পটিয়ায় এলাকাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী বাড়ি যাননি ঈদেও
jugantor
পটিয়ায় এলাকাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী বাড়ি যাননি ঈদেও

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে এলাকাছাড়া হয়েছেন এক প্রার্থী। ‘কারচুপির মাধ্যমে’ হারানোর পর তাকে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গত ঈদেও তিনি পরিবার নিয়ে বাড়িতে যেতে পারেননি। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মোহাম্মদ কাইছ। তিনি এজন্য বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে দায়ী করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বলছেন, বিত্তশালী হওয়ায় টাকাপয়সা দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তার ও তার পরিবারের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাচ্ছেন কাশেম চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে তার বাড়িঘরে আগুন দেওয়া থেকে শুরু করে দোকানপাটে লুটপাট করেছেন কাশেম চেয়ারম্যানের লোকজন। তিনি এসব হয়রানি থেকে রেহাই পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ কাইছ বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে কাশিয়াইশ ইউনিয়নে নির্বাচন করেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আবুল কাশেম। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণেই কাশেম চেয়ারম্যানের প্রধান শত্রুতে পরিণত হন কাইছ। একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা কাশেম চেয়ারম্যান রাতারাতি আওয়ামী লীগ বনে যান টাকার জোরে। নির্বাচনে মোট ভোটারের অতিরিক্ত ১৬ শতাংশ ভোট কাস্ট দেখিয়ে তাকে (কাইছ) ৯৯ ভোটে হারানো হয়। নির্বাচন করার কারণে ভোটের পরেই তাকে এলাকাছাড়া করা হয়।

কাইছের অভিযোগ, ২২ এপ্রিল রাতে পটিয়ার নিজ গ্রামে চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই সোহেল খুন হন। নির্বাচনে কাইছের পক্ষে কাজ করায় শরীফ নামে এলাকার এক তরুণকে চেয়ারম্যান ও তার বডিগার্ড মিলে মারধর করে। আহত অবস্থায় শরীফকে তার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার পথরোধ করে আবারও হামলা করা হয়। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই সোহেল এ হামলায় নেতৃত্ব দেন। এ সময় পালটা হামলায় সোহেল নিহত হন। তখন তিনি (কাইছ) ছিলেন চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসায়। এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পালটাপালটি হামলার বিষয়ে তিনি রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা এসপি ও পটিয়া থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে অবগত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে পুলিশ সোহেলের হত্যাকারী শরীফসহ জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করে। কিন্তু পরে দেখতে পান সোহেল হত্যা মামলায় তাকেই প্রধান আসামি করে এজাহার দাখিল করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তার (কাইছের) ছুরিকাঘাতেই খুন হয় সোহেল।

কাইছ অভিযোগ করেন, মূলত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণেই কাশেম চেয়ারম্যান প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এ কারণে তিনি গত ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়িতেও যেতে পারেননি। কাশেম চেয়ারম্যানের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে তারা বাঁচতে চান। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পটিয়ায় এলাকাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী বাড়ি যাননি ঈদেও

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে এলাকাছাড়া হয়েছেন এক প্রার্থী। ‘কারচুপির মাধ্যমে’ হারানোর পর তাকে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গত ঈদেও তিনি পরিবার নিয়ে বাড়িতে যেতে পারেননি। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মোহাম্মদ কাইছ। তিনি এজন্য বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে দায়ী করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বলছেন, বিত্তশালী হওয়ায় টাকাপয়সা দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তার ও তার পরিবারের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাচ্ছেন কাশেম চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে তার বাড়িঘরে আগুন দেওয়া থেকে শুরু করে দোকানপাটে লুটপাট করেছেন কাশেম চেয়ারম্যানের লোকজন। তিনি এসব হয়রানি থেকে রেহাই পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ কাইছ বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে কাশিয়াইশ ইউনিয়নে নির্বাচন করেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আবুল কাশেম। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণেই কাশেম চেয়ারম্যানের প্রধান শত্রুতে পরিণত হন কাইছ। একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা কাশেম চেয়ারম্যান রাতারাতি আওয়ামী লীগ বনে যান টাকার জোরে। নির্বাচনে মোট ভোটারের অতিরিক্ত ১৬ শতাংশ ভোট কাস্ট দেখিয়ে তাকে (কাইছ) ৯৯ ভোটে হারানো হয়। নির্বাচন করার কারণে ভোটের পরেই তাকে এলাকাছাড়া করা হয়।

কাইছের অভিযোগ, ২২ এপ্রিল রাতে পটিয়ার নিজ গ্রামে চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই সোহেল খুন হন। নির্বাচনে কাইছের পক্ষে কাজ করায় শরীফ নামে এলাকার এক তরুণকে চেয়ারম্যান ও তার বডিগার্ড মিলে মারধর করে। আহত অবস্থায় শরীফকে তার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার পথরোধ করে আবারও হামলা করা হয়। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই সোহেল এ হামলায় নেতৃত্ব দেন। এ সময় পালটা হামলায় সোহেল নিহত হন। তখন তিনি (কাইছ) ছিলেন চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসায়। এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পালটাপালটি হামলার বিষয়ে তিনি রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা এসপি ও পটিয়া থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে অবগত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে পুলিশ সোহেলের হত্যাকারী শরীফসহ জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করে। কিন্তু পরে দেখতে পান সোহেল হত্যা মামলায় তাকেই প্রধান আসামি করে এজাহার দাখিল করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তার (কাইছের) ছুরিকাঘাতেই খুন হয় সোহেল।

কাইছ অভিযোগ করেন, মূলত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণেই কাশেম চেয়ারম্যান প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এ কারণে তিনি গত ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়িতেও যেতে পারেননি। কাশেম চেয়ারম্যানের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে তারা বাঁচতে চান। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন