ইয়াবা সম্রাট জিয়াবুলের আলিশান বাড়ি

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

উখিয়ায় বনবিভাগের জমিতে নির্মাণ হচ্ছে ইয়াবা সম্রাট রোহিঙ্গা জিয়াবুলের আলিশান বাড়ি। ছবি-যুগান্তর

উখিয়ায় বনবিভাগের জমিতে নির্মাণ হচ্ছে ইয়াবা সম্রাট রোহিঙ্গা জিয়াবুলের আলিশান বাড়ি। বাড়িটির ১২ কক্ষবিশিষ্ট একতলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। উখিয়া বনরেঞ্জের আওতাধীন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পূর্ব পাশে কুতুপালং পিএফ পাড়া এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত।

কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা শামসুল আলমের ছেলে জিয়াবুল হকের আসল বাড়ি মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়ার তুমব্রু গ্রামে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের তৈরি ইয়াবা কারখানার সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে পরিচিত জিয়াবুল প্রায় এক যুগ ধরে সীমান্তের এপার-ওপার আসা-যাওয়া করছে। তার অধীনে রয়েছে অসংখ্য পাইকারি ইয়াবা ব্যবসায়ী। এ ছাড়া রয়েছে গাড়ি, বাড়ি, নামে বেনামে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভূ-সম্পত্তি।

বনবিভাগের প্রায় দুই একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে ভবনটি। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সে কিভাবে বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পেরেছে- এ প্রশ্ন এখন জনমনে।

কুতুপালং পিএফ পাড়া এলাকায় সরেজমিন গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে কোনো বাড়িঘর ছিল না। ছিল কেবল বনবিভাগের সৃজিত বাগান। গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক জান্তার উৎপীড়ন নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই পিএফ পাড়ার কদর বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা অনিল বড়–য়া জানান, রোহিঙ্গা নাগরিক জিয়াবুল একটি কাঁচাবাড়িসহ দুই একর জায়গা কেনে পাঁচ লাখ টাকায়। পরে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করতে থাকে সে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. আলী জানান, বাড়ি তৈরির পাশাপাশি সে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচার করছিল। ইয়াবা পাচারের সব বাধা জিয়াবুল যে কোনো উপায়ে ম্যানেজ করেছে। এ কারণে পুরো গ্রামটি অতি অল্প সময়ে জিয়াবুলের হাতে চলে আসে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১২ কক্ষবিশিষ্ট বিশাল আকারের একটি আলিশান বাড়ি তৈরি করে ফেলে সে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামল বড়ুয়া জানান, বাড়ি তৈরির সময় বনবিভাগের হেডম্যান, বিট কর্মকর্তাসহ অনেকে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। উপরন্তু রোহিঙ্গা ইয়াবা সম্রাট জিয়াবুলের দাপট আরও বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় উখিয়া বনরেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা নুরুল আবছারের সঙ্গে। একজন রোহিঙ্গা কিভাবে উখিয়ার বনভূমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তবে মাঝি হিসেবে কর্মরত ভেদু বড়ুয়া জানান, বিট কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা নগদ দেয়া হয়েছে। তবে বিট কর্মকর্তা টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

সদ্য বদলি হওয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামকে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে একাধিকবার জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। বর্তমান দায়িত্বে থাকা বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তারিকুর রহমান ভবন নির্মাণের নেপথ্যে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে স্বীকার করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

কক্সবাজার বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আলী কবিরের সঙ্গে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার আলাপ হয়। কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।