারের শ্বশুরবাড়ি বাঙ্গরাবাজার ধানাধীন গাঙ্গেরকুট গ্রামে। গাঙ্গেরকুট এলাকায় তার নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে কাঁপে। বালি এক সময় গাঙ্গেরকুট গ্রামে থাকত। সে ছিল গণধোলাইয়ে নিহত ডাকাত সর্দার শাহাদাৎ হোসেন ফারুকের সেকেন্ড ইন কমান্ড। দশ বছর আগে ফারুক নিহত হওয়ার পর বালি গাঙ্গেরকুট এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সম্প্রতি প্রভাবশালী ফাতু মিয়ার শেল্টারে এখন এলাকায় ফিরে এসেছে বালি।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমরা বালি ডাকাতকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিট পুলিশের অফিসার প্রতিনিয়ত এলাকায় অবস্থান করে অপরাধী চক্রের সন্ধানে কাজ করছে। আশা করি, শিগগিরই এ বাহিনীর সদস্যরা আইনের আওতায় চলে আসবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন