ঢাকার শতাধিক বস্তিতে মাদকের কারবার

ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে সতর্ক অপরাধীরা

প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

গত ২৭ মে কড়াইল বস্তিতে মাদক বিরোধী অভিযানের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে র‌্যাব-পুলিশের অভিযান চলায় মাদক ব্যবসায়ীরা এখন অনেকটাই সতর্ক। তবে থেমে নেই মাদকের কারবার। ঢাকার শতাধিক বস্তিতে এখনও চলছে মাদকের কারবার।

এসব বস্তিতে হরদম বিক্রি হচ্ছে মাদক। তবে খুবই সতর্কতার সঙ্গে চলে ব্যবসা। অপরিচিত কারও কাছে মাদক বিক্রি করেন না ব্যবসায়ীরা। সোমবার ও মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি ঘুরে জানা গেছে এসব তথ্য।

সোমবার রাতে মগবাজারের ওয়্যারলেস রেলগেট বস্তিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযানের মধ্যে খুবই সতর্কতার সঙ্গে বিক্রি হয় মাদক। ওই বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক আবদুর রহমান।

তিনি বলেন, পুলিশের ভয়ে এখন আর রাতে মাদক বিক্রি করে না। তিনি বলেন, রোজার আগেও এখানে ওপেন বিক্রি হতো গাঁজা আর ইয়াবা। এখন পুলিশের ভয়ে থাকে মাদক ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে রমনা থানার নয়াটোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অভিযানের কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে। এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার ভাসানটেক বস্তি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানকার ১০টিরও বেশি স্পটে এখনও মাদক বিক্রি হচ্ছে।

ভাসানটেক বস্তির বড় একটি অংশের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহিমের সেকেন্ড ইন কমান্ড হাফিজুল ইসলাম বাবু, সাব্বির দেওয়ান জনি, বাবলু, রূপচান ও আজাদ।

তাদের মধ্যে হাফিজুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে পল্লবী, মিরপুর, কাফরুল ও ভাসানটেক থানায় ২৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও সাব্বির দেওয়ান জনির বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে তারা পালিয়ে বেড়ালেও সিন্ডিকেট সদস্যদের দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভাসানটেক বস্তির এক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, এরা এলাকায় দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী এ এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা।

এ ব্যাপারে ভাসানটেক থানার ওসি মুন্সি ছাব্বির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, রোজার শুরু থেকেই নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা আগের চেয়ে কমে আসছে। তিনি বলেন, গতকালও ৬ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুধু এ দুটি বস্তিই নয়, অন্যান্য বস্তি ঘুরেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। বস্তিগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতেই চলে মাদক ব্যবসা। আগে খোলামেলাভাবে মাদক বিক্রি হলেও এখন শুরু হয়েছে রাখ-ঢাক।

পুলিশের দাবি, মাদক নির্মূল করতে এসব বস্তিতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, বনানীর কড়াইল বস্তি, তেজগাঁওয়ের রেললাইন বস্তি, কমলাপুরের টিটিপাড়া বস্তি, হাজারীবাগের গণকটুলি বস্তি, যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটিপল্লী, শাহআলী থানাধীন ঝিলপাড় বস্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩ শতাধিক লোককে আটক করে র‌্যাব ও পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, মাদকপ্রবণ বস্তিগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে। মাদক নির্মূল হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকার ১০৭টি বস্তির তালিকা করে। এর মধ্যে ৩৫টি বস্তি অধিকতর সন্ত্রাস এবং মাদকপ্রবণ। অন্য ৭২টি বস্তিও মাদকপ্রবণ।

উল্লেখযোগ্য বস্তিগুলো হল- আনন্দবাজার বস্তি, নিমতলী বস্তি, মহাখালীর সাততলা বস্তি, কড়াইল বস্তি, মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট বস্তি, পেয়ারাবাগ বস্তি, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তি, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প বস্তি, জজ মিয়ার বস্তি, আগারগাঁওয়ের কুমিল্লা বস্তি, টাউন হলের কাঁচাবাজার সংলগ্ন সুইপার কলোনি, রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ বস্তি, তেজগাঁওয়ের রেললাইন বস্তি, হাজারীবাগের গণকটুলি বস্তি, মিরপুরের ঝিলপাড় বস্তি, কালশীর মিল্লাত বস্তি, বেনারসি বস্তি, কালাপানি বস্তি, ১২ নাম্বার পানির ট্যাংকি বস্তি, কুর্মিটোলা বস্তি, ঝিলপাড় মোল্লার বস্তি, ভোলার বস্তি, পল্লবীর শাহ পরান বস্তি, সূত্রাপুরের রেললাইন সামাপাড়া বস্তি, যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটিপল্লী, সায়েদাবাদের ওয়াসা বস্তি, নবুর বস্তি, নোয়াখালী পট্টি, সোনা মিয়ারটেক বস্তি, বালুর মাঠ বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, ১ নাম্বার পোড়া বস্তি, শ্যামপুর বড়ইতলা নতুন রাস্তার মাথা বস্তি, কলাপট্টি বস্তি ও গেন্ডারিয়া রেলক্রসিং বস্তি।