বগুড়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন দিতে জজকে পিপিদের চাপ

  বগুড়া ব্যুরো ২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন দিতে জজকে পিপিদের চাপ

বগুড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন নিয়ে সরকারি কৌঁসুলিরা (অতিরিক্ত পিপি, পিপি ও এপিপি) প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন দিতে জেলা জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর তারা চাপ সৃষ্টি করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পিপিদের চাপের মুখে বিব্রত হয়ে এজলাস ত্যাগ করেন জেলা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার। এ নিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, জেলায় সাত দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪১টি মামলায় ১৯০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ হাজার ৭৬১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৩০ বোতল ফেনসিডিল, ৩১ গ্রাম হেরোইন, ২২ কেজি গাঁজা এবং ১৫০ অ্যাম্পুল নেশার ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালরা আত্মগোপন করলেও তারা ঘনঘন স্থান ও কৌশল পরিবর্তন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযানে ছিঁচকে ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও মাদক সম্রাট-সম্রাজ্ঞীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী হাজি শাহীন ও মো. নয়নকে হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন নিয়ে অতিরিক্ত পিপি, এপিপি ও কয়েকজন আইনজীবী রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

তাদের সঙ্গে অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত বিএনপি সমর্থিত একজন আইনজীবীসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। মক্কেলদের জামিন দিতে তারা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পিপি লুৎফে গালিব আল জাহিদ, এপিপি সামসুর রহমান, রফিকুল ইসলাম (২), আরিফুর রহমান দুখু, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নাফ, বিএনপি সমর্থিত অ্যাডভোকেট ফজলু মুন্সী, হযরত বেলাল প্রমুখ জেলা জজ আদালতে হট্টগোল করেন।

জামিন না দেয়ায় তারা জেলা জজ নরেশ চন্দ্র সরকারকে বদলির হুমকিও দেন। এ সময় বিব্রত হয়ে তিনি এজলাস ত্যাগ করেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জি বলেন, এসবের নেপথ্যে সরকারি দায়িত্বশীল এক কৌঁসুলি রয়েছেন। ওই ব্যক্তি অন্যদের উস্কে দিচ্ছেন।

অভিযুক্ত অতিরিক্ত পিপি লুৎফে গালিব আল জাহিদ জানান, তারা কয়েকজন সুষ্ঠুভাবে আদালত চলার ব্যাপারে জজের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কাউকে জামিন দেয়ার ব্যাপারে তারা জজকে কোনো চাপ দেননি।

পিপি আবদুল মতিন জানান, তিনি শুনেছেন উল্লিখিত আইনজীবীরা মাদক ব্যবসায়ী মক্কেলদের জামিনের ব্যাপারে জজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেছেন। সে সময় জজ এজলাস থেকে ওঠে গেছেন। পিপি মতিন আরও জানান, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি ঠিক করে নেয়া হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.