ইসি আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না: মির্জা ফখরুল
jugantor
ইসি আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই আইন আমরা মানি না। এটি শুধু আমাদের কাছে নয়, দেশের মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়, গ্রহণীয় হতে পারে না। আর যে আইন মানুষ গ্রহণ করে না, সেটি কোনো আইনই নয়। এটাকে কেউ মানবেই না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে ‘বাকশাল: গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ পালনে এই সভা হয়।

এদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আলোচিত এই বিলটি সংসদে পাশের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। রাস্ট্রপতি সই করার পর গেজেট আকারে প্রকাশ হলেই প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন পাবে বাংলাদেশ।

সংসদে ‘তড়িঘড়ি’ করে আইন পাশ করা হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাকশাল গঠিত হয়েছিল সংসদে মাত্র ১১ মিনিটে। আর নির্বাচন কমিশন আইন ১৭ তারিখে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে। ২৩ তারিখে পার্লামেন্টে দেওয়া হয়েছে। তারপরে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে সংসদীয় কমিটিকে সংযোজন বা পরিবর্তন কিছু থাকলে তা নিয়ে এসে আবার সেটা হাউজে উপস্থাপন করতে। চব্বিশ ঘণ্টাও যায়নি। এর মধ্যে তারা এটা হাউজে নিয়ে এসে পাশ করল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সেদিনও বাকশাল করেছিল নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টায়। আজও তারা একটা নির্বাচন কমিশন আইন তৈরি করলেন, ভেবেছেন যে বেঁচে যাবেন। কিন্তু তারা ভুলে গেলেন, বাকশাল করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই নির্বাচন কমিশন আইন করেও তাদের শেষ রক্ষা হবে না।

ফখরুল বলেন, এই ব্যাপারে আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, এই আইন পাশ করার কোনো এখতিয়ার এই সংসদের নেই। কারণ এই সংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোনো সংসদ নয়।

নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা আরেকবার বাকশালে ঢুকতে চাই না। আমরা বলেছি, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তারা সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তাদের পরিচালনায় সেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে। আমরা কয়েক দিন আগে স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করে রেজুলশন দিয়েছি। আমরা দাবি করছি, এই বিষয়টার সুষ্ঠু তদন্ত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক। জমির দাম ২০ গুণ বাড়িয়ে ৩৬৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। চরম অনিয়ম হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ অলরেডি রাজপথে নেমে গেছে। জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে। আন্দোলনের তোড়ে এই সরকার ভেসে যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে দেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও সরকারের দিক থেকে বলা হয়, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিএনপিকে লবিস্ট নিয়োগ করার দরকার নেই। দেশের ১৬-১৭ কোটি মানুষই তো লবিস্ট। যারা খুন, গুম হচ্ছে, তাদের মায়ের কান্না-চিৎকার বিশ্ববাসীর কানে যায় না? যায়। বিদেশিরা দেশের মানবাধিকার অবস্থা দেখতে আসতে চায়; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আসতে দিতে চায় না। এতে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশে এসব ঘটনা ঘটছে।

মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, মীর নেওয়াজ আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

ইসি আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই আইন আমরা মানি না। এটি শুধু আমাদের কাছে নয়, দেশের মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়, গ্রহণীয় হতে পারে না। আর যে আইন মানুষ গ্রহণ করে না, সেটি কোনো আইনই নয়। এটাকে কেউ মানবেই না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে ‘বাকশাল: গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ পালনে এই সভা হয়।

এদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আলোচিত এই বিলটি সংসদে পাশের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। রাস্ট্রপতি সই করার পর গেজেট আকারে প্রকাশ হলেই প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন পাবে বাংলাদেশ।

সংসদে ‘তড়িঘড়ি’ করে আইন পাশ করা হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাকশাল গঠিত হয়েছিল সংসদে মাত্র ১১ মিনিটে। আর নির্বাচন কমিশন আইন ১৭ তারিখে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে। ২৩ তারিখে পার্লামেন্টে দেওয়া হয়েছে। তারপরে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে সংসদীয় কমিটিকে সংযোজন বা পরিবর্তন কিছু থাকলে তা নিয়ে এসে আবার সেটা হাউজে উপস্থাপন করতে। চব্বিশ ঘণ্টাও যায়নি। এর মধ্যে তারা এটা হাউজে নিয়ে এসে পাশ করল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সেদিনও বাকশাল করেছিল নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টায়। আজও তারা একটা নির্বাচন কমিশন আইন তৈরি করলেন, ভেবেছেন যে বেঁচে যাবেন। কিন্তু তারা ভুলে গেলেন, বাকশাল করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই নির্বাচন কমিশন আইন করেও তাদের শেষ রক্ষা হবে না।

ফখরুল বলেন, এই ব্যাপারে আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, এই আইন পাশ করার কোনো এখতিয়ার এই সংসদের নেই। কারণ এই সংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোনো সংসদ নয়।

নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা আরেকবার বাকশালে ঢুকতে চাই না। আমরা বলেছি, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তারা সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তাদের পরিচালনায় সেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে। আমরা কয়েক দিন আগে স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করে রেজুলশন দিয়েছি। আমরা দাবি করছি, এই বিষয়টার সুষ্ঠু তদন্ত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক। জমির দাম ২০ গুণ বাড়িয়ে ৩৬৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। চরম অনিয়ম হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ অলরেডি রাজপথে নেমে গেছে। জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে। আন্দোলনের তোড়ে এই সরকার ভেসে যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে দেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও সরকারের দিক থেকে বলা হয়, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিএনপিকে লবিস্ট নিয়োগ করার দরকার নেই। দেশের ১৬-১৭ কোটি মানুষই তো লবিস্ট। যারা খুন, গুম হচ্ছে, তাদের মায়ের কান্না-চিৎকার বিশ্ববাসীর কানে যায় না? যায়। বিদেশিরা দেশের মানবাধিকার অবস্থা দেখতে আসতে চায়; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আসতে দিতে চায় না। এতে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশে এসব ঘটনা ঘটছে।

মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, মীর নেওয়াজ আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন