চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল হচ্ছে

চাল আমদানিতে ধার্যকৃত ২৮ শতাংশ শুল্ক সরকার আবার পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর থেকেই শুল্ক পুনর্বহালের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এর ফলে কৃষকের স্বার্থরক্ষা হবে। তারা আবারও দেশে বাম্পার ফলনে উদ্বুদ্ধ হবে।সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রিনজস টি রিং-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) তপন কান্তি ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিউটি (শুল্ক) কমানো যায় যেমন, তেমন বাড়ানোও যায়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এটা হয়। গত বছর আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আমরা জেনেছি, ১০ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হয়েছিল। এ অবস্থায় ঘাটতি পূরণ ও বাজার সহনীয় রাখতে সরকার ধাপে ধাপে চালের ওপর আরোপিত ২৮ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। আমরা আবার তা বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, এবার বোরোতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ‘অস্বাভাবিক’ ভালো ফলন হয়েছে। আমদানিও হয়েছে ঘাটতির চেয়ে ৮-১০ গুণ বেশি। তাই কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে চাল আমদানিতে আবারও শুল্ক বসানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দরকার মতো আবার কমানো হবে। এটা সবাই করে। ভারতও তাদের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাটপণ্যে শুল্ক বসিয়েছে।

দেশে এবার যেহেতু চালের চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ মজুদ বেশি, ফলনও বেশি হয়েছে, তাই শুল্ক বাড়ালে বাজারে এর প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন তিনি।

এর আগে মন্ত্রী ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রিনজস টি রিং এর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বাস্তবায়নের যে নির্দেশনা ছিল, এ বৈঠকে তার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২৪ জুন জার্মানির ব্রাসেলসে এ বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সেখানে বাংলাদেশবিষয়ক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে ওই বৈঠকে যোগ দিতে ২১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল তার আগেই ব্রাসেলস যাবে। তিনি আইএলসির বৈঠকের মতো সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টের বৈঠকেও বাংলাদেশের ভালো ফলাফল পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সব শর্তই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। আইএলওর কনভেনশন অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) আইন সংশোধন করে সেখানে ইউনিয়ন করার সুযোগ দেয়া হবে।

এছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের জন্য একটি কারখানায় আগে ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন প্রয়োজন হতো। এখন সেটা কমিয়ে ২০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফলে আগামীতে বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর পোশাক খাতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ায় গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ব্র্যান্ড ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সও বলেছে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার সংখ্যা ২ শতাংশেরও কম।

যেগুলো এখন সংস্কারের মাধ্যমে উন্নতি করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রমাগত সংস্কারের ফলে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ২৮৯টি গ্রিন ফ্যাক্টরি চালু হয়েছে। বিশ্বের সেরা ১০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির সাতটিই বাংলাদেশে।

তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এসব উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরে আমরা ২০২৭ সাল পরবর্তী ইইউ জিএসপির পরিবর্তে জিএসপি প্লাস সুবিধা দাবি করেছি। তারাও বাংলাদেশের এ দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter