ফরিদগঞ্জে ভাষাবীর ওয়াদুদ সেতু নির্মাণে ধীরগতি
jugantor
ফরিদগঞ্জে ভাষাবীর ওয়াদুদ সেতু নির্মাণে ধীরগতি

  ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি  

২৯ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর উপরে নির্মাণাধীন ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সেতুর কাজ চলছে ধীরগতিতে। ৫ বছরেও নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় দুই পাড়ের হাজারও মানুষ সেতুর সুফল কবে পাবেন, এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে নির্মাণকাজে এমন ধীরগতি।

জানা গেছে, এ নদীর উপর ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ফরিদগঞ্জের বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের চর রনবলিয়া ও সদর উপজেলার রামপুরের ছোটসুন্দর গ্রামের বগার গুদাড়া এলাকা দিয়ে এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

ঢাকার ঠিকাদার নবারণ ট্রেডার্স ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর উপরের সেতুটির মূল কাজ সম্পন্ন করে। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে ২৮ কোটি ৯৫ লাখ ৮২ হাজার ৮৫৪ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন ও ইউনুছ আল মামুন (জেবি) যৌথভাবে কাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজ ডিসেম্বর ২০২১ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বৃদ্ধি করে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সরেজমিন সেতুর নির্মাণকাজ এলাকায় সোমবার গিয়ে দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর উপর মূল সেতুটি নির্মাণ শেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু দু’পাশের সংযোগ অংশের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এরপর শুরু হবে অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়কের কাজ। সেতুর ফরিদগঞ্জ অংশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছয় শ্রমিক সেতুর ডায়াফাক্টের পিয়ারের ক্যাপের কাজ করছেন। অপর পাড়ের পিয়ারের ক্যাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী কামরুল হাসান। তিনি বলেন, সেতুর দুই পাড়েই নির্মাণ কাজ চলছে। চাঁদপুর সদর অংশে ২৫ জন এবং ফরিদগঞ্জ অংশে ৯ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তবে কাজের ওপর শ্রমিক বাড়ে-কমে।

এদিকে বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী আকবর মিয়াজী, চর রনবলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন, খোরশেদ আলম, জুয়েল হোসেন টিটুসহ বেশ কয়েকজন জানান, ঠিকাদার এভাবে কাজ করলে দু-তিন বছরেও শেষ হবে না। কাজের ধীরগতি ও শ্রমিক কম দিয়ে কাজ করানোর কারণে ডায়াফাক্টের পিয়ারের ক্যাপের রডে মরিচা ধরছে। এখানে ঠিকমতো নির্মাণসামগ্রীও আনা হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের মানুষের সুবিধার জন্য এ ব্রিজটি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এর সুবিধা আমরা কবে ভোগ করতে পারব জানি না। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ জানান, কাজে ঠিকাদারের ধীরগতির বিষয়টি এলজিইডি চাঁদপুর অফিসকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস হোসেন বিশ্বাস মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, এ সেতু কাজের মেয়াদ পরে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি। তবে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে কাজে সামান্য ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে গতি ফিরেছে।

ফরিদগঞ্জে ভাষাবীর ওয়াদুদ সেতু নির্মাণে ধীরগতি

 ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি 
২৯ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর উপরে নির্মাণাধীন ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সেতুর কাজ চলছে ধীরগতিতে। ৫ বছরেও নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় দুই পাড়ের হাজারও মানুষ সেতুর সুফল কবে পাবেন, এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে নির্মাণকাজে এমন ধীরগতি।

জানা গেছে, এ নদীর উপর ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ফরিদগঞ্জের বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের চর রনবলিয়া ও সদর উপজেলার রামপুরের ছোটসুন্দর গ্রামের বগার গুদাড়া এলাকা দিয়ে এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

ঢাকার ঠিকাদার নবারণ ট্রেডার্স ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর উপরের সেতুটির মূল কাজ সম্পন্ন করে। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে ২৮ কোটি ৯৫ লাখ ৮২ হাজার ৮৫৪ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন ও ইউনুছ আল মামুন (জেবি) যৌথভাবে কাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজ ডিসেম্বর ২০২১ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বৃদ্ধি করে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সরেজমিন সেতুর নির্মাণকাজ এলাকায় সোমবার গিয়ে দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর উপর মূল সেতুটি নির্মাণ শেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু দু’পাশের সংযোগ অংশের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এরপর শুরু হবে অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়কের কাজ। সেতুর ফরিদগঞ্জ অংশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছয় শ্রমিক সেতুর ডায়াফাক্টের পিয়ারের ক্যাপের কাজ করছেন। অপর পাড়ের পিয়ারের ক্যাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী কামরুল হাসান। তিনি বলেন, সেতুর দুই পাড়েই নির্মাণ কাজ চলছে। চাঁদপুর সদর অংশে ২৫ জন এবং ফরিদগঞ্জ অংশে ৯ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তবে কাজের ওপর শ্রমিক বাড়ে-কমে।

এদিকে বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী আকবর মিয়াজী, চর রনবলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন, খোরশেদ আলম, জুয়েল হোসেন টিটুসহ বেশ কয়েকজন জানান, ঠিকাদার এভাবে কাজ করলে দু-তিন বছরেও শেষ হবে না। কাজের ধীরগতি ও শ্রমিক কম দিয়ে কাজ করানোর কারণে ডায়াফাক্টের পিয়ারের ক্যাপের রডে মরিচা ধরছে। এখানে ঠিকমতো নির্মাণসামগ্রীও আনা হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের মানুষের সুবিধার জন্য এ ব্রিজটি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এর সুবিধা আমরা কবে ভোগ করতে পারব জানি না। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ জানান, কাজে ঠিকাদারের ধীরগতির বিষয়টি এলজিইডি চাঁদপুর অফিসকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস হোসেন বিশ্বাস মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, এ সেতু কাজের মেয়াদ পরে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি। তবে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে কাজে সামান্য ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে গতি ফিরেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন