জলাশয় দখল করে বালুমহাল
jugantor
মীরসরাই
জলাশয় দখল করে বালুমহাল
চাঁদা দিতে না পারায় উৎখাত হয়েছেন চাষিরা * ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা তদন্ত করছে পিবিআই

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোনের পাশে সাগর উপকূলে বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি তথা জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বালুমহাল গড়ে তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লেবার ফেডারেশনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম তদন্ত করছে। অভিযোগে জানা গেছে, লেবার ফেডারেশন নামে একটি সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় কৃষক শ্রমিক ও দরিদ্র চাষিরা মিলে এই জায়গায় ২০ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু চক্রের নজর পড়ে এই জমিতে। সরকারি এই জায়গায় চাষাবাদের বিপরীতে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না পারায় স্থানীয় চাষিদের এই জায়গা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। জোরপূর্বক ওই জায়গা দখল করে সেখানে বালু ফেলে তা দখল করে নেয় ভূমিদস্যুরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, চাষের জমিটি কেড়ে নেওয়ায় স্থানীয় চাষিরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। আগে এই জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কয়েকশ অসহায় ও দরিদ্র পরিবার। ৬ মাস ধরে তারা ওই জায়গায় আর যেতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে আর্থিক কষ্টে দিন পার করছেন পরিবারগুলো। মাছ চাষের জমি জোরপূর্বক অবৈধ দখল করে বালুমহাল গড়ে তোলার অভিযোগে যাদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন আরিফুল ইসলাম, আফরান শাকিল, নোবেল, মুসলিম উদ্দিন, আরাফাত ও বাদশা। এ ছাড়া আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার বাদী ও লেবার ফেডারেশনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের অভিযোগ, মিরসরাই উপজেলার জোরাগঞ্জ থানার উত্তর ইছাখালী সাগর উপকূলে বনবিভাগের বিপুল পরিমাণ জায়গা ছিল। ওই জায়গায় স্থানীয়দের অনেকে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার সময় এই জায়গার বড় অংশ ইকোনমিক জোনের আওতায় চলে যায়। বেড়িবাঁধের বাইরে যে জায়গা রয়েছে সেটিতে তারা মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছিলেন। পাশাপাশি এই জমি চাষিদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। এই আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্রের কুনজর পড়ে এই জায়গার ওপর। তারা চাষিদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় ওই জায়গায় বালু ফেলে রাতারাতি দখল করে নেয় তারা। লেবার ফেডারেশন ইকোনমিক জোন শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন মফিজ শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, মাছ চাষের জমি দখল করে যারা বালুমহাল গড়ে তুলেছে তাদের রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। সরকারি জমিতে বালুমহাল গড়ে তুলে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছে। এই টাকায় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষের অসাধু লোকজনকে ম্যানেজ করছে। একইভাবে স্থানীয় চাষিদের সেখান থেকে উৎখাত করেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে জায়গাটি যাতে স্থানীয় কৃষক শ্রমিক ও অসহায়দের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারা আবার মাছ চাষ করে যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করে।

মীরসরাই

জলাশয় দখল করে বালুমহাল

চাঁদা দিতে না পারায় উৎখাত হয়েছেন চাষিরা * ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা তদন্ত করছে পিবিআই
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোনের পাশে সাগর উপকূলে বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি তথা জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বালুমহাল গড়ে তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লেবার ফেডারেশনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম তদন্ত করছে। অভিযোগে জানা গেছে, লেবার ফেডারেশন নামে একটি সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় কৃষক শ্রমিক ও দরিদ্র চাষিরা মিলে এই জায়গায় ২০ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু চক্রের নজর পড়ে এই জমিতে। সরকারি এই জায়গায় চাষাবাদের বিপরীতে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না পারায় স্থানীয় চাষিদের এই জায়গা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। জোরপূর্বক ওই জায়গা দখল করে সেখানে বালু ফেলে তা দখল করে নেয় ভূমিদস্যুরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, চাষের জমিটি কেড়ে নেওয়ায় স্থানীয় চাষিরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। আগে এই জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কয়েকশ অসহায় ও দরিদ্র পরিবার। ৬ মাস ধরে তারা ওই জায়গায় আর যেতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে আর্থিক কষ্টে দিন পার করছেন পরিবারগুলো। মাছ চাষের জমি জোরপূর্বক অবৈধ দখল করে বালুমহাল গড়ে তোলার অভিযোগে যাদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন আরিফুল ইসলাম, আফরান শাকিল, নোবেল, মুসলিম উদ্দিন, আরাফাত ও বাদশা। এ ছাড়া আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার বাদী ও লেবার ফেডারেশনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের অভিযোগ, মিরসরাই উপজেলার জোরাগঞ্জ থানার উত্তর ইছাখালী সাগর উপকূলে বনবিভাগের বিপুল পরিমাণ জায়গা ছিল। ওই জায়গায় স্থানীয়দের অনেকে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার সময় এই জায়গার বড় অংশ ইকোনমিক জোনের আওতায় চলে যায়। বেড়িবাঁধের বাইরে যে জায়গা রয়েছে সেটিতে তারা মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছিলেন। পাশাপাশি এই জমি চাষিদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। এই আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্রের কুনজর পড়ে এই জায়গার ওপর। তারা চাষিদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় ওই জায়গায় বালু ফেলে রাতারাতি দখল করে নেয় তারা। লেবার ফেডারেশন ইকোনমিক জোন শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন মফিজ শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, মাছ চাষের জমি দখল করে যারা বালুমহাল গড়ে তুলেছে তাদের রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। সরকারি জমিতে বালুমহাল গড়ে তুলে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছে। এই টাকায় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষের অসাধু লোকজনকে ম্যানেজ করছে। একইভাবে স্থানীয় চাষিদের সেখান থেকে উৎখাত করেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে জায়গাটি যাতে স্থানীয় কৃষক শ্রমিক ও অসহায়দের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারা আবার মাছ চাষ করে যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন