নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য ফোন ছিনতাই ও খুন বন্ধুর স্বীকারোক্তি
jugantor
বগুড়ায় শিশু নওফেল হত্যা
নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য ফোন ছিনতাই ও খুন বন্ধুর স্বীকারোক্তি

  বগুড়া ব্যুরো  

২৯ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার শাজাহানপুরে স্কুলছাত্র নওফেল শেখ (১৪) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে জন্মদিনে তাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এরপর সে ঠান্ডামাথায় যৌনকর্মীর সহায়তায় ফোন বিক্রি করে। ওই টাকা দিয়ে হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে বন্ধুসহ ফুর্তি করেছে। যৌনকর্মীর সহায়তায় ফোন উদ্ধার ও গ্রেফতারের পর সে পুলিশের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত মাফলার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ওই যৌনকর্মীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় আসামিকে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত শিশু নওফেল শেখ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দড়িগাছা গ্রামের ইসরাইল শেখের ছেলে। সে দাড়িগাছা ইসলামী উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাবা ইসরাইল শেখ গত দুমাস আগে জমি বিক্রি করে ১৮ হাজার টাকায় একমাত্র ছেলেকে স্মার্টফোন কিনে দেন। ঘাতক বন্ধু নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য তার মোবাইল ফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ১৮ জুন নওফেলের জন্মদিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধু তাকে ধূমপানের কথা বলে গ্রামের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। নওফেল ইউক্যালিপটাস গাছে হেলান দিয়ে ধূমপান করছিল। এ সময় মাফলার দেখিয়ে সে নওফেলকে ইয়ার্কির ছলে বলে, এটা দিয়ে সিনেমা স্টাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করলে কেমন হবে। তখন নওফেল বলে, মামা তুমি তো আমায় খুন করবে না। পরিকল্পনা অনুসারে নওফেলের গলায় মাফলার দিয়ে দুই প্যাঁচ দেয়। ফাঁস লেগে সে ছটছট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে যায়। তখন বন্ধু পাশের জমি থেকে বাঁশের লাঠি এনে মাথায় আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। সে পকেট থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে লাশ জঙ্গলে ফেলে ঠান্ডামাথায় বগুড়া শহরে আসে। এরপর সে মোবাইল ফোনে শেরপুর থেকে যৌনকর্মী জাকিয়া খাতুন বৃষ্টিকে (২০) বগুড়া শহরের সাতমাথায় ডেকে আনে। তারা ভাইবোন পরিচয়ে একটি পুরাতন ফোন কেনাবেচার দোকানে মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ফোনটি বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে তারা শহরের গালাপট্টি এলাকায় হোটেল টুইন ব্রাদার্সে যায় এবং দুই হাজার টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে ফুর্তি করে। সেখানে ফোনে অপর বন্ধুকে ডেকে আনে ফুর্তি করার জন্য। ফোন বিক্রির টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা যৌনকর্মী বৃষ্টিকে দিয়ে দুই বন্ধু এলাকায় ফিরে যায়।

এদিকে নওফেল শেখ বাড়িতে না ফেরায় পরদিন পরিবার থেকে শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়ারি করা হয়। ২০ জুন বিকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ওই জঙ্গলে নওফেলের পচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ তার লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা ইসরাইল শেখ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর ঘাতক বন্ধু গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করে। পুলিশ সুপার জানান, হত্যারহস্য উন্মোচন ও খুনিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রথমে শহরের সাতমাথার দোকান থেকে নওফেলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনের সূত্র ধরে যৌনকর্মী জাকিয়া খাতুন বৃষ্টিকে গ্রেফতার করলে হত্যারহস্য ও হত্যাকারীর পরিচয় মেলে। তাকে জেলহাজতে প্রেরণ এবং ২৭ জুন বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে নিহতের বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বন্ধু নওফেলকে হত্যার কারণ উল্লেখ করে স্বীকারোক্তি দেয়। তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন জঙ্গল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সাড়ে ছয় ফুট লম্বা লাল-কালো রঙের মাফলার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, কাগজপত্র না দেখে কম দামে মোবাইল ফোন কেনাবেচার জন্য ব্যবসায়ী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের বান্ধবীসহ রুম ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে হোটেল টুইন ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকালে শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নওফেল হত্যার একমাত্র আসামিকে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহানের আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, আদালত আসামির স্বীকারোক্তি রেকর্ড করছেন।

বগুড়ায় শিশু নওফেল হত্যা

নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য ফোন ছিনতাই ও খুন বন্ধুর স্বীকারোক্তি

 বগুড়া ব্যুরো 
২৯ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার শাজাহানপুরে স্কুলছাত্র নওফেল শেখ (১৪) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে জন্মদিনে তাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এরপর সে ঠান্ডামাথায় যৌনকর্মীর সহায়তায় ফোন বিক্রি করে। ওই টাকা দিয়ে হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে বন্ধুসহ ফুর্তি করেছে। যৌনকর্মীর সহায়তায় ফোন উদ্ধার ও গ্রেফতারের পর সে পুলিশের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত মাফলার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ওই যৌনকর্মীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় আসামিকে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত শিশু নওফেল শেখ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দড়িগাছা গ্রামের ইসরাইল শেখের ছেলে। সে দাড়িগাছা ইসলামী উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাবা ইসরাইল শেখ গত দুমাস আগে জমি বিক্রি করে ১৮ হাজার টাকায় একমাত্র ছেলেকে স্মার্টফোন কিনে দেন। ঘাতক বন্ধু নারীসঙ্গ লাভের টাকার জন্য তার মোবাইল ফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ১৮ জুন নওফেলের জন্মদিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধু তাকে ধূমপানের কথা বলে গ্রামের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। নওফেল ইউক্যালিপটাস গাছে হেলান দিয়ে ধূমপান করছিল। এ সময় মাফলার দেখিয়ে সে নওফেলকে ইয়ার্কির ছলে বলে, এটা দিয়ে সিনেমা স্টাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করলে কেমন হবে। তখন নওফেল বলে, মামা তুমি তো আমায় খুন করবে না। পরিকল্পনা অনুসারে নওফেলের গলায় মাফলার দিয়ে দুই প্যাঁচ দেয়। ফাঁস লেগে সে ছটছট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে যায়। তখন বন্ধু পাশের জমি থেকে বাঁশের লাঠি এনে মাথায় আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। সে পকেট থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে লাশ জঙ্গলে ফেলে ঠান্ডামাথায় বগুড়া শহরে আসে। এরপর সে মোবাইল ফোনে শেরপুর থেকে যৌনকর্মী জাকিয়া খাতুন বৃষ্টিকে (২০) বগুড়া শহরের সাতমাথায় ডেকে আনে। তারা ভাইবোন পরিচয়ে একটি পুরাতন ফোন কেনাবেচার দোকানে মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ফোনটি বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে তারা শহরের গালাপট্টি এলাকায় হোটেল টুইন ব্রাদার্সে যায় এবং দুই হাজার টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে ফুর্তি করে। সেখানে ফোনে অপর বন্ধুকে ডেকে আনে ফুর্তি করার জন্য। ফোন বিক্রির টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা যৌনকর্মী বৃষ্টিকে দিয়ে দুই বন্ধু এলাকায় ফিরে যায়।

এদিকে নওফেল শেখ বাড়িতে না ফেরায় পরদিন পরিবার থেকে শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়ারি করা হয়। ২০ জুন বিকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ওই জঙ্গলে নওফেলের পচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ তার লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা ইসরাইল শেখ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর ঘাতক বন্ধু গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করে। পুলিশ সুপার জানান, হত্যারহস্য উন্মোচন ও খুনিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রথমে শহরের সাতমাথার দোকান থেকে নওফেলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনের সূত্র ধরে যৌনকর্মী জাকিয়া খাতুন বৃষ্টিকে গ্রেফতার করলে হত্যারহস্য ও হত্যাকারীর পরিচয় মেলে। তাকে জেলহাজতে প্রেরণ এবং ২৭ জুন বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে নিহতের বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বন্ধু নওফেলকে হত্যার কারণ উল্লেখ করে স্বীকারোক্তি দেয়। তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন জঙ্গল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সাড়ে ছয় ফুট লম্বা লাল-কালো রঙের মাফলার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, কাগজপত্র না দেখে কম দামে মোবাইল ফোন কেনাবেচার জন্য ব্যবসায়ী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের বান্ধবীসহ রুম ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে হোটেল টুইন ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকালে শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নওফেল হত্যার একমাত্র আসামিকে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহানের আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, আদালত আসামির স্বীকারোক্তি রেকর্ড করছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন