প্রথমবার ইভিএমে ভোটে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা
jugantor
শরীয়তপুরে পাঁচ ইউপি নির্বাচন
প্রথমবার ইভিএমে ভোটে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি  

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে শরীয়তপুরের সদর ও জাজিরা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইভিএমে ভোট হওয়ায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন সাধারণ ভোটারসহ প্রার্থীরা। প্রার্থীদের অভিযোগ বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েই চলছে।

নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে অদ্যাবধি ইভিএমকে সাধারণ ভোটারদের মাঝে পরিচিত করার জন্য কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অজানা আশঙ্কায় ভুগছেন বলে একাধিক ভোটার ও প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নসহ জাজিরা উপজেলা সদর ইউনিয়ন, নাওডোবা, সেনেরচর ও বড়কান্দি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এসব ইউনিয়নে ইভিএমে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যারা ইভিএম নিয়ন্ত্রণ করবেন তারা কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন সেটা নিয়েও ভোটারদের মাঝে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। এছাড়া ইভিএমের সঙ্গে নির্বাচনের দিন যারা সংশ্লিষ্ট থাকবেন তারা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে মেশিন হ্যাকিং করতে পারেন। কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ভোটারের অগোচরে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন সাধারণ ভোটারসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একাধিক চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী।

এছাড়া নাওডোবা ইউনিয়নে চেয়ারম্যার প্রার্থীসহ স্থানীরা বহিরাগতদের কারণে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। ভোটাররা বলছেন, ইভিএমে কীভাবে ভোট প্রদান করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের কোনোই ধারণা নেই। ভোটের আর মাত্র সাত দিন বাকি। এ ব্যাপারে স্থানীয় নির্বাচন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা কিংবা ভোটারদের হাতে-কলমে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে। গত ৩ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৩৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত ৪০৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নে চার চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত ৩৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যার প্রার্থী আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ মানুষের মনে শঙ্ক তৈরি করেছে। পাশাপাশি অন্য ইউনিয়নের লোকজন এসে তার ইউনিয়নে ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তিনি। জাজিরা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী দুলাল আকন বলেন, প্রথমবারের মতো জাজিরায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতি সম্পের্কে তেমন কিছু জানেন না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার ভোটারদের সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংশয় দূর করবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ইভিএম পদ্ধতি জাল-জালিয়াতি করার সুযোগ নেই। যিনি যাকে ভোট দেবেন তার নামেই ভোট কাউন্ট হবে। এর ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই। আর আগামী ২৯ জানুয়ারি সাধারণ ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

শরীয়তপুরে পাঁচ ইউপি নির্বাচন

প্রথমবার ইভিএমে ভোটে শঙ্কায় প্রার্থী ও ভোটাররা

 শরীয়তপুর প্রতিনিধি 
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে শরীয়তপুরের সদর ও জাজিরা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইভিএমে ভোট হওয়ায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন সাধারণ ভোটারসহ প্রার্থীরা। প্রার্থীদের অভিযোগ বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েই চলছে।

নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে অদ্যাবধি ইভিএমকে সাধারণ ভোটারদের মাঝে পরিচিত করার জন্য কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অজানা আশঙ্কায় ভুগছেন বলে একাধিক ভোটার ও প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নসহ জাজিরা উপজেলা সদর ইউনিয়ন, নাওডোবা, সেনেরচর ও বড়কান্দি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এসব ইউনিয়নে ইভিএমে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যারা ইভিএম নিয়ন্ত্রণ করবেন তারা কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন সেটা নিয়েও ভোটারদের মাঝে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। এছাড়া ইভিএমের সঙ্গে নির্বাচনের দিন যারা সংশ্লিষ্ট থাকবেন তারা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে মেশিন হ্যাকিং করতে পারেন। কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ভোটারের অগোচরে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন সাধারণ ভোটারসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একাধিক চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী।

এছাড়া নাওডোবা ইউনিয়নে চেয়ারম্যার প্রার্থীসহ স্থানীরা বহিরাগতদের কারণে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। ভোটাররা বলছেন, ইভিএমে কীভাবে ভোট প্রদান করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের কোনোই ধারণা নেই। ভোটের আর মাত্র সাত দিন বাকি। এ ব্যাপারে স্থানীয় নির্বাচন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা কিংবা ভোটারদের হাতে-কলমে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে। গত ৩ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৩৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত ৪০৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নে চার চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত ৩৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যার প্রার্থী আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ মানুষের মনে শঙ্ক তৈরি করেছে। পাশাপাশি অন্য ইউনিয়নের লোকজন এসে তার ইউনিয়নে ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তিনি। জাজিরা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী দুলাল আকন বলেন, প্রথমবারের মতো জাজিরায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতি সম্পের্কে তেমন কিছু জানেন না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার ভোটারদের সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংশয় দূর করবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ইভিএম পদ্ধতি জাল-জালিয়াতি করার সুযোগ নেই। যিনি যাকে ভোট দেবেন তার নামেই ভোট কাউন্ট হবে। এর ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই। আর আগামী ২৯ জানুয়ারি সাধারণ ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন