বরিশালে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ঘাঁটি ছাত্রাবাস

আত্মগোপনে শতাধিক * ছাত্র নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক * পুলিশের কাছে তথ্য নেই

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তন্ময় তপু, বরিশাল ব্যুরো

মাদকবিরোধী অভিযান থেকে রেহাই পেতে বরিশালের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী লুকিয়ে রয়েছে। ছাত্র নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তারা সেখানে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে এবং বেশ আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। তবে এ তথ্য পুলিশের জানা নেই।

বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হওয়ার পর ‘মৃত্যু আতঙ্কে’ মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থান হিসেবে ছাত্রাবাসগুলোয় ঠাঁই নিয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হল, জীবনানন্দ দাশ হল ও অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ১ নম্বর ও ২ নম্বর ছাত্রাবাস এবং ইন্টার্ন ডক্টস কোয়ার্টার, সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শহীদ আলাউদ্দিন ছাত্রাবাস, সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রধান ছাত্রাবাস এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রাবাসে চিহ্নিত শতাধিক খুচরা ও পাইকারি মাদক বিক্রেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কলেজের ছাত্র নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় কয়েক দিন ধরে তারা সেখানে বাস করছে।

সরকারি বিএম কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হলের একাধিক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হলের দ্বিতীয় তলার বেশ কয়েকটি রুমে বিএম কলেজ, নথুল্লাবাদ, কাউনিয়া ও নতুনবাজার এলাকার প্রায় ১৬ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।

খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সবই তারা এখানে বসেই করছে। যদিও ছাত্ররা প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি। জীবনানন্দ দাশ হল ও অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের ছাত্ররা জানান, কলেজের কয়েকজন ছাত্র নেতার সঙ্গে এই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ক থাকায় তারা ৫-৬ দিন ধরে রয়েছে। এখানে ২০ জনের মতো মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।

অপর দিকে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ১ নম্বর ও ২ নম্বর ছাত্রাবাসে এবং ইন্টার্ন ডক্টর্স কোয়ার্টারে লুকিয়ে আছে আলেকান্দা, বাংলাবাজার ও বান্দ রোড এলাকার ৩৫ জন মাদক ব্যবসায়ী।

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক যুগান্তরকে বলেন, মেডিকেল কলেজের ১ নম্বর ও ২ নম্বর ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বেশ কয়েকটি কক্ষে মাদক ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন ধরে রয়েছে। এই নিয়ে কলেজের মধ্যেও কানাঘুষা চলছে।

এ ছাড়া ইন্টার্ন ডক্টর্স কোয়ার্টারের কয়েকটি ফাঁকা রুমে ছাত্র নেতাদের সুপারিশে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা থাকছে। অভিযোগ, এখানে বসেই অনেকে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। হল বা ছাত্রাবাসে পুলিশ সহজে অভিযান না চালানোয় এসব জায়গাতে এখন ঘাঁটি গেরে বসেছে মাদক বিক্রেতারা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বাইরে থেকে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী দুটি হোস্টেলে রয়েছে। একই অবস্থা বরিশাল সরকারি বরিশাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রধান ছাত্রাবাস ও সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শহীদ আলাউদ্দিন ছাত্রাবাসে।

অভিযোগ, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান ঘিরেই তারা মাদক ব্যবসা চালাত। এ ছাড়া ছাত্রাবাসগুলোতে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এ ধরনের কোনো তথ্য বা অভিযোগ তাদের কাছে নেই। এমন কোনো অভিযোগ বা তথ্য পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। কোনোভাবেই তাদের রেহাই দেয়া হবে না। যেখানেই আশ্রয় নেবে সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে অভিযান চালানো একটু সমস্যা। তবুও আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

যদি মাদক ব্যবসায়ীরা সেখানে আশ্রয় নিয়ে থাকে অবশ্যই অভিযান চালানো এবং তাদের গ্রেফতার করা হবে। মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য একাধিক টিম নগরীতে কাজ করছে।