মেহেরপুরের সীমান্ত গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে অ্যানথ্রাক্স
jugantor
মেহেরপুরের সীমান্ত গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে অ্যানথ্রাক্স
গাংনীতে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১৭৬ জন

  তোজাম্মেল আযম, মেহেরপুর  

২৯ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুর জেলায় ফের অ্যানথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গরু, ছাগল, মহিষ- এই তিন প্রাণির মাধ্যমেই অ্যানথ্রাক্স সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের মধ্যে বেশি ছড়াচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ যদিও বলছে, জনসচেতনতাই এর একমাত্র প্রতিকার। এজন্য খামারি ও পশু পালনকারীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু আক্রান্তরা বলছেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্বাস্থ্যবিভাগ সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলাতে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে রোগটি বহন করছেন। তাদের থেকেও রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। গাংনী হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭৬ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সের ক্ষত নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ৮৯ জন ও নারী ৮৭ জন। ২০২১ সালে একই এলাকায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন ৪১৭ জন। এদের মধ্যে নারী ২২৯ জন ও পুরুষ ১৮৮ জন। গাংনীর সীমান্ত গ্রাম কাজিপুর, হাড়াভাঙ্গা, তেঁতুলবাড়িয়া, কাথুলী ও ভাটপাড়া এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষণীয়।

অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাটপাড়া গ্রামের জিয়ারুল চৌধুরী জানান, কয়েক দিন আগে তার পালিত একটি ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছাগলটি জবাই করে মাংস নাড়াচাড়া করার কয়েক ঘণ্টা পরে তার একটি হাতে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই ফোস্কা ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হবার পর চিকিৎসক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। আক্রান্ত হাতটি আগুনে পুড়ে ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা।

একই গ্রামের চা দোকানি আব্দুল আলিম জানান, তিনি মাঝে মধ্যে কসাইয়ের কাজ করেন। প্রতিবেশী একজনের অসুস্থ ছাগল জবাই করার পর তার হাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ। ওই গ্রামের রাবেয়া খাতুন ছাগল ও গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ও গ্রামের কালোবুড়ির মিলে ১২টি ছাগল মারা গেছে অ্যানথ্রাক্স রোগে। পশু চিকিৎসকদের পরামর্শে মৃত ছাগল মাটিতে পুঁতে রাখেন। গাংনীর পলাশীপাড়া গ্রামের সোনিয়া, গোপাল নগর গ্রামের শিখা, কাজিপুর গ্রামের জুবায়ের হোসেন, কল্যাণপুর গ্রামের ওমর আলী জানান- গ্রামের হাট থেকে কেনা মাংস ধোয়ার পর থেকে তারা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আদিলা আজহার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সচেতন করা হচ্ছে। যেহেতু পশুর মাংস থেকে রোগটি ছড়াচ্ছে সেহেতু প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় জনসচেতনতায় গ্রামে কাজ করা। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্র্রয়োজন পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার। মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন, গরু, ছাগল ও মাটির সংস্পর্শে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তিনি স্বীকার করেন নতুন করে বেশ কয়েকটি গ্রামে অ্যানথ্রাক্স দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই করতে নিষেধ করা হচ্ছে।

মেহেরপুরের সীমান্ত গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে অ্যানথ্রাক্স

গাংনীতে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১৭৬ জন
 তোজাম্মেল আযম, মেহেরপুর 
২৯ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুর জেলায় ফের অ্যানথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গরু, ছাগল, মহিষ- এই তিন প্রাণির মাধ্যমেই অ্যানথ্রাক্স সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের মধ্যে বেশি ছড়াচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ যদিও বলছে, জনসচেতনতাই এর একমাত্র প্রতিকার। এজন্য খামারি ও পশু পালনকারীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু আক্রান্তরা বলছেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্বাস্থ্যবিভাগ সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলাতে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে রোগটি বহন করছেন। তাদের থেকেও রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। গাংনী হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭৬ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সের ক্ষত নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ৮৯ জন ও নারী ৮৭ জন। ২০২১ সালে একই এলাকায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন ৪১৭ জন। এদের মধ্যে নারী ২২৯ জন ও পুরুষ ১৮৮ জন। গাংনীর সীমান্ত গ্রাম কাজিপুর, হাড়াভাঙ্গা, তেঁতুলবাড়িয়া, কাথুলী ও ভাটপাড়া এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষণীয়।

অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাটপাড়া গ্রামের জিয়ারুল চৌধুরী জানান, কয়েক দিন আগে তার পালিত একটি ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছাগলটি জবাই করে মাংস নাড়াচাড়া করার কয়েক ঘণ্টা পরে তার একটি হাতে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই ফোস্কা ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হবার পর চিকিৎসক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। আক্রান্ত হাতটি আগুনে পুড়ে ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা।

একই গ্রামের চা দোকানি আব্দুল আলিম জানান, তিনি মাঝে মধ্যে কসাইয়ের কাজ করেন। প্রতিবেশী একজনের অসুস্থ ছাগল জবাই করার পর তার হাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ। ওই গ্রামের রাবেয়া খাতুন ছাগল ও গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ও গ্রামের কালোবুড়ির মিলে ১২টি ছাগল মারা গেছে অ্যানথ্রাক্স রোগে। পশু চিকিৎসকদের পরামর্শে মৃত ছাগল মাটিতে পুঁতে রাখেন। গাংনীর পলাশীপাড়া গ্রামের সোনিয়া, গোপাল নগর গ্রামের শিখা, কাজিপুর গ্রামের জুবায়ের হোসেন, কল্যাণপুর গ্রামের ওমর আলী জানান- গ্রামের হাট থেকে কেনা মাংস ধোয়ার পর থেকে তারা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আদিলা আজহার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সচেতন করা হচ্ছে। যেহেতু পশুর মাংস থেকে রোগটি ছড়াচ্ছে সেহেতু প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় জনসচেতনতায় গ্রামে কাজ করা। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্র্রয়োজন পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার। মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন, গরু, ছাগল ও মাটির সংস্পর্শে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তিনি স্বীকার করেন নতুন করে বেশ কয়েকটি গ্রামে অ্যানথ্রাক্স দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই করতে নিষেধ করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন