বিআরটিসিসহ অন্য বাস চলাচলে বাধা
jugantor
শরীয়তপুরে মালিক গ্রুপের সিন্ডিকেট
বিআরটিসিসহ অন্য বাস চলাচলে বাধা
যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতু চালু হলেও শরীয়তপুরের বাসযাত্রীদের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এর কারণ জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপ। তাদের লোকজন বিআরটিসিসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি চলাচলে বাধা দিচ্ছে। যদিও মালিক গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত বাস নেই। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লোকাল বাস বা অন্য পরিবহণে মাঝির ঘাটে গিয়ে সেখান থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। পদ্মা সেতু চালু হলেও সুফল তারা পাচ্ছেন না।

যাত্রীদের অভিযোগ, মালিক গ্রুপের কাছে প্রয়োজনীয় বাস নেই। কিন্তু তারা বিআরটিসি বাসে উঠতে দিচ্ছে না। তাদের ফিরতি বাস অনেক বিলম্বে আসে। আর সেই বাসেই যাত্রীদের যেতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী লোকাল বাস, অটো, স্কুটার, সিএনজিতে ঘাটে যাচ্ছে। সেখান থেকেই সেই আগের মতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ, ট্রলার, সিবোটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাচ্ছে। তাহলে পদ্মা সেতু হয়ে কি লাভ হলো। একটি গোষ্ঠী ব্যবসায়িক স্বার্থে যাত্রীদের হায়রানি করছে।

শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও নড়িয়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, যেখানে পদ্মা সেতু দিয়ে ২ ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়ার কথা। মালিক গ্রুপের সিন্ডিকেটের কারণে সেখানে ৪ ঘণ্টায়ও যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছতে পারছেন না। জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস নামের মাত্র ১৫টি বাস ঢাকা-শরীয়তপুর যাতায়াত করে। এটা যাত্রীর তুলনায় একেবারেই কম। সকাল ৬টা থেকে চলা শুরু করলে ৮টার মধ্যেই তাদের গাড়ি শেষ হয়ে যায়। যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন।

বুধবার সরেজমিন শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযোগের সত্যতা মেলে। মালিক গ্রুপের লোকজন বিআরটিসিসহ নতুন অন্য কোম্পানির বাসে যাত্রী উঠতে দিচ্ছে না। তারা যাত্রীদের হয়রানি করছেন। এখানেই শেষ নয়, শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ২১৯ টাকার পরিবর্তে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর-ঢাকা রুটে মালিক গ্রুপের ১৫টি বাস চলাচল করে। বাসগুলোর রুট পারমিটতো নেই, পাশাপাশি মালিক গ্রুপ যে কোম্পানির নামে বাস চালাচ্ছে তারও অনুমোদন নেই।

মামুন ঢালী, কবির মিয়া, শাহিন কাজীসহ কয়েকজন যাত্রী জানান, বাস সংকটের কারণে আমরা শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে মাঝির ঘাট হয়ে লঞ্চে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিআরটিসি ডিপো ইনচার্জ বুলবুল আহামেদ বলেন, আজ (বুধবার) আমাদের গাড়ি ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের গোসাইর হাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় যাওয়ার সময় শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। মালিক গ্রুপের লোকজন বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী উঠতে-নামতে দিচ্ছে না। এটা দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আমাদের সবকটি গাড়ি নতুন। এর কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি। রোড পারমিটের জন্য আবেদন করেছি। অন্য কোম্পানির বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এ জেলায় খারাপ রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে অনেক লোকসান দিয়েছি। এখন কেউ ব্যবসা করতে এলে তাদের আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, যাত্রী দুর্ভোগ ও হয়রানির কথা শুনেছি। লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি। যাদের রোড পারমিট নেই তাদের দ্রুত রোড পারমিট আনতে হবে।

শরীয়তপুরে মালিক গ্রুপের সিন্ডিকেট

বিআরটিসিসহ অন্য বাস চলাচলে বাধা

যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
 কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতু চালু হলেও শরীয়তপুরের বাসযাত্রীদের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এর কারণ জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপ। তাদের লোকজন বিআরটিসিসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি চলাচলে বাধা দিচ্ছে। যদিও মালিক গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত বাস নেই। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লোকাল বাস বা অন্য পরিবহণে মাঝির ঘাটে গিয়ে সেখান থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। পদ্মা সেতু চালু হলেও সুফল তারা পাচ্ছেন না।

যাত্রীদের অভিযোগ, মালিক গ্রুপের কাছে প্রয়োজনীয় বাস নেই। কিন্তু তারা বিআরটিসি বাসে উঠতে দিচ্ছে না। তাদের ফিরতি বাস অনেক বিলম্বে আসে। আর সেই বাসেই যাত্রীদের যেতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী লোকাল বাস, অটো, স্কুটার, সিএনজিতে ঘাটে যাচ্ছে। সেখান থেকেই সেই আগের মতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ, ট্রলার, সিবোটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাচ্ছে। তাহলে পদ্মা সেতু হয়ে কি লাভ হলো। একটি গোষ্ঠী ব্যবসায়িক স্বার্থে যাত্রীদের হায়রানি করছে।

শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও নড়িয়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, যেখানে পদ্মা সেতু দিয়ে ২ ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়ার কথা। মালিক গ্রুপের সিন্ডিকেটের কারণে সেখানে ৪ ঘণ্টায়ও যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছতে পারছেন না। জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস নামের মাত্র ১৫টি বাস ঢাকা-শরীয়তপুর যাতায়াত করে। এটা যাত্রীর তুলনায় একেবারেই কম। সকাল ৬টা থেকে চলা শুরু করলে ৮টার মধ্যেই তাদের গাড়ি শেষ হয়ে যায়। যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন।

বুধবার সরেজমিন শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযোগের সত্যতা মেলে। মালিক গ্রুপের লোকজন বিআরটিসিসহ নতুন অন্য কোম্পানির বাসে যাত্রী উঠতে দিচ্ছে না। তারা যাত্রীদের হয়রানি করছেন। এখানেই শেষ নয়, শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ২১৯ টাকার পরিবর্তে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর-ঢাকা রুটে মালিক গ্রুপের ১৫টি বাস চলাচল করে। বাসগুলোর রুট পারমিটতো নেই, পাশাপাশি মালিক গ্রুপ যে কোম্পানির নামে বাস চালাচ্ছে তারও অনুমোদন নেই।

মামুন ঢালী, কবির মিয়া, শাহিন কাজীসহ কয়েকজন যাত্রী জানান, বাস সংকটের কারণে আমরা শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে মাঝির ঘাট হয়ে লঞ্চে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিআরটিসি ডিপো ইনচার্জ বুলবুল আহামেদ বলেন, আজ (বুধবার) আমাদের গাড়ি ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের গোসাইর হাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় যাওয়ার সময় শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। মালিক গ্রুপের লোকজন বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী উঠতে-নামতে দিচ্ছে না। এটা দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আমাদের সবকটি গাড়ি নতুন। এর কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি। রোড পারমিটের জন্য আবেদন করেছি। অন্য কোম্পানির বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এ জেলায় খারাপ রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে অনেক লোকসান দিয়েছি। এখন কেউ ব্যবসা করতে এলে তাদের আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, যাত্রী দুর্ভোগ ও হয়রানির কথা শুনেছি। লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি। যাদের রোড পারমিট নেই তাদের দ্রুত রোড পারমিট আনতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন