বাবা-মা হারানো মিষ্টি এখন মামার বাসায়
jugantor
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র
বাবা-মা হারানো মিষ্টি এখন মামার বাসায়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও নানাকে হারানো শিশু সাকিরা আক্তার মিষ্টিকে (৬) মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সে এখন চিটাগাং রোড এলাকায় বড় মামার বাসায় আছে। মামা-মামির কাছেই তাকে রাখা হবে। তবে মিষ্টি এখনো জানে না যে, তার বাবা-মা আর বেঁচে নেই। তাই মা-বাবার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে শিশুটি। বাবা-মাকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে।

মিষ্টির মামা নজরুল ইসলামের স্ত্রী সোনিয়া পারভীন যুগান্তরকে জানান, দুপুরে মিষ্টিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খাবার খাওয়ানোর পর মোবাইল দেখছে। তবে কিছুক্ষণ পরপরই জানতে চাচ্ছে, ওর বাবা-মা কোথায়। ওর বাবা-মা নানির কাছে হাসপাতালে আছে- এমন মিথ্যা বলে সান্ত্বনা দিচ্ছি।

তিনি জানান, তার শাশুড়ি (মিষ্টির নানি) ক্যানসার আক্রান্ত সাহিদা খাতুনকে সোমবার ক্যানসার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি তার ছোট ছেলের ডেমরার বাসায় আছেন। তাকেও জানতে দেওয়া হয়নি যে, তার স্বামী, মেয়ে ও মেয়ের জামাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সেন্ট মার্টিন পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে প্রাণ হারান মিষ্টির বাবা রিয়াজ খান (৪০), মা শারমিন আক্তার (৩২) ও নানা আবদুর রহমান ব্যাপারী (৬০)। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ছোট্ট মিষ্টি। দুর্ঘটনায় আহত হন সিএনজি চালক রফিকুল ইসলামও।

মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নানি শাহেদা বেগমকে দেখতে গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের আগৈলঝাড়া থেকে শুক্রবার মা-বাবা আর নানার সঙ্গে লঞ্চে করে ঢাকায় আসে মিষ্টি। ভোরে সদরঘাটে নেমে সিএনজিযোগে ছোট মামা তানভীর আহমেদের বাসায় যাওয়ার পথে মাতুয়াইলে দুর্ঘটনার শিকার হয় তারা। সেদিন একই অটোরিকশায় জায়গা না হওয়ায় মিষ্টিদের তুলে দিয়ে বড় মামা নজরুল ইসলাম একটি বাসে ওঠেন। এতে দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান তিনি।

দুর্ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা হয়। রাজধানীর আরামবাগ থেকে কক্সবাজার লাইনে চলাচলকারী ঘাতক সেন্টমার্টিন পরিবহণের বাসটি জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

নানিকে দেখতে মিষ্টির বড়ভাই শাহরিয়ার খান ওরফে ফাহিম (১১) কয়েকদিন আগেই বেড়াতে এসেছিল ছোট মামার বাসায়। মা-বাবা আর নানার লাশ দাফনের পর থেকে গ্রামেই আছে ভবানীপুরের একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম।

দুর্ঘটনার সময় মিষ্টি মাথায় আঘাত পায় এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। ভাঙা হাড় মাসছয়েকের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র

বাবা-মা হারানো মিষ্টি এখন মামার বাসায়

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও নানাকে হারানো শিশু সাকিরা আক্তার মিষ্টিকে (৬) মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সে এখন চিটাগাং রোড এলাকায় বড় মামার বাসায় আছে। মামা-মামির কাছেই তাকে রাখা হবে। তবে মিষ্টি এখনো জানে না যে, তার বাবা-মা আর বেঁচে নেই। তাই মা-বাবার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে শিশুটি। বাবা-মাকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে।

মিষ্টির মামা নজরুল ইসলামের স্ত্রী সোনিয়া পারভীন যুগান্তরকে জানান, দুপুরে মিষ্টিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খাবার খাওয়ানোর পর মোবাইল দেখছে। তবে কিছুক্ষণ পরপরই জানতে চাচ্ছে, ওর বাবা-মা কোথায়। ওর বাবা-মা নানির কাছে হাসপাতালে আছে- এমন মিথ্যা বলে সান্ত্বনা দিচ্ছি।

তিনি জানান, তার শাশুড়ি (মিষ্টির নানি) ক্যানসার আক্রান্ত সাহিদা খাতুনকে সোমবার ক্যানসার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি তার ছোট ছেলের ডেমরার বাসায় আছেন। তাকেও জানতে দেওয়া হয়নি যে, তার স্বামী, মেয়ে ও মেয়ের জামাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সেন্ট মার্টিন পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে প্রাণ হারান মিষ্টির বাবা রিয়াজ খান (৪০), মা শারমিন আক্তার (৩২) ও নানা আবদুর রহমান ব্যাপারী (৬০)। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ছোট্ট মিষ্টি। দুর্ঘটনায় আহত হন সিএনজি চালক রফিকুল ইসলামও।

মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নানি শাহেদা বেগমকে দেখতে গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের আগৈলঝাড়া থেকে শুক্রবার মা-বাবা আর নানার সঙ্গে লঞ্চে করে ঢাকায় আসে মিষ্টি। ভোরে সদরঘাটে নেমে সিএনজিযোগে ছোট মামা তানভীর আহমেদের বাসায় যাওয়ার পথে মাতুয়াইলে দুর্ঘটনার শিকার হয় তারা। সেদিন একই অটোরিকশায় জায়গা না হওয়ায় মিষ্টিদের তুলে দিয়ে বড় মামা নজরুল ইসলাম একটি বাসে ওঠেন। এতে দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান তিনি।

দুর্ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা হয়। রাজধানীর আরামবাগ থেকে কক্সবাজার লাইনে চলাচলকারী ঘাতক সেন্টমার্টিন পরিবহণের বাসটি জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

নানিকে দেখতে মিষ্টির বড়ভাই শাহরিয়ার খান ওরফে ফাহিম (১১) কয়েকদিন আগেই বেড়াতে এসেছিল ছোট মামার বাসায়। মা-বাবা আর নানার লাশ দাফনের পর থেকে গ্রামেই আছে ভবানীপুরের একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম।

দুর্ঘটনার সময় মিষ্টি মাথায় আঘাত পায় এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। ভাঙা হাড় মাসছয়েকের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন