চট্টগ্রামে কুরবানির পশু সংকটের আশঙ্কা
jugantor
চট্টগ্রামে কুরবানির পশু সংকটের আশঙ্কা
গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কমেছে উৎপাদন * প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে পশু কিনে নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২৯ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে এবার কুরবানির পশু সংকট দেখা দিতে পারে। গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুপাতে পশু পালন করা হয়নি। এ কারণে কুরবানির পশুর কিছুটা সংকট হতে পারে। এদিকে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে কুরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতি বছর মধ্যস্বত্বভোগী চক্রটি সংকটকে পুঁজি করে অধিক মুনাফা লাভের পাঁয়তারা করে।

চট্টগ্রামে সাত লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি পশু মজুত রয়েছে। কিন্তু চাহিদার পরিমাণ আট লাখ ২১ হাজারটি। এ হিসাবে ৩০ হাজারের মতো পশুর সংকট রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলে আট হাজার ১৭১টি পশুর খামার রয়েছে। কিন্তু সব খামারে গত বছরের মতো পশু পালন করা হয়নি। ফলে কুরবানির পশু কিছুটা কম উৎপাদন হয়েছে। এ বছর কম পশু পালনের অন্যতম কারণ হলো-পশু খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া। এ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পশু পালন খাতে বিনিয়োগকে ঝুঁকি মনে করেছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুরবানির বাজার টার্গেট করে মৌসুমি বেপারিরা গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। প্রান্তিক খামারিদের গরু তারা কিনে নিচ্ছে। দুই-তিনটি গরু নিয়ে শহরে যেতে বেশি পরিবহণ ভাড়া লেগে যাওয়া এবং বেশি খরচ হওয়ার আশঙ্কায় খামারিরা বাড়ি থেকেই সেসব বিক্রি করে নিশ্চিন্ত থাকছেন। জেলার লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার প্রান্তিক এলাকা থেকে মৌসুমি বেপারিরা গরু কিনে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী-চট্টগ্রামে এবার কুরবানির জন্য গরুর সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৩টি, মহিষ ৬৬ হাজার ২৩৭টি, ছাগল ও ভেড়া এক লাখ ৮৯ হাজার ৬২টি এবং অন্য ৯৯টি পশু মজুত রয়েছে। ২০২১ সালে সাত লাখ ৪২ হাজার ৪৫৫টি পশু জবাই করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে সাত লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি পশু উৎপাদন করা হয়। ২০২০ সালে সাত লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬টি পশু জবাই করা হয়। ওই বছর স্থানীয়ভাবে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু উৎপাদিত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে এবার কুরবানির পশুর কিছুটা সংকট হতে পারে। চাহিদার চেয়ে ৩০ হাজারের মতো কুরবানির পশু ঘাটতি রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে চাহিদা অনুপাতে প্রতি বছর পশুর ঘাটতি থাকে। গোখাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তবে মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা উত্তরাঞ্চল থেকে কুরবানি পশু আনলে ঘাটতি পূরণ হবে। গোখাদ্যের দাম বেশি থাকায় বেপারিরা অবশ্য এখনো কুরবানির পশু আনেনি। আশা করি তেমন সমস্যা হবে না।

চট্টগ্রামে কুরবানির পশু সংকটের আশঙ্কা

গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কমেছে উৎপাদন * প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে পশু কিনে নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৯ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে এবার কুরবানির পশু সংকট দেখা দিতে পারে। গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুপাতে পশু পালন করা হয়নি। এ কারণে কুরবানির পশুর কিছুটা সংকট হতে পারে। এদিকে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে কুরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতি বছর মধ্যস্বত্বভোগী চক্রটি সংকটকে পুঁজি করে অধিক মুনাফা লাভের পাঁয়তারা করে।

চট্টগ্রামে সাত লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি পশু মজুত রয়েছে। কিন্তু চাহিদার পরিমাণ আট লাখ ২১ হাজারটি। এ হিসাবে ৩০ হাজারের মতো পশুর সংকট রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলে আট হাজার ১৭১টি পশুর খামার রয়েছে। কিন্তু সব খামারে গত বছরের মতো পশু পালন করা হয়নি। ফলে কুরবানির পশু কিছুটা কম উৎপাদন হয়েছে। এ বছর কম পশু পালনের অন্যতম কারণ হলো-পশু খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া। এ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পশু পালন খাতে বিনিয়োগকে ঝুঁকি মনে করেছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুরবানির বাজার টার্গেট করে মৌসুমি বেপারিরা গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। প্রান্তিক খামারিদের গরু তারা কিনে নিচ্ছে। দুই-তিনটি গরু নিয়ে শহরে যেতে বেশি পরিবহণ ভাড়া লেগে যাওয়া এবং বেশি খরচ হওয়ার আশঙ্কায় খামারিরা বাড়ি থেকেই সেসব বিক্রি করে নিশ্চিন্ত থাকছেন। জেলার লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার প্রান্তিক এলাকা থেকে মৌসুমি বেপারিরা গরু কিনে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী-চট্টগ্রামে এবার কুরবানির জন্য গরুর সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৩টি, মহিষ ৬৬ হাজার ২৩৭টি, ছাগল ও ভেড়া এক লাখ ৮৯ হাজার ৬২টি এবং অন্য ৯৯টি পশু মজুত রয়েছে। ২০২১ সালে সাত লাখ ৪২ হাজার ৪৫৫টি পশু জবাই করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে সাত লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি পশু উৎপাদন করা হয়। ২০২০ সালে সাত লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬টি পশু জবাই করা হয়। ওই বছর স্থানীয়ভাবে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু উৎপাদিত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে এবার কুরবানির পশুর কিছুটা সংকট হতে পারে। চাহিদার চেয়ে ৩০ হাজারের মতো কুরবানির পশু ঘাটতি রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে চাহিদা অনুপাতে প্রতি বছর পশুর ঘাটতি থাকে। গোখাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তবে মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা উত্তরাঞ্চল থেকে কুরবানি পশু আনলে ঘাটতি পূরণ হবে। গোখাদ্যের দাম বেশি থাকায় বেপারিরা অবশ্য এখনো কুরবানির পশু আনেনি। আশা করি তেমন সমস্যা হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন