১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
jugantor
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা
১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা এবং রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা হাইকে বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব এ তথ্য জানায়।

র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আত্মগোপনে থাকা হাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) প্রতিষ্ঠাতা আমির। আশির দশকে ভারত-পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা হাই আফগানিস্তানে মুজাহিদ হিসাবে যুদ্ধে অংশ নেন। দেশে তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাতটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

কমান্ডার আল মঈন আরও জানান, দেশে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্য পেলে হাই আত্মগোপনে চলে যান। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাড়ি হলেও হাই পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার গৌরীপুরে শ্বশুরের দোকানে কর্মচারী সেজে ছিলেন। মাঝেমধ্যে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতেন। কৌশলে নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনি ভোটার কার্ড সংগ্রহ করেন। ২০০৯ সালের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে বাসাভাড়া নিয়ে তিনি থাকতে শুরু করেন। স্থানীয়রা যাতে তার পরিচয় জানতে না পারে সেজন্য তিনি ঘর থেকে খুব কম বের হতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তার বর্তমান ঠিকানার বাসাটি এলাকার লোকজনের কাছে তার বড় ছেলের বাসা হিসাবে পরিচিতি করান। এ বাসা থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হাই জানান, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদ্রাসায় ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পড়েছেন। ১৯৮১ সালে দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়তে অবৈধভাবে তিনি ভারতে যান। ১৯৮৫ সালের শেষে ভারতের নাগরিক হিসাবে পাসপোর্ট বানিয়ে তিনি আবার বাংলাদেশে আসেন। এক বছর পর আবার দেশটিতে চলে যান। সেখান থেকে ভিসা নিয়ে করাচিতে গিয়ে মুফতি টাইটেল নেন। ১৯৮৯ সালে ওই মাদ্রাসার একাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন পাকিস্তানের মিরানশাহ সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে যান। সেখানে তিনি অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯১ সালে হাই বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ওই বছর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘হরকাতুল জিহাদ’ নামে সংগঠনের প্রচার শুরু করেন। ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে কক্সবাজারের উখিয়া মাদ্রাসায় তিনি জঙ্গি কার্যক্রম প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করেন। ১৯৯৬ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এ ক্যাম্প থেকে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন আরও জানান, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে হাইসহ অন্য জঙ্গি সদস্যরা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখে। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট মুফতি আব্দুল হাইসহ ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, ২০০১ সালে ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় করা হত্যামামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন হাইসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হাইসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে হাই সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরে বৈদ্যের বাজারে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় করা মামলায় হাই চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ‘মুজাহিদ’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হাই। ১৯৯১ সালে চালু হওয়া পত্রিকার অফিস ছিল খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায়। ২০০০ সালে সরকার পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করে। ২০০০ সালে ওই পত্রিকার অফিস থেকে হাই গ্রেফতার হন এবং দুই মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা

১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা এবং রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা হাইকে বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব এ তথ্য জানায়।

র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আত্মগোপনে থাকা হাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) প্রতিষ্ঠাতা আমির। আশির দশকে ভারত-পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা হাই আফগানিস্তানে মুজাহিদ হিসাবে যুদ্ধে অংশ নেন। দেশে তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাতটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

কমান্ডার আল মঈন আরও জানান, দেশে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্য পেলে হাই আত্মগোপনে চলে যান। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাড়ি হলেও হাই পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার গৌরীপুরে শ্বশুরের দোকানে কর্মচারী সেজে ছিলেন। মাঝেমধ্যে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতেন। কৌশলে নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনি ভোটার কার্ড সংগ্রহ করেন। ২০০৯ সালের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে বাসাভাড়া নিয়ে তিনি থাকতে শুরু করেন। স্থানীয়রা যাতে তার পরিচয় জানতে না পারে সেজন্য তিনি ঘর থেকে খুব কম বের হতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তার বর্তমান ঠিকানার বাসাটি এলাকার লোকজনের কাছে তার বড় ছেলের বাসা হিসাবে পরিচিতি করান। এ বাসা থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হাই জানান, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদ্রাসায় ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পড়েছেন। ১৯৮১ সালে দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়তে অবৈধভাবে তিনি ভারতে যান। ১৯৮৫ সালের শেষে ভারতের নাগরিক হিসাবে পাসপোর্ট বানিয়ে তিনি আবার বাংলাদেশে আসেন। এক বছর পর আবার দেশটিতে চলে যান। সেখান থেকে ভিসা নিয়ে করাচিতে গিয়ে মুফতি টাইটেল নেন। ১৯৮৯ সালে ওই মাদ্রাসার একাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন পাকিস্তানের মিরানশাহ সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে যান। সেখানে তিনি অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯১ সালে হাই বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ওই বছর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘হরকাতুল জিহাদ’ নামে সংগঠনের প্রচার শুরু করেন। ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে কক্সবাজারের উখিয়া মাদ্রাসায় তিনি জঙ্গি কার্যক্রম প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করেন। ১৯৯৬ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এ ক্যাম্প থেকে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন আরও জানান, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে হাইসহ অন্য জঙ্গি সদস্যরা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখে। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট মুফতি আব্দুল হাইসহ ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, ২০০১ সালে ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় করা হত্যামামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন হাইসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হাইসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে হাই সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরে বৈদ্যের বাজারে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় করা মামলায় হাই চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ‘মুজাহিদ’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হাই। ১৯৯১ সালে চালু হওয়া পত্রিকার অফিস ছিল খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায়। ২০০০ সালে সরকার পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করে। ২০০০ সালে ওই পত্রিকার অফিস থেকে হাই গ্রেফতার হন এবং দুই মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন