ইপিএসে বড় চমক দেখিয়েছে জনতা ব্যাংক
jugantor
১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
ইপিএসে বড় চমক দেখিয়েছে জনতা ব্যাংক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ইপিএস (শেয়ারপ্রতি আয়) ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ২০ গুণ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস ৬৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৯৮ পয়সা হয়েছে। ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ শতকরা ২৩ দশমিক ৩৩ ভাগ বেড়ে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫৮ ভাগ বেড়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত বছরের চেয়ে পরিচালন মুনাফা ২২ কোটি টাকা বেড়ে এবার এক হাজার দুই কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আর নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩০০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অথচ গত বছর এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ব্যাংকটির ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) রোববার এসব তথ্য জানানো হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকের এমডি অ্যান্ড সিইও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ স্বাগত বক্তব্য দেন। সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন আহমেদসহ ব্যাংকের ডিএমডি ও মহাব্যবস্থাপকরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জনতা ব্যাংক একসময় উলটো দিকে হেঁটেছে। কিন্তু গত তিন বছরে ব্যাংকের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এই কৃতিত্ব আমরা নিতে চাই না। এজন্য আমি ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দেব। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই উন্নতি হয়েছে। বড় ঋণে না গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সম্প্রতি ড্রাগন চাষ শুরু হয়েছে। এই খাতে ঋণ বিতরণ পেলে খাতটি আরও বড় হবে।

এমডি অ্যান্ড সিইও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ জানান, জনতা ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ২২ দশমিক ৬৯ হতে ১৭ দশমিক ৬১ ভাগে নেমে ১২ হাজার ৩১৯ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে ২৮৩ কোটি এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৮৭ কোটি টাকাসহ মোট ৩৭০ কোটি টাকা নগদ আদায় সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে তদারকি বৃদ্ধি ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বছর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণ ক্রমান্বয়ে আরও কমে আসবে। আমদানি খাতে ৪৭ দশমিক ৭০ ভাগ এবং রপ্তানি খাতে ৮৪ দশমিক ০১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ৫১টি থেকে কমে ৩৯টি শাখায় দাঁড়িয়েছে। কৃষি খাতে বিতরণকৃত ঋণ ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা এবং এসএমই খাতে ঋণ ১১ হজার ২৭৯ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগ খাতে শতকরা ৩৪ দশমিক ০৯ ভাগ প্রবৃদ্ধিসহ অর্জিত হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে ৩০ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।

সভায় এমডি অ্যান্ড সিইও আরও বলেন, ২০২১ সালে ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক বাবদ জনতা ব্যাংক সরকারি কোষাগারে ৯০৬ কোটি টাকা জমা করেছে। আগের বছর জমার পরিমাণ ছিল ৭৫০ কোটি টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ১১৭ কোট টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা পূর্ববর্তী বছর ছিল ১৯ কোটি টাকা। আমাদের প্রতিটি ব্যাংক কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে।

১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ইপিএসে বড় চমক দেখিয়েছে জনতা ব্যাংক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ইপিএস (শেয়ারপ্রতি আয়) ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ২০ গুণ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস ৬৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৯৮ পয়সা হয়েছে। ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ শতকরা ২৩ দশমিক ৩৩ ভাগ বেড়ে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫৮ ভাগ বেড়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত বছরের চেয়ে পরিচালন মুনাফা ২২ কোটি টাকা বেড়ে এবার এক হাজার দুই কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আর নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩০০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অথচ গত বছর এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ব্যাংকটির ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) রোববার এসব তথ্য জানানো হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকের এমডি অ্যান্ড সিইও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ স্বাগত বক্তব্য দেন। সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন আহমেদসহ ব্যাংকের ডিএমডি ও মহাব্যবস্থাপকরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জনতা ব্যাংক একসময় উলটো দিকে হেঁটেছে। কিন্তু গত তিন বছরে ব্যাংকের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এই কৃতিত্ব আমরা নিতে চাই না। এজন্য আমি ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দেব। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই উন্নতি হয়েছে। বড় ঋণে না গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সম্প্রতি ড্রাগন চাষ শুরু হয়েছে। এই খাতে ঋণ বিতরণ পেলে খাতটি আরও বড় হবে।

এমডি অ্যান্ড সিইও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ জানান, জনতা ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ২২ দশমিক ৬৯ হতে ১৭ দশমিক ৬১ ভাগে নেমে ১২ হাজার ৩১৯ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে ২৮৩ কোটি এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৮৭ কোটি টাকাসহ মোট ৩৭০ কোটি টাকা নগদ আদায় সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে তদারকি বৃদ্ধি ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বছর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণ ক্রমান্বয়ে আরও কমে আসবে। আমদানি খাতে ৪৭ দশমিক ৭০ ভাগ এবং রপ্তানি খাতে ৮৪ দশমিক ০১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ৫১টি থেকে কমে ৩৯টি শাখায় দাঁড়িয়েছে। কৃষি খাতে বিতরণকৃত ঋণ ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা এবং এসএমই খাতে ঋণ ১১ হজার ২৭৯ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগ খাতে শতকরা ৩৪ দশমিক ০৯ ভাগ প্রবৃদ্ধিসহ অর্জিত হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে ৩০ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।

সভায় এমডি অ্যান্ড সিইও আরও বলেন, ২০২১ সালে ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক বাবদ জনতা ব্যাংক সরকারি কোষাগারে ৯০৬ কোটি টাকা জমা করেছে। আগের বছর জমার পরিমাণ ছিল ৭৫০ কোটি টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ১১৭ কোট টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা পূর্ববর্তী বছর ছিল ১৯ কোটি টাকা। আমাদের প্রতিটি ব্যাংক কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন