‘হালিম ছাড়া জমে না’

  হক ফারুক আহমেদ ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হালিম

ইতিহাস বলে, হালিম ছিল মূলত মোগল রাজদরবারের খাবার। মোগল অধিপতি থেকে সুবেদারদের সকালের নাশতায় প্রিয় খাবার হিসেবে এটি পরিবেশন করা হতো। মোগল রাজদরবারের সেই হালিম এখন শুধু রাজধানীবাসী নয় অনেক জেলা শহরের মানুষেরও অতি প্রিয় খাবার। সারা বছরই হালিম পাওয়া যায়। তবে রমজানে হালিমের চাহিদা বেশি।

রাজধানীতে যারা ইফতারি বাজারে ছোটেন তাদের বেশির ভাগই হালিম কেনেন। তাদের অনেকেরই মত, সারা দিন রোজার পর একটু হালিম খেতে বেশ ভালো লাগে। সত্যি বলতে হালিম ছাড়া ইফতারি জমে না।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের হালিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, নানা ধরনের ডাল থাকে হালিমে। যার মধ্যে রয়েছে মুসর, মুগ. ছোলা, মাসকলাই ও মটর ডাল। আরও দেয়া হয় সুগন্ধি চাল, মরিচ, হলুদ, ধনে, জিরা, দারুচিনি-এলাচসহ গরমমশলা, গোলমরিচ, মৌরি, মেথি ও সরিষা। তার সঙ্গে যুক্ত হয় গরু, খাসি বা মুরগির মাংস। পরিবেশনের সময় কাঁচামরিচ, আদা, ধনেপাতা, বেরেস্তা, শসার কুচি দেয়া হয়। সবশেষে এক টুকরো লেবুর রসযোগে খাওয়া হয় স্বাদের হালিম।

ঢাকার যে কোনো এলাকার হোটেল রেস্তোরাঁয় ইফতারের খাবার হিসেবে হালিম পাওয়া যাচ্ছে। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও অলিগলিতে হালিম বিক্রি করছে। সুস্বাদু হালিমের জন্য প্রসিদ্ধ বিশেষ কিছু জায়গা।

যার মধ্যে অন্যতম ‘মামা হালিম’। সোমবার বৃষ্টিস্নাত বিকালে জ্যাম ঠেলে কলাবাগান পর্যন্ত যাওয়া গেল। কলাবাগান মাঠের উল্টো দিকেই মামা হালিমের দোকান। ইতিমধ্যে জমতে শুরু করেছে বিক্রি। মামা হালিমের সৃষ্টি যার হাতে তিনি কুমিল্লার লাকসামের দিল মোহাম্মদ মনু। বছর ত্রিশেক আগে তিনি এ হালিম বিক্রি শুরু করেন। জানা গেল বিভিন্ন ডাল, গম, মাংস সহযোগে বানানো হয় এ হালিম। ডাল-মশলার সঠিক অনুপাতই মামা হালিমের স্বাদের রহস্য। এখানে গরু, খাসি ও মুরগি তিন ধরনের মাংসেরই হালিম পাওয়া যায়। পাত্রের আকারভেদে দাম ১৫০ থেকে ১২০০ টাকা। গরুর হালিমের চাহিদা বেশি।

ধানমণ্ডির বাসিন্দা তৌসিফ মুনতাকীম বাসার সবার জন্য মামা হালিমের বড় সাইজের পাত্রে গরুর হালিম কিনলেন। ইফতারিতে হালিমের প্রসঙ্গ টানতেই তিনি বললেন, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু শেষে হালিম খেতে পছন্দ করে সবাই। হালিম ছাড়া তাই ইফতারি জমে না। সে কারণে রোজায় প্রায় প্রতিদিনই এখান থেকে হালিম কেনা হয়। আর মামা হালিমের স্বাদ অতুলনীয়।

রাজধানীর অন্যতম ইফতার বাজার বেইলি রোডের ক্যাপিটালেও ভালো মানের হালিম পাওয়া যায়। এখানে গরুর হালিম পাওয়া যাচ্ছে ২০০ ও ৮০০ টাকার মধ্যে, মুরগির হালিম ৩০০ ও ৫০০ টাকার বাটিতে। সেখানকার সুইসেও সুস্বাদু হালিম বিক্রি হচ্ছে। খাসির হালিম পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৮০০ টাকায়। গরুর হালিম পাওয়া যাচ্ছে ১৭৫ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

পুরান ঢাকার নর্থ সাউথ রোডের প্রসিদ্ধ খাবারের দোকান হোটেল আল রাজ্জাক। এখানকার হালিম বেশ প্রসিদ্ধ। তবে এখানে গরুর হালিম বিক্রি হয় না। বিভিন্ন পাত্রে খাসি ও মুরগির হালিম বিক্রি হচ্ছে ২০০-১২০০ টাকার মধ্যে।

হালিমের আরেক জনপ্রিয় নাম ডিসেন্ট। চকবাজার, মতিঝিলসহ নানা জায়গায় তাদের কনফেকশনারি আছে। তারা গরুর হালিম বিক্রি করে। তাদের হালিমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, সবাই যেখানে টুকরো মাংস দেয় তারা সেখানে গরুর মাংস ঝুর ঝুর করে দেয়। যে কারণে মাংসের একটা আলাদা স্বাদ হালিমে আসে। ১৫০-৬০০ টাকার মধ্যে এই হালিম কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে চার জায়গায়। ধানমণ্ডি, কারওয়ান বাজার, রায় সাহেবের বাজার ও বনানীতে। স্টার হোটেলে বেশ সুস্বাদু হালিম প্রস্তুত করা হয়। এখানকার খাসির হালিমের দাম পড়বে ২০০-৮০০ টাকা।

প্রিন্স সুইটস অ্যান্ড বেকারি তাদের ইফতারির পসরা সাজিয়েছে মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরে। তাদের হালিমেরও নামডাক আছে বেশ। তারা খাসি এবং মুরগির হালিম বিক্রি করছে। পাত্রভেদে দাম ২০০ থেকে ১০০০ টাকা। তবে হালিম অতি সুস্বাদু খাবার হলেও ক্রেতাদের অনেকেরই অভিযোগ বছরের অন্যন্য সময়ের চেয়ে রোজার সময় হালিমের দাম একটু বেশি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.