সম্পদ লুটে নিতে এবার গুমের হুমকি চেয়ারম্যানের
jugantor
কুতুবদিয়া উপজেলা
সম্পদ লুটে নিতে এবার গুমের হুমকি চেয়ারম্যানের

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাপ-দাদার ভিটে হাতছাড়া করতে রাজি না হওয়ায় এবার খুন ও গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলার কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। জাল ওয়ারিশান সনদ মাধ্যমে জমি আত্মসাতের ধারাবাহিক চেষ্টায় অতিষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এতিম তরুণী সম্প্রতি ওই চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর পরই গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী তানজিনা সোলতানা কুতুবদিয়ায় উপজেলার আলি আকবর ডেইল ইউনিয়নের মৃত ফিরোজ আলমের মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরির চেষ্টা করছেন। তানজিনার দাবি, তার বাবার মৃত্যু পর চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার মেম্বার থাকার সময় তাকে বাপদাদার ভেটেমাটি বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান হওয়ার এক মাসের মাথায় সম্পদের মালিক একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজন ভুয়া ওয়ারিশকে জাল সনদ দেন। এ ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করা হয়। তিনি বলেন, মামলা জানাজানি হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে চেয়ারম্যান। এক পর্যায়ে গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কুতুবদিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আমার জালিয়াতি মামলার সাক্ষী শাহাজান সিকদারকে (৬০) মারধর করেন। আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তখন আমাকেও শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর।

তানজিনার অভিযোগ, এজাহার দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে ৫ জানুয়ারি আদালতে আবেদন করা হলে মামলাটি আমলে নিয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি নথিভুক্তির আদেশ দেন। এরপর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এদিকে মামলা দুটি তুলে না নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে তানজিনাকে গুম ও খুনের হুমকি দিয়েছেন দাবি করে ১৭ জানুয়ারি কুতুবদিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। তানজিনা বলেন, চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাকে প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছেন। আমি কারও সহযোগিতা পাচ্ছি না। পুলিশ চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ করছে।

জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ওয়ারিশ সনদ একটু এদিক-ওদিক হয়েছিল। পরে আমি সংশোধনও করেছি। এরপরও তানজিনা আমার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছে। সাক্ষীকে মারধর ও বাদী তানজিনাকে হত্যাচেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাক্ষী শাহাজান সিকদার মাদক সেবন করে সেদিন আমার ওপর হামলা করে। ওই সময় তানজিনাও হঠাৎ এসে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা লোকজন তানজিনাকে মারতে গেলে আমি বরং তাকে রক্ষা করি। তিনি বলেন, আমি কখনো তানজিনাকে ভিটেমাটি বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগ করিনি। গুম, খুনের হুমকিও দিইনি। সে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে আমার সম্মানহানি করে যাচ্ছে।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর হায়দার বলেন, চেয়ারম্যানের দাবি তার ওপর হামলা করা হয়েছে। আর তানজিনার দাবি তাকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টা করেছেন চেয়ারম্যান। তানজিনা মামলা করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মামলার আসামিরা জামিনে আছে। মামলার তদন্ত চলছে। ওসি ওমর হায়দার বলেন, তানজিনা সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন পুলিশ চেয়ারম্যানের হয়ে কাজ করছে। আর চেয়ারম্যান সাহেব বলছেন, আমি তানজিনার হয়ে কাজ করেছি।

কুতুবদিয়া উপজেলা

সম্পদ লুটে নিতে এবার গুমের হুমকি চেয়ারম্যানের

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাপ-দাদার ভিটে হাতছাড়া করতে রাজি না হওয়ায় এবার খুন ও গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলার কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। জাল ওয়ারিশান সনদ মাধ্যমে জমি আত্মসাতের ধারাবাহিক চেষ্টায় অতিষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এতিম তরুণী সম্প্রতি ওই চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর পরই গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী তানজিনা সোলতানা কুতুবদিয়ায় উপজেলার আলি আকবর ডেইল ইউনিয়নের মৃত ফিরোজ আলমের মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরির চেষ্টা করছেন। তানজিনার দাবি, তার বাবার মৃত্যু পর চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার মেম্বার থাকার সময় তাকে বাপদাদার ভেটেমাটি বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান হওয়ার এক মাসের মাথায় সম্পদের মালিক একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজন ভুয়া ওয়ারিশকে জাল সনদ দেন। এ ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করা হয়। তিনি বলেন, মামলা জানাজানি হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে চেয়ারম্যান। এক পর্যায়ে গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কুতুবদিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আমার জালিয়াতি মামলার সাক্ষী শাহাজান সিকদারকে (৬০) মারধর করেন। আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তখন আমাকেও শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর।

তানজিনার অভিযোগ, এজাহার দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে ৫ জানুয়ারি আদালতে আবেদন করা হলে মামলাটি আমলে নিয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি নথিভুক্তির আদেশ দেন। এরপর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এদিকে মামলা দুটি তুলে না নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে তানজিনাকে গুম ও খুনের হুমকি দিয়েছেন দাবি করে ১৭ জানুয়ারি কুতুবদিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। তানজিনা বলেন, চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাকে প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছেন। আমি কারও সহযোগিতা পাচ্ছি না। পুলিশ চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ করছে।

জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ওয়ারিশ সনদ একটু এদিক-ওদিক হয়েছিল। পরে আমি সংশোধনও করেছি। এরপরও তানজিনা আমার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছে। সাক্ষীকে মারধর ও বাদী তানজিনাকে হত্যাচেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাক্ষী শাহাজান সিকদার মাদক সেবন করে সেদিন আমার ওপর হামলা করে। ওই সময় তানজিনাও হঠাৎ এসে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা লোকজন তানজিনাকে মারতে গেলে আমি বরং তাকে রক্ষা করি। তিনি বলেন, আমি কখনো তানজিনাকে ভিটেমাটি বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগ করিনি। গুম, খুনের হুমকিও দিইনি। সে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে আমার সম্মানহানি করে যাচ্ছে।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর হায়দার বলেন, চেয়ারম্যানের দাবি তার ওপর হামলা করা হয়েছে। আর তানজিনার দাবি তাকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টা করেছেন চেয়ারম্যান। তানজিনা মামলা করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মামলার আসামিরা জামিনে আছে। মামলার তদন্ত চলছে। ওসি ওমর হায়দার বলেন, তানজিনা সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন পুলিশ চেয়ারম্যানের হয়ে কাজ করছে। আর চেয়ারম্যান সাহেব বলছেন, আমি তানজিনার হয়ে কাজ করেছি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন