পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ
jugantor
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

  মাহাদী হাসান, ঢাবি  

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচ বছর পর ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। হল কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত পদপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ। এতে যোগ্য হওয়ার পরও পদ না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সংগঠনটির অনেক নেতা।

আবিদ আল হাসান ও মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর সর্বশেষ হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের ১৬ দিন পর দেওয়া হয় হল কমিটি। আর ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে একই বছরের ৩১ জুলাই সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেনকে যথাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে দায়িত্বের রদবদল হলেও পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি হল সম্মেলন। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি রাতে ঘোষণা করা হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত হল সম্মেলনের তারিখ।

এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই হল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। তারা মনে করেন, শীর্ষ নেতারা তদবির করলে ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা ভেবে তাদের কথা ফেলবেন না ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। তদবিরের জন্য বিভিন্ন শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন এমন অন্তত দশজন পদপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের। তারা বলেন, আগের কমিটিতে শুনেছি শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে অনেকে নেতা হয়েছেন। তাই আমরাও চেষ্টা করছি। যাতে কাউকে ম্যানেজ করে সুপারিশ নেওয়া যায়। এতে নেতা হওয়ার পথটা সহজ হবে বলে আশা করছি।

শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে নেতা বানানো হলে যোগ্যরা বঞ্চিত হবেন কি না জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের অভিভাবক সংগঠন। তাদের কাছে সুপারিশের জন্য ঘুরবে-এটাই স্বাভাবিক। কারণ সবারই আকাক্সক্ষা থাকে হলের নেতা হওয়ার। কিন্তু যারা পরিশ্রমী, শিক্ষার্থীবান্ধব তাদেরই হলে নেতা হওয়া উচিত। এটাও সত্য, সুপারিশের ক্ষেত্রে অনেক সময় এই নেতৃত্ব আসে না। এটা একটু দৃষ্টিকটু ব্যাপার। যাদের সুযোগ আছে তারা সুপারিশ আনবেন, এটা রাজনৈতিক একটা প্রক্রিয়া। তবে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বিচক্ষণতার প্রমাণ রাখতে হবে।

সুপারিশে কাউকে নেতা বানানো হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সুপারিশ করতেই পারেন। তাদের সুপারিশ অবশ্যই সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যারা যোগ্য ও মাঠে পরিশ্রম করেছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন, তাদেরকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। এখানে আসলে সুপারিশের তেমন কোনো গুরুত্ব থাকবে বলে আমি মনে করি না।

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন

পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

 মাহাদী হাসান, ঢাবি 
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচ বছর পর ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। হল কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত পদপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ। এতে যোগ্য হওয়ার পরও পদ না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সংগঠনটির অনেক নেতা।

আবিদ আল হাসান ও মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর সর্বশেষ হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের ১৬ দিন পর দেওয়া হয় হল কমিটি। আর ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে একই বছরের ৩১ জুলাই সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেনকে যথাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে দায়িত্বের রদবদল হলেও পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি হল সম্মেলন। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি রাতে ঘোষণা করা হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত হল সম্মেলনের তারিখ।

এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই হল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। তারা মনে করেন, শীর্ষ নেতারা তদবির করলে ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা ভেবে তাদের কথা ফেলবেন না ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। তদবিরের জন্য বিভিন্ন শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন এমন অন্তত দশজন পদপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের। তারা বলেন, আগের কমিটিতে শুনেছি শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে অনেকে নেতা হয়েছেন। তাই আমরাও চেষ্টা করছি। যাতে কাউকে ম্যানেজ করে সুপারিশ নেওয়া যায়। এতে নেতা হওয়ার পথটা সহজ হবে বলে আশা করছি।

শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে নেতা বানানো হলে যোগ্যরা বঞ্চিত হবেন কি না জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের অভিভাবক সংগঠন। তাদের কাছে সুপারিশের জন্য ঘুরবে-এটাই স্বাভাবিক। কারণ সবারই আকাক্সক্ষা থাকে হলের নেতা হওয়ার। কিন্তু যারা পরিশ্রমী, শিক্ষার্থীবান্ধব তাদেরই হলে নেতা হওয়া উচিত। এটাও সত্য, সুপারিশের ক্ষেত্রে অনেক সময় এই নেতৃত্ব আসে না। এটা একটু দৃষ্টিকটু ব্যাপার। যাদের সুযোগ আছে তারা সুপারিশ আনবেন, এটা রাজনৈতিক একটা প্রক্রিয়া। তবে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বিচক্ষণতার প্রমাণ রাখতে হবে।

সুপারিশে কাউকে নেতা বানানো হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা সুপারিশ করতেই পারেন। তাদের সুপারিশ অবশ্যই সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যারা যোগ্য ও মাঠে পরিশ্রম করেছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন, তাদেরকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। এখানে আসলে সুপারিশের তেমন কোনো গুরুত্ব থাকবে বলে আমি মনে করি না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন