বয়স নয়, অপরাধ বিবেচনায় আদনানের রিমান্ড হোক

সংবাদ সম্মেলনে তাসফিয়ার বাবা

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন (১৬) হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পরও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার করতে পারেনি তাসফিয়ার খুনিদের।

ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে তাসফিয়াকে ঘর থেকে ডেকে বের করে আনে তার (তাসফিয়ার) কথিত প্রেমিক আদনান। তাকে গ্রেফতার করা হলেও বয়স বিবেচনায় এনে তার রিমান্ড দেননি আদালত।

ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারায় প্রকৃত তথ্য ও খুনিদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারছে না পুলিশও।

এদিকে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বয়স বিবেচনায় নয়, অপরাধ বিবেচনা করে আসামি আদনানকে রিমান্ড দেয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার মেয়ে তাসফিয়া আমিনকে কিছু চিহ্নিত নরপশু মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। প্রশাসন তাদেরকে গ্রেফতার করে রিমান্ড মঞ্জুর করার আবেদন জানায়।

বিজ্ঞ আদালত তাদের সংশোধনাগারে পাঠিয়েছে। কিন্তু আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একজন বাবা হিসেবে বলতে চাই- অপরাধীর বয়স নয়, অপরাধ বিবেচনা করে রিমান্ড মঞ্জুর করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের সুযোগ দিন।

কেননা বিগত দিনে এ রকম রিমান্ড মঞ্জুরের নজির আমাদের দেশে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার নির্ভর করছে ভিসেরা রিপোর্টের ওপর।

তাই এ রিপোর্ট যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন আছে কিনা বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

গত ২ মে নগরীর পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় চোখ, নাক-মুখ থেঁতলানো অবস্থায় তাসফিয়ার মরদেহ পায় পুলিশ। প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত না হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

তাসফিয়া কক্সবাজার জেলা সদরের ডেইলপাড়া এলাকার মো. আমিনের মেয়ে। চট্টগ্রাম নগরীর ও আর নিজাম রোডে তাদের বাসা। তাসফিয়া সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

এ ঘটনার পর বুধবার রাতে পুলিশ তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে গ্রেফতার করে। সে এখন গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাসফিয়ার চাচা রফিকুল ইসলাম, আমিনুল হক, তাসফিয়ার মামা শফিক আলী, ওয়াজির রহমান ও মাহমুদ হাসান।