৩৬ ফুট প্রশস্ত হবে ১১ কিমি. মহাসড়ক
jugantor
ঢাকা-বরিশাল রুট
৩৬ ফুট প্রশস্ত হবে ১১ কিমি. মহাসড়ক

  তন্ময় তপু, বরিশাল  

২৫ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। সেতু চালুর পর যানবাহনের বিশাল চাপ পড়বে বরিশাল নগরীর মধ্যে থাকা ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের ১১ কিলোমিটারে। মহাসড়কের এ ১১ কিলোমিটার অংশ হয়েই বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় পৌঁছাতে হবে সব ধরনের যানবাহনকে, পাশাপাশি কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর ও কলাপাড়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় যেতেও ব্যবহৃত হবে এ পথ। তবে এ চাপ সামলাতে মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

মঙ্গলবার রাতে নগরীর কালিবাড়ী রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি জানিয়েছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য বরিশাল এখন পর্যন্ত প্রস্তুত নয়। অপরদিকে ৬ লেনের যে সড়ক নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত, তা হতেও সময় লাগবে। এ ৬ লেনের সড়ক নগরীর মধ্যে থেকে বাইপাস হবে। তবে এ সড়ক থেকে আমার নগরীর মধ্যে থাকা ১১ কিলোমিটার মহাসড়কে পদ্মা সেতু চালুর পরপরই ব্যাপক চাপ পড়বে। তাই এসব বিষয়ে সমাধান কীভাবে করা যায়, সেই লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছি।

মেয়র সাদিক বলেন, বরিশাল নগরীর গড়িয়াপার থেকে রূাতলী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের অন্তর্ভুক্ত। এ সড়ক হয়েই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ, সদর উপজেলা, ভোলা জেলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনায় যেতে হয়। তাই পদ্মা সেতু চালু হলে যানবাহনের যে বিশাল চাপ, সেটা আমার নগরীর মধ্যে থাকা সড়কেই বেশি পড়বে। বর্তমানে এ ১১ কিলোমিটার মহাসড়কে গড়ে প্রস্থ রয়েছে ২৪ ফুট করে। তবে এই সড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথের আরও জায়গা রয়েছে। সব মিলিয়ে উভয় পাশ থেকে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট সড়ক এই ২৪ ফুট সড়কের সঙ্গে যোগ করা সম্ভব। তাহলে এ ১১ কিলোমিটার মহাসড়কের প্রশস্ততা হবে ৩৬ ফুট। এতে নগরীতে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যদি এ সড়ক প্রশস্ততার কাজ না করতে পারে, তাহলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব সিটি করপোরেশন শুরু করবে।

সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ১১ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে নগরীর টিটিসির সামনে মহাসড়কের পাশে আমার মায়ের নামে পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে সেটিও ভেঙে ফেলা হবে। আমার জনগণের ভোগান্তি করে আমি কোনো কাজ করব না। ১১ কিলোমিটার ২৪ ফুট প্রস্থের সড়কের পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। যা সরাতে হবে, এগুলো আমি উচ্ছেদ করব না। আমার নগরবাসী নিজেদের জন্যই সরিয়ে নেবে। পাশাপাশি সাগরদিতে মহাসড়কের জায়গাতেই একটি মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলব। আমার মনে হয় তারা আমার কথা শুনে এ দুই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেবে। মন্দির ও মসজিদ আরও ভালোভাবে নির্মাণ করে দেব। তাছাড়া ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে ধর্মীয় উপাসনালয় থাকাটাও তো বিপজ্জনক।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে যে কী পরিবর্তন হবে, সেটা কিছুদিনের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে। আর এর হেডকোয়ার্টার হচ্ছে বরিশাল। তাই বরিশালের ওপর বেশ কয়েকগুণ চাপ বাড়াটা স্বাভাবিক। আর সেই চাপ সামাল দিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের পাশে থাকা বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। অপরদিকে রূপাতলী মিনিবাস টার্মিনাল রয়েছে, সেটিকে শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার করপোরেশন এবং আমি চেষ্টা করছি পদ্মা সেতুর সুফল যাতে বরিশাল নগরবাসী ভোগ করতে পারে এবং যানবাহনের চাপ যাতে নগরবাসীর ওপর প্রভাব না ফেলে।

ঢাকা-বরিশাল রুট

৩৬ ফুট প্রশস্ত হবে ১১ কিমি. মহাসড়ক

 তন্ময় তপু, বরিশাল 
২৫ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। সেতু চালুর পর যানবাহনের বিশাল চাপ পড়বে বরিশাল নগরীর মধ্যে থাকা ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের ১১ কিলোমিটারে। মহাসড়কের এ ১১ কিলোমিটার অংশ হয়েই বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় পৌঁছাতে হবে সব ধরনের যানবাহনকে, পাশাপাশি কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর ও কলাপাড়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় যেতেও ব্যবহৃত হবে এ পথ। তবে এ চাপ সামলাতে মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

মঙ্গলবার রাতে নগরীর কালিবাড়ী রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি জানিয়েছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য বরিশাল এখন পর্যন্ত প্রস্তুত নয়। অপরদিকে ৬ লেনের যে সড়ক নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত, তা হতেও সময় লাগবে। এ ৬ লেনের সড়ক নগরীর মধ্যে থেকে বাইপাস হবে। তবে এ সড়ক থেকে আমার নগরীর মধ্যে থাকা ১১ কিলোমিটার মহাসড়কে পদ্মা সেতু চালুর পরপরই ব্যাপক চাপ পড়বে। তাই এসব বিষয়ে সমাধান কীভাবে করা যায়, সেই লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছি।

মেয়র সাদিক বলেন, বরিশাল নগরীর গড়িয়াপার থেকে রূাতলী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের অন্তর্ভুক্ত। এ সড়ক হয়েই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ, সদর উপজেলা, ভোলা জেলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনায় যেতে হয়। তাই পদ্মা সেতু চালু হলে যানবাহনের যে বিশাল চাপ, সেটা আমার নগরীর মধ্যে থাকা সড়কেই বেশি পড়বে। বর্তমানে এ ১১ কিলোমিটার মহাসড়কে গড়ে প্রস্থ রয়েছে ২৪ ফুট করে। তবে এই সড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথের আরও জায়গা রয়েছে। সব মিলিয়ে উভয় পাশ থেকে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট সড়ক এই ২৪ ফুট সড়কের সঙ্গে যোগ করা সম্ভব। তাহলে এ ১১ কিলোমিটার মহাসড়কের প্রশস্ততা হবে ৩৬ ফুট। এতে নগরীতে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যদি এ সড়ক প্রশস্ততার কাজ না করতে পারে, তাহলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব সিটি করপোরেশন শুরু করবে।

সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ১১ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে নগরীর টিটিসির সামনে মহাসড়কের পাশে আমার মায়ের নামে পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে সেটিও ভেঙে ফেলা হবে। আমার জনগণের ভোগান্তি করে আমি কোনো কাজ করব না। ১১ কিলোমিটার ২৪ ফুট প্রস্থের সড়কের পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। যা সরাতে হবে, এগুলো আমি উচ্ছেদ করব না। আমার নগরবাসী নিজেদের জন্যই সরিয়ে নেবে। পাশাপাশি সাগরদিতে মহাসড়কের জায়গাতেই একটি মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলব। আমার মনে হয় তারা আমার কথা শুনে এ দুই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেবে। মন্দির ও মসজিদ আরও ভালোভাবে নির্মাণ করে দেব। তাছাড়া ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে ধর্মীয় উপাসনালয় থাকাটাও তো বিপজ্জনক।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে যে কী পরিবর্তন হবে, সেটা কিছুদিনের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে। আর এর হেডকোয়ার্টার হচ্ছে বরিশাল। তাই বরিশালের ওপর বেশ কয়েকগুণ চাপ বাড়াটা স্বাভাবিক। আর সেই চাপ সামাল দিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের পাশে থাকা বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। অপরদিকে রূপাতলী মিনিবাস টার্মিনাল রয়েছে, সেটিকে শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার করপোরেশন এবং আমি চেষ্টা করছি পদ্মা সেতুর সুফল যাতে বরিশাল নগরবাসী ভোগ করতে পারে এবং যানবাহনের চাপ যাতে নগরবাসীর ওপর প্রভাব না ফেলে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন