ঈদবাজার

রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় কাপড় বিক্রির ধুম

হাটবার বিক্রি কয়েক শতাধিক কোটি টাকা

  এ হাই মিলন, রূপগঞ্জ (না’গঞ্জ) ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া মার্কেট। ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে গাউছিয়া পাইকারি কাপড়ের বাজার। সাড়ে ছয় হাজার দোকান নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বিশাল এ বাজার। এর মধ্যে দেড় হাজার দোকান এখনও নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে এ দোকানগুলোর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার দোকানেই পাইকারি দরে কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে। সোম ও মঙ্গলবার ‘হাটবার’। এ দু’দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাট বসে। হাটবার বিক্রি প্রায় কয়েক শতাধিক কোটি টাকা। হাটের দু’দিন বাদেও পুরো সপ্তাহজুড়ে বেশ কিছু পাইকারি দোকান ও খুচরা দোকানগুলো খোলা থাকে। এখানে কাপড় কিনতে ভিড় করে দেশের জেলা-উপজেলা থেকে আসা বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তিনতলাবিশিষ্ট গাছিয়া মার্কেট-১ ও গাউছিয়া মার্কেট-২ এর প্রথম তলায় রয়েছে শাড়ি, কাপড়, থান কাপড়, বোরকা, লুঙ্গিসহ ইত্যাদি পাইকারি ও খুচরা দোকানের বিশাল সমাহার। আর দ্বিতীয় তলায় রয়েছে থ্রি-পিসসহ পাঞ্জাবির পাইকারি ও খুচরা দোকান। তৃতীয় তলায় রয়েছে ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল, টেইলার্স, জুয়েলারি, কসমেটিকস ইত্যাদি। ঈদ সামনে রেখে গাউছিয়া মার্কেটের পাইকারি দোকানগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে থান কাপড়, থ্রি-পিস, বাটিক কাপড় ও শাড়ি কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সামনে ঈদ তাই দোকানিদের যেন নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। আগামী সপ্তাহ থেকে খুচরা বিক্রেতাদের বেচাকেনাও জমে উঠবে। ঈদ ঘিরে বেড়েছে গাউছিয়া মার্কেটের সামনে ফুটপাতের বিক্রিও। বিশেষ করে জাকাতের জন্য শাড়ি ও লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ধুমছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে গাউছিয়া কাপড়ের বাজারের আশপাশে বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছেন ব্যবসায়ীরা।

রমণী ফ্যাশনের মালিক সোলাইমান জানান, তিনি তার দোকানে সব ধরনের দেশীয় থ্রিপিস পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। সপ্তাহে সোম ও মঙ্গলবার এ দু’দিন গাউছিয়া বাজারে বসে পাইকারি কাপড় বিক্রির পসরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রির পরিমাণ অনেক বেশি। পাইকারিভাবে থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে বেশি। তবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের মালামাল আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। ভুলতা ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে এখন আর গাড়িগুলোকে রাস্তার পাশে রাখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মার্কেটের বণিক সমিতিকে জানানো হলেও কোনো সুফল পায়নি তারা।

খুচরা ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, যানজট ও গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা বেচাকেনা বাড়বে। ভৈরব এলাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী স্বপ্না বেগম জানান, তিনি ভৈরবের বায়জিদপুর এলাকা থেকে পাইকারি থ্রি-পিস কাপড় কিনতে এসেছেন। সংসারে বাড়তি আয়ের জোগান দিতে তিনি বাড়িতেই থ্রি-পিস ও কাপড়ের দোকান দিয়েছেন। তিনি সপ্তাহে ১-২ বার পাইকারিভাবে থ্রি-পিস কিনে নিয়ে খুচরা বিক্রি করেন। টাঙ্গাইলের মহিলা খুচরা ব্যবসায়ী তসলিমা বেগম জানান, তিনি এ বাজার থেকে শাড়ি, কাপড়, থান কাপড় কিনে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। আট বছর আগে তিনি মাত্র ৩০০০ টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন তার ব্যবসায়ের মূলধনের পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকা। ব্যবসায়ী রিপন হাসান খান জানান, তার কাঁচপুরে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। তিনি গাউছিয়া কাপড়ের বাজার থেকে শাড়ি, কাপড়, থান কাপড় ইত্যাদি পাইকারি কিনে নিয়ে খুচরা বিক্রি করেন।

বণিক সমিতির সভাপতি হাজী আবদুল মালেক জানান, ফুটপাত দখল ও যানজটের কারণে মার্কেটের বেচাকেনা অনেকাংশে কমে গেছে। গাউছিয়া কাপড়ের বাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া জানান, মানুষের কর্মসংস্থানের দিক ভেবে গাউছিয়া বাজার দিন দিন আরও বাড়ানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.