গাজীপুরে চাহিদা সোয়া লাখ প্রস্তুত ৮৯ হাজার গবাদি পশু
jugantor
আসন্ন ঈদুল আজহা
গাজীপুরে চাহিদা সোয়া লাখ প্রস্তুত ৮৯ হাজার গবাদি পশু

  গাজীপুর প্রতিনিধি  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে কুরবানির জন্য গবাদি পশুর আনুমানিক চাহিদা রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৭০৮টি। এর মধ্যে বিভিন্ন এগ্রোফার্ম বা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ছোট ছোট মোটাতাজাকরণ খামারিদের দ্বারা কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আনুমানিক ৮৮ হাজার ৭০০ পশু। তবে, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের দাবি যেসব বাড়িতে ১-২টি করে গরু আছে ওই সবের হিসাব মিলালে জেলায় পশুর ঘাটতি থাকবে না। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেসব পশু গাজীপুরে আনেন তাতে করে ঘাটতি থাকার কোনো কারণ নেই।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হায়দারাবাদের আক্কাস মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ এগ্রোফার্ম লিমিটেড, ঝাজর এলাকার ডিজাইন এগ্রোফার্ম, সালনা এলাকার নাহার এগ্রোফার্ম ও গাজীপুর সদর উপজেলার জামুনা এলাকার বে-একোয়া এগ্রোফার্ম পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ফার্মগুলোতে গরু পালনের পরিচর্যা চলছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ এগ্রোতে রয়েছে দুই শতাধিক পশু। ফার্মটির মালিক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। ঝাজর এলাকার ডিজাইন এগোফার্মের কোঅর্ডিনেটর মো. আজিম জানান, তাদের ফার্মে ১২০০ কেজি থেকে শুরু করে ছোট বড় প্রায় সাড়ে ৫০০ গরু আছে। কুরবানি উপলক্ষ্যে গরু বিক্রির কার্যক্রম চলছে আরও আগে থেকে। তাদের মার্কেটিং চলে অনলাইনে। ক্রেতারা ফার্মে এসে পছন্দমতো গরু কিনে নিয়ে যান। এর জন্য কোনো হাটে যেতে হয় না। গত রমজান থেকে বাজার ভালো যাচ্ছে। কারণ হচ্ছে, টানা দুবার লগডাউন থাকার ফলে দুই বছর গরু পালনের পর খামারিদের তা বিক্রির খুব প্রয়োজন ছিল। এবার বাজার ভালো যাবে, এমনটা ভেবে ছোট ছোট পাইকাররা বিভিন্ন হাট থেকে দাম দিয়ে গরু কিনছেন। তারা বিভিন্ন ফার্ম থেকেও ১০-২০টি করে এক সঙ্গে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল থেকে গাজীপুরে এসে বিভিন্ন বাজার ঘুরে কুরবানির পশু কিনেন সাইফুল ইসলাম (৫০)। তিনি জানান, বিভিন্ন হাট থেকে ইতোমধ্যে ৬-৭টি গরু কিনেছেন এবং চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি ভাড়া জমিতে রেখেছেন। চলতি বাজার একটু চড়া। ফলে তিনিও ভালো দাম পাবেন।

জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. হেলাল আহাম্মেদ জানান, খামারিরা এখন পশুগুলো দ্রুত মোটাতাজাকরণের জন্য ওষুধ খাওয়ান না। তবে, বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে না খেয়ে দুই-তিন দিন দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কিছু খোড়া রোগের ঘটনা ঘটছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় কুরবানির জন্য ১,২৮,৭০৮টি পশু প্রয়োজন। এ পর্যন্ত খামারিরা ৮৮,৭০০টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে সদরে ৬০৪৩, কালিয়াকৈরে ২৪৫৪০, শ্রীপুরে ৬০৪৮, কাপাসিয়ায় ১১৯১৮ ও কালিগঞ্জে ২৮২৩৬টি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। যার মধ্যে ষাঁড় গরুর সংখ্যা ৪১১৪৩, বলদ ৪১২৪, গাভি ১০৫২০, মহিষ ১৪৩১, ছাগল ২৭৫৫৭ এবং ভেড়া রয়েছে ৩৮২৫টি। জানা গেছে, জেলা সদরে খামারির সংখ্যা ৯৩০, কালিয়াকৈরে ৯৯১, শ্রীপুরে ১২৮৪, কাপাসিয়ায় ১৩০৮ ও কালিগঞ্জে ১২১০ জন খামারি রয়েছেন। গাজীপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও হাট ঘুরে পশু কিনছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কুরবানির জন্য গরু কিনে মজুত শুরু করেছেন তারা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভানুয়া এসকে ডেইরি ফার্মের পরিচালক মাসুদ সরকার বলেন, আমাদের ফার্মে গরু রয়েছে ৫০টি। গরুকে মোটাতাজা করার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে না। মাঠের সবুজ ঘাস কেটে খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তার দাবি, ভারতীয় গবাদি পশু দেশে না ঢুকতে দিলে ভালো দাম পাবেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম উকিল উদ্দিন বলেন, গাজীপুরে কুরবানির পশুর ঘাটতি হবে না। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। জেলায় ৩৮টি বাজার রয়েছে। প্রতিটি বাজারেই তাদের টিম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মীরা থাকবেন। সার্জন এবং ডাক্তারসহ ১২টি টিম প্রস্তুত আছে। তারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে থাকবেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা

গাজীপুরে চাহিদা সোয়া লাখ প্রস্তুত ৮৯ হাজার গবাদি পশু

 গাজীপুর প্রতিনিধি 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে কুরবানির জন্য গবাদি পশুর আনুমানিক চাহিদা রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৭০৮টি। এর মধ্যে বিভিন্ন এগ্রোফার্ম বা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ছোট ছোট মোটাতাজাকরণ খামারিদের দ্বারা কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আনুমানিক ৮৮ হাজার ৭০০ পশু। তবে, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের দাবি যেসব বাড়িতে ১-২টি করে গরু আছে ওই সবের হিসাব মিলালে জেলায় পশুর ঘাটতি থাকবে না। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেসব পশু গাজীপুরে আনেন তাতে করে ঘাটতি থাকার কোনো কারণ নেই।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হায়দারাবাদের আক্কাস মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ এগ্রোফার্ম লিমিটেড, ঝাজর এলাকার ডিজাইন এগ্রোফার্ম, সালনা এলাকার নাহার এগ্রোফার্ম ও গাজীপুর সদর উপজেলার জামুনা এলাকার বে-একোয়া এগ্রোফার্ম পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ফার্মগুলোতে গরু পালনের পরিচর্যা চলছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ এগ্রোতে রয়েছে দুই শতাধিক পশু। ফার্মটির মালিক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। ঝাজর এলাকার ডিজাইন এগোফার্মের কোঅর্ডিনেটর মো. আজিম জানান, তাদের ফার্মে ১২০০ কেজি থেকে শুরু করে ছোট বড় প্রায় সাড়ে ৫০০ গরু আছে। কুরবানি উপলক্ষ্যে গরু বিক্রির কার্যক্রম চলছে আরও আগে থেকে। তাদের মার্কেটিং চলে অনলাইনে। ক্রেতারা ফার্মে এসে পছন্দমতো গরু কিনে নিয়ে যান। এর জন্য কোনো হাটে যেতে হয় না। গত রমজান থেকে বাজার ভালো যাচ্ছে। কারণ হচ্ছে, টানা দুবার লগডাউন থাকার ফলে দুই বছর গরু পালনের পর খামারিদের তা বিক্রির খুব প্রয়োজন ছিল। এবার বাজার ভালো যাবে, এমনটা ভেবে ছোট ছোট পাইকাররা বিভিন্ন হাট থেকে দাম দিয়ে গরু কিনছেন। তারা বিভিন্ন ফার্ম থেকেও ১০-২০টি করে এক সঙ্গে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল থেকে গাজীপুরে এসে বিভিন্ন বাজার ঘুরে কুরবানির পশু কিনেন সাইফুল ইসলাম (৫০)। তিনি জানান, বিভিন্ন হাট থেকে ইতোমধ্যে ৬-৭টি গরু কিনেছেন এবং চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি ভাড়া জমিতে রেখেছেন। চলতি বাজার একটু চড়া। ফলে তিনিও ভালো দাম পাবেন।

জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. হেলাল আহাম্মেদ জানান, খামারিরা এখন পশুগুলো দ্রুত মোটাতাজাকরণের জন্য ওষুধ খাওয়ান না। তবে, বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে না খেয়ে দুই-তিন দিন দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কিছু খোড়া রোগের ঘটনা ঘটছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় কুরবানির জন্য ১,২৮,৭০৮টি পশু প্রয়োজন। এ পর্যন্ত খামারিরা ৮৮,৭০০টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে সদরে ৬০৪৩, কালিয়াকৈরে ২৪৫৪০, শ্রীপুরে ৬০৪৮, কাপাসিয়ায় ১১৯১৮ ও কালিগঞ্জে ২৮২৩৬টি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। যার মধ্যে ষাঁড় গরুর সংখ্যা ৪১১৪৩, বলদ ৪১২৪, গাভি ১০৫২০, মহিষ ১৪৩১, ছাগল ২৭৫৫৭ এবং ভেড়া রয়েছে ৩৮২৫টি। জানা গেছে, জেলা সদরে খামারির সংখ্যা ৯৩০, কালিয়াকৈরে ৯৯১, শ্রীপুরে ১২৮৪, কাপাসিয়ায় ১৩০৮ ও কালিগঞ্জে ১২১০ জন খামারি রয়েছেন। গাজীপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও হাট ঘুরে পশু কিনছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কুরবানির জন্য গরু কিনে মজুত শুরু করেছেন তারা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভানুয়া এসকে ডেইরি ফার্মের পরিচালক মাসুদ সরকার বলেন, আমাদের ফার্মে গরু রয়েছে ৫০টি। গরুকে মোটাতাজা করার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে না। মাঠের সবুজ ঘাস কেটে খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তার দাবি, ভারতীয় গবাদি পশু দেশে না ঢুকতে দিলে ভালো দাম পাবেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম উকিল উদ্দিন বলেন, গাজীপুরে কুরবানির পশুর ঘাটতি হবে না। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। জেলায় ৩৮টি বাজার রয়েছে। প্রতিটি বাজারেই তাদের টিম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মীরা থাকবেন। সার্জন এবং ডাক্তারসহ ১২টি টিম প্রস্তুত আছে। তারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে থাকবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন