সাভারে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধে অবরোধ বিক্ষোভ
jugantor
সাভারে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধে অবরোধ বিক্ষোভ
অটোরিকশা চালক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৫

  সাভার ও আশুলিয়া প্রতিনিধি, ঢাকা  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশা চালকরা। আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সোমবার বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া, বাইপাইল, ইপিজেড, গাজিরচট, ডেন্ডাবর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার অটোরিকশা চালকরা একযোগে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। তারা মহাসড়কে ইলেকট্রিক পোল ফেলে গাড়ি যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চালকরা সড়কে টায়ার ও গাছের ডাল ফেলে মহাসড়কের মাঝে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এ সময় মহাসড়কের উভয়পাশে দুই ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে তাদের বিক্ষোভে বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকরা। পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আশুলিয়া থানার এসআই শ্যামল দত্তসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। অটোরিকশা চালকরা জানান, তারা রিকশা নিয়ে মহাসড়কে না উঠলেও হাইওয়ে পুলিশ তাদের রিকশা ধরে নিয়ে গিয়ে ২৬০০ টাকা জরিমানা করেন। এক মাসে কয়েকবার এ জরিমানা আদায় করে পুলিশ। রিকশা চালকরা গরিব মানুষ, প্রতি সপ্তাহে যদি ২৬০০ টাকা নেয় পুলিশ। তাহলে রিকশা চালকের পরিবার কীভাবে চলবে। তারা পেটের দায়ে বেঁচে থাকার জন্য পুলিশের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। রিকশাচালক বাচ্চু বলেন, সে শাখা সড়কে রিকশা চালায়। মহাসড়কের মুখ থেকে তার রিকশা এ মাসে ৪ বার ধরে নিয়ে গেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ মাসে তার কাছ থেকে জরিমানা নিয়েছে ১০ হাজার ৪০০ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পরিবার না খেয়ে মরে যাবে। জসিম বলেন, এ মাসে তার রিকশা ধরেছে ৩ বার। র‌্যাকার ধরেছে দুবার, হাইওয়ে পুলিশ ধরেছে দুবার। প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার ধরলে সংসার চালাতে ঋণ করতে হয়। বাধ্য হয়ে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে মাইকিং করে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তারা।

চালকরা আরও জানান, ঢাকার সাভারে মহাসড়কের শাখা সড়কগুলোতে চলাচলরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে পুলিশ। কয়েক বছর আগে থেকে পুলিশ মহাসড়কে অটোরিকশা নিয়ে মাহসড়কে উঠতে নিষেধ করেছে। এরপর থেকে রোগী বহন ছাড়া আমরা মহাসড়কে যাই না। কিন্তু মহসড়কের সংযুক্ত শাখা সড়কের পাশে থাকলেও পুলিশ তাদের সোর্সের মাধ্যমে আমাদের আটোরিকশার চাবি নিয়ে ৫ হাজার টাকা চাঁদার দাবি করে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে সোর্সের মাধ্যমে রিকশাগুলো সাভার হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়। এরপর বড় অটোরিকশার জন্য ৫ হাজার ২০০ টাকা ও ছোট অটোরিকশা বাবদ ২৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করে পুলিশ। রেকার ব্যবহার না করেও জরিমানার টাকা আদায় করা হয় রেকার বিল বাবদ। পুলিশের রেকার বাণিজ্যের প্রতিবাদে সোমবার চালকরা একত্রিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

রিকশাচালক সবুজ মিয়া বলেন, অনেক সময় পুলিশ মহাসড়কে না উঠলেও ভেতরের শাখা রাস্তা থেকে জোরপূর্বক আমাদের গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে গাড়ি ছেড়ে দেয়। আমরা তো চুরি-ডাকাতি করি না। তাহলে কেন আমাদের এভাবে হয়রানি করা হয়। আমরাই কেবল জানি এ জরিমানার টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চালাতে কত কষ্ট হয়। বউ-বাচ্চার জন্য বাজার না করে এই টাকা পরিশোধ করতে হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আমিনবাজার থেকে চন্দ্রা এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর পর্যন্ত দুটি মহাসড়কের শাখা সড়ক রয়েছে অন্তত ৫০টি। প্রতিদিন এসব সড়ক থেকে অন্তত দুই হাজার অটোরিকশা আটক করে পুলিশ। এসব রিকশা ৫ থেকে ২৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এভাবে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, রিকশাচালকদের একটি গ্রুপ সংগঠিত হয়ে সড়কে আন্দোলন করছে। তবে তাদের দাবি ভিত্তিহীন। জরিমানার ২৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নেই। তবে দালাল শ্রেণির কিছু লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে বলে জানান তিনি।

সাভারে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধে অবরোধ বিক্ষোভ

অটোরিকশা চালক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৫
 সাভার ও আশুলিয়া প্রতিনিধি, ঢাকা 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশা চালকরা। আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সোমবার বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া, বাইপাইল, ইপিজেড, গাজিরচট, ডেন্ডাবর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার অটোরিকশা চালকরা একযোগে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। তারা মহাসড়কে ইলেকট্রিক পোল ফেলে গাড়ি যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চালকরা সড়কে টায়ার ও গাছের ডাল ফেলে মহাসড়কের মাঝে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এ সময় মহাসড়কের উভয়পাশে দুই ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে তাদের বিক্ষোভে বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকরা। পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আশুলিয়া থানার এসআই শ্যামল দত্তসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। অটোরিকশা চালকরা জানান, তারা রিকশা নিয়ে মহাসড়কে না উঠলেও হাইওয়ে পুলিশ তাদের রিকশা ধরে নিয়ে গিয়ে ২৬০০ টাকা জরিমানা করেন। এক মাসে কয়েকবার এ জরিমানা আদায় করে পুলিশ। রিকশা চালকরা গরিব মানুষ, প্রতি সপ্তাহে যদি ২৬০০ টাকা নেয় পুলিশ। তাহলে রিকশা চালকের পরিবার কীভাবে চলবে। তারা পেটের দায়ে বেঁচে থাকার জন্য পুলিশের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। রিকশাচালক বাচ্চু বলেন, সে শাখা সড়কে রিকশা চালায়। মহাসড়কের মুখ থেকে তার রিকশা এ মাসে ৪ বার ধরে নিয়ে গেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ মাসে তার কাছ থেকে জরিমানা নিয়েছে ১০ হাজার ৪০০ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পরিবার না খেয়ে মরে যাবে। জসিম বলেন, এ মাসে তার রিকশা ধরেছে ৩ বার। র‌্যাকার ধরেছে দুবার, হাইওয়ে পুলিশ ধরেছে দুবার। প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার ধরলে সংসার চালাতে ঋণ করতে হয়। বাধ্য হয়ে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে মাইকিং করে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তারা।

চালকরা আরও জানান, ঢাকার সাভারে মহাসড়কের শাখা সড়কগুলোতে চলাচলরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে পুলিশ। কয়েক বছর আগে থেকে পুলিশ মহাসড়কে অটোরিকশা নিয়ে মাহসড়কে উঠতে নিষেধ করেছে। এরপর থেকে রোগী বহন ছাড়া আমরা মহাসড়কে যাই না। কিন্তু মহসড়কের সংযুক্ত শাখা সড়কের পাশে থাকলেও পুলিশ তাদের সোর্সের মাধ্যমে আমাদের আটোরিকশার চাবি নিয়ে ৫ হাজার টাকা চাঁদার দাবি করে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে সোর্সের মাধ্যমে রিকশাগুলো সাভার হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়। এরপর বড় অটোরিকশার জন্য ৫ হাজার ২০০ টাকা ও ছোট অটোরিকশা বাবদ ২৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করে পুলিশ। রেকার ব্যবহার না করেও জরিমানার টাকা আদায় করা হয় রেকার বিল বাবদ। পুলিশের রেকার বাণিজ্যের প্রতিবাদে সোমবার চালকরা একত্রিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

রিকশাচালক সবুজ মিয়া বলেন, অনেক সময় পুলিশ মহাসড়কে না উঠলেও ভেতরের শাখা রাস্তা থেকে জোরপূর্বক আমাদের গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে গাড়ি ছেড়ে দেয়। আমরা তো চুরি-ডাকাতি করি না। তাহলে কেন আমাদের এভাবে হয়রানি করা হয়। আমরাই কেবল জানি এ জরিমানার টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চালাতে কত কষ্ট হয়। বউ-বাচ্চার জন্য বাজার না করে এই টাকা পরিশোধ করতে হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আমিনবাজার থেকে চন্দ্রা এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর পর্যন্ত দুটি মহাসড়কের শাখা সড়ক রয়েছে অন্তত ৫০টি। প্রতিদিন এসব সড়ক থেকে অন্তত দুই হাজার অটোরিকশা আটক করে পুলিশ। এসব রিকশা ৫ থেকে ২৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এভাবে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, রিকশাচালকদের একটি গ্রুপ সংগঠিত হয়ে সড়কে আন্দোলন করছে। তবে তাদের দাবি ভিত্তিহীন। জরিমানার ২৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নেই। তবে দালাল শ্রেণির কিছু লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন