মূর্তিমান আতঙ্ক জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান গ্রেফতারে স্বস্তি
jugantor
উপকূলে র‌্যাবের অভিযান
মূর্তিমান আতঙ্ক জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান গ্রেফতারে স্বস্তি

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেলেদের মূর্তিমান আতঙ্ক কবির বাহিনীর প্রধানসহ জলদস্যুদের গ্রেফতারে স্বস্তি ফিরেছে। শনিবার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান নুরুল কবির ও তার ১৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদের গ্রেফতারে সাধারণ জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নূরুল আবছার যুগান্তরকে বলেন, এ অভিযানের ফলে উপকূলের অন্য জলদস্যু বাহিনীর কাছেও বার্তা পৌঁছে গেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আর পার পাওয়া যাবে না। জলদস্যুদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপকূলীয় এলাকা থেকে গ্রেফতার অন্য জলদস্যুরা হলো-কবিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড মামুন, নুরুল আফসার, নুরুল কাদের, হাসান, আবদুল হামিদ, ইউসুফ, আবু বক্কর, গিয়াস উদ্দিন, শফিউল আলম মানিক, আবদুল খালেক, রুবেল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম জিকু, সুলতান আহম্মদ ও মনজুর আলম।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সাগর উপকূলে কবির বাহিনী রীতিমতো মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য ট্রলারে ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। উপকূলে একাধিক জলদস্যু বাহিনী থাকলেও কবির বাহিনীর সদস্যরা ছিল সবচেয়ে হিংস । ট্রলারের সব রসদ লুটে নেওয়া হতো। পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা না পেলে জেলেদের নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। গভীর সাগরে লাশও ফেলে দেওয়া হতো। র‌্যাব সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীরা কবির বাহিনীর এমন হিংস তার তথ্য দিয়েছেন।

রোববার সকালে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে একাধিক জেলে জানান, কবির বাহিনীর প্রধান কবিরের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। তবে তার থাবা নোয়াখালীর হাতিয়া ও বরগুনা পর্যন্ত বিস্তৃত। কবির বাহিনীর হিংস তায় উপকূলে মাছ শিকার করা জেলেদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ক্রমাগত জলদস্যুতা ও সম্পদহানির মুখে জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ১৭ জেলেকে নোয়াখালী উপকূল থেকে অপহরণ করে কবির বাহিনী। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করার পর ১৬ জনকে অপহরণের দু’দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবার থেকে ২২ হাজার টাকা মুক্তিপণ পাঠালেও আনোয়ার হোসেনকে নির্যাতনের পর অসুস্থ অবস্থায় গভীর সাগরে নিক্ষেপ করা হয়। এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপহরণের শিকার হয়ে ফিরে আসা জেলে শ্যামল দাস যুগান্তরকে জানান, সর্বশেষ জলদস্যু কবির বাহিনীর হাতে তারা ১৭ জেলে অপহৃত হন। অপহৃত হওয়ার পর বাধ্য হয়ে মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মুক্তিপণের টাকা দিয়ে তাদের আসতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রথমে দস্যুরা তাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর একে একে সবাইকে বেধড়ক পিটিয়ে নৌকার নিচে (ইঞ্জিনের কাছে) আটকে রাখে। এরপর মাছের ড্রাম, তেলসহ সব রসদ লুট করে। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান কবিরসহ ১৪ জন গ্রেফতার হওয়ায় জেলেদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। যারা মাছ ধরতে সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছিল না, তারা এখন যেতে চাইবে।

উপকূলে র‌্যাবের অভিযান

মূর্তিমান আতঙ্ক জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান গ্রেফতারে স্বস্তি

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেলেদের মূর্তিমান আতঙ্ক কবির বাহিনীর প্রধানসহ জলদস্যুদের গ্রেফতারে স্বস্তি ফিরেছে। শনিবার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান নুরুল কবির ও তার ১৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদের গ্রেফতারে সাধারণ জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নূরুল আবছার যুগান্তরকে বলেন, এ অভিযানের ফলে উপকূলের অন্য জলদস্যু বাহিনীর কাছেও বার্তা পৌঁছে গেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আর পার পাওয়া যাবে না। জলদস্যুদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপকূলীয় এলাকা থেকে গ্রেফতার অন্য জলদস্যুরা হলো-কবিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড মামুন, নুরুল আফসার, নুরুল কাদের, হাসান, আবদুল হামিদ, ইউসুফ, আবু বক্কর, গিয়াস উদ্দিন, শফিউল আলম মানিক, আবদুল খালেক, রুবেল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম জিকু, সুলতান আহম্মদ ও মনজুর আলম।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সাগর উপকূলে কবির বাহিনী রীতিমতো মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য ট্রলারে ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। উপকূলে একাধিক জলদস্যু বাহিনী থাকলেও কবির বাহিনীর সদস্যরা ছিল সবচেয়ে হিংস । ট্রলারের সব রসদ লুটে নেওয়া হতো। পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা না পেলে জেলেদের নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। গভীর সাগরে লাশও ফেলে দেওয়া হতো। র‌্যাব সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীরা কবির বাহিনীর এমন হিংস তার তথ্য দিয়েছেন।

রোববার সকালে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে একাধিক জেলে জানান, কবির বাহিনীর প্রধান কবিরের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। তবে তার থাবা নোয়াখালীর হাতিয়া ও বরগুনা পর্যন্ত বিস্তৃত। কবির বাহিনীর হিংস তায় উপকূলে মাছ শিকার করা জেলেদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ক্রমাগত জলদস্যুতা ও সম্পদহানির মুখে জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ১৭ জেলেকে নোয়াখালী উপকূল থেকে অপহরণ করে কবির বাহিনী। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করার পর ১৬ জনকে অপহরণের দু’দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবার থেকে ২২ হাজার টাকা মুক্তিপণ পাঠালেও আনোয়ার হোসেনকে নির্যাতনের পর অসুস্থ অবস্থায় গভীর সাগরে নিক্ষেপ করা হয়। এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপহরণের শিকার হয়ে ফিরে আসা জেলে শ্যামল দাস যুগান্তরকে জানান, সর্বশেষ জলদস্যু কবির বাহিনীর হাতে তারা ১৭ জেলে অপহৃত হন। অপহৃত হওয়ার পর বাধ্য হয়ে মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মুক্তিপণের টাকা দিয়ে তাদের আসতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রথমে দস্যুরা তাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর একে একে সবাইকে বেধড়ক পিটিয়ে নৌকার নিচে (ইঞ্জিনের কাছে) আটকে রাখে। এরপর মাছের ড্রাম, তেলসহ সব রসদ লুট করে। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান কবিরসহ ১৪ জন গ্রেফতার হওয়ায় জেলেদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। যারা মাছ ধরতে সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছিল না, তারা এখন যেতে চাইবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন