পুলিশের নিষ্ফল অভিযান

টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা লাপাত্তা

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার

টেকনাফে শনি ও রোববার মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সদর ইউনিয়নের ইয়াবাপাড়া বলে খ্যাত মৌলভীপাড়া ও নাজিরপাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় পুলিশের বিশেষ কয়েকটি টিম অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

রাজপ্রাসাদতুল্য ২-২৫টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ায় রাতের আঁধারে দেশ থেকে পালিয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

টেকনাফের ইয়াবা গডফাদারদের রাজপ্রাসাদে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু রাজপ্রাসাদের মালিক কোনো রাজা বা রানীর দেখা পাওয়া যায়নি। নিষ্ফল অভিযানে প্রাসাদের পাহারাদারের শুধু দেখা মিলেছে। আবার কোনোটায় তা-ও মেলেনি। প্রাসাদগুলোয় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। খাঁ খাঁ করছে চারদিক।

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দুবাই, মালয়েশিয়া, ভারত ও সৌদি আরবে পালিয়ে গেছে। অনেকে ট্রলারে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে আশ্রয় নিয়েছে।টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রণজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী একরাম, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম ওরফে কালা ও জাফর আলমসহ ২০-২৫ জনের রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানে কোনো ধরনের পেশিশক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। মাদক ব্যবসায়ী বা ইয়াবার গডফাদার যতই শক্তিশালী হোক তাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, মরণ নেশা ইয়াবার ব্যবসা করে টেকনাফের অনেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। নিজ এলাকায় তারা রাজপ্রাসাদতুল্য বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও ঢাকা চট্টগ্রামে গড়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে রাতের আঁধারে তারা পালিয়েছে। এ কারণে রাজপ্রাসাদগুলো বর্তমানে রাজা-রানিশূন্য হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ- মাদক ব্যবসায়ীদের পালানোর সুযোগ করে দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের শুরুতে এখানে অভিযান চালানো হলে চিহ্নিত গডফাদারদের গ্রেফতার করা যেত। পাশাপাশি কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। প্রতিদিন আলোচনায় আসছে একরাম হত্যার বিষয়টি। ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। কক্সবাজার জেলার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে- কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ ডিককুলের আবু নফর ওরফে রোহিঙ্গা নফর, বাস টার্মিনালের আবুল কালাম ওরফে ইয়াবা কালাম, টেকনাফের ইয়াবার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শীলবনিয়ার হাজী সাইফুল করিম (৩৮), তার ভাই রেজাউল করিম ও তাদের ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম (৪২)। সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই মো. আবদুস শুক্কুর (৩৮), আবদুল আমিন, কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান (৪০), মো. সফিক (২৪) ও ফয়সাল। হ্নীলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার ছৈয়দ হোসেন ও তার ছেলে জিয়াউল বশর শাহীন, পুতিয়া মিস্ত্রি, মো. রফিক, বার্মাইয়া শামশু ও নুরুল হুদা মেম্বার। পশ্চিম লেদা ইউপি সদস্য মো. নুরুল হুদা (৩৫), মো. নুরুল কবির (৩৬), বাজারপাড়ার মুহাম্মদ শাহ মালু (৫০), নির্মল ধর (৫৫), উলুমচামরী এলাকার আবদুল হামিদ (৩৫), পশ্চিম সিকদার পাড়ার ছৈয়দ আহমদ ছৈয়তু (৫৪), রঙ্গীখালী হেলাল আহমদ (৩৪), জামাল হোসেন (৫০) ইউপি সদস্য, মো. হাসান আবদুল্লাহ (৩৩), টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান লেঙ্গুরবিলের মো. জাফর আহমদ (৬০), তার তিন ছেলে মোস্তাক মিয়া, দিদার মিয়া (৩২) ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান (৩০), সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাগ্নে সাহেদুর রহমান নিপু (২৪), টেকনাফ ডেইল পাড়ার মো. আমিন (৩৭), নুরুল আমিন (৩৪), মৌলভীপাড়ার মো. একরাম হোসেন (৩০), একই এলাকার আবদুর রহমান (২৭), নাজিরপাড়ার ছৈয়দ হোসেন মেম্বার (৪২), এনাম মেম্বার, মৌলভী ভুট্টু, জিয়াউর রহমান, দুধু মিয়া, নয়াপাড়ার শামসুল আলম মার্কিন (৪৭), র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও ইউপি সদস্য আকতার কামালের ভাই শাহেদ কামাল (৩০), বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ (৪০), উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দিন (৪০), শামলাপুরের হাবিব উল্লাহ হাবিব (৩৫), কচুবনিয়ার মৌলভী বশির ওরফে ডাইলা (৪৪), খানকারপাড়ার মৌলভী বোরহান (৪৬), কামরুল হাসান রাসেল (৩২), পুরান পল্লানপাড়ার শাহ আলম ওরফে দেবাল্যা (২৮), আবদুল হাকিম ওরফে ডাকাত আবদুল হাকিম (৪০), গোদারবিলের জিয়াউর রহমান ও ভাই আবদুর রহমান (২৬), জালিয়াপাড়ার জাফর আলম ওরফে টিটি জাফর (৩৪), উত্তর জালিয়াপাড়ার মোস্তাক আহমদ ওরফে মুছু (৩৫), জোবাইর, মোজাম্মেল, আবদুল জাব্বার, ইয়াবা সালমান, নেজাম, জিয়াবুল, নাজমুল, দিল মোহাম্মদ বার্মাইয়া, ওসমান, মোহাম্মদুল হক, জাহাঙ্গীর, গুরা পুতু, তৈয়ব, মধ্যম জালিয়াপাড়ার মোজাম্মেল হক (২৫), দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার জোবাইর হোসেন (৩৩), কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুশ্সাদ (৩০), কুলালপাড়া মো. ইউনুছ, হাতিয়ারঘোনা মো. আবদুল্লাহ (৩১), ফুলের ডেইল এলাকার রাশেদ মো. আলী (৩২), মাহবুব মোরশেদ (৩৭), অলিয়াবাদ এলাকার মারুফ বিন খলিল ওরফে বাবু (২৯), বড় হাবিবপাড়ার ইউছুপ জালাল বাহাদুর (৩০), নাইট্যংপাড়ার মো. ইউনুছ (৫০), কক্সবাজারের রামু মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ ভুট্টো (৪২), তার ছোট ভাই নুরুল আজিম (২৬), উত্তর মিঠাছড়ির ইয়াবা ছৈয়দ ওরফে বার্মাইয়া ছৈয়দ (৪৫), জোয়ারিয়ানালা এমএম নুরুচ ছাফ (৫৫), জুলেখা আলম জুমু (২৬), রামু মাদকদ্রব্য অফিসের পাশে রাশেদুল ইসলাম বাবুইন্যা (২৮), মণ্ডল পাড়ার বাবু ওরফে মলই বাবু (২৭), মিয়াজীপাড়া সালেক (২৬), রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানি (৫০)। এ ছাড়া মহেশখালীর পুটিবিলার মৌলভী জহির উদ্দীন, গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার মো. সালাহ উদ্দীন (৪২), চকরিয়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক রেজাউল করিম ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।