শাহজাদপুরে ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত
jugantor
শাহজাদপুরে ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত

  শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এ বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গো-সম্পদের রাজধানী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে গরু ৪৫ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ২৫ হাজার।

শাহজাদপুর প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও গো-খামারিরা আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ বছর ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছে। এরমধ্যে গরু ৪৫ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ২৫ হাজার। এর সিংহভাগই প্রস্তুত করেছে দুর্গম যমুনা নদীর চরাঞ্চলের হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষকরা। তারা চরের তাজা ঘাস ও সুষম খাদ্য খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে এসব গবাদি পশু প্রস্তুত করায় গরুগুলো যেমন হৃষ্টপুষ্ট তেমনি মোটাতাজা ও দেখতে অতি সুন্দর। ফলে সহজেই এ অঞ্চলের ক্রেতাদের মন আকৃষ্ট করছে। হাটবাজারে এ এলাকার গবাদি পশুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বুধবার ভোর থেকে যমুনা নদীবেষ্টিত সোনাতনী ইউনিয়নের বানতিয়ার ও ছোট চামতারা গ্রাম থেকে নৌকাযোগে এসব গবাদি পশু ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটে যাওয়া শুরু করেছে।

বানতিয়ার গ্রামের সোনা মিয়া জানান, বুধবার বাদ ফজর আমাদের গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠের কুরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে দেড় শতাধিক ষাড় গরু নিয়ে ৫টি নৌকা ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে অন্তত ২০টি গরু রয়েছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা মূল্যের। এছাড়া বাকিগুলো আড়াই লাখ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের হবে। এছাড়া আগামীকাল থেকে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় গরু নিয়ে আরও শতাধিক নৌকা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। তিনি জানান, চরের অধিকাংশ মানুষ হতদরিদ্র। একাধিক ভাঙনে বাড়িঘর যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এরা অন্যের জমি বছরে ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ঘর তুলে বাস করে। জীবিকার তাগিদে তারা বসবাসের ঘরের এক কোণে ২/১টি করে ষাঁড় গরু লালন-পালন করে। কুরবানির ঈদে এসব পশু বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে তাদের সারা বছরের খাওয়ার খরচ চলে। আর যাদের একটু অবস্থা ভালো তারা ৪ থেকে ১০টি ষাঁড় গরু বছরজুড়ে লালন-পালন করে। এ আয়ের অর্থ দিয়ে তাদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে। এছাড়া মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা রয়েছে। তারা প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ও স্থানীয় হাট থেকে কুরবানির পশু কিনে নৌকাযোগে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটে বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হয়। এদেরকে স্থানীয়ভাবে ব্যাপারী বলে। একেকজন ব্যাপারী ২০-২৫টি থেকে শুরু করে ২০০ থেকে ৪০০টি করে ষাঁড় গরু কিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে বিক্রি করে। এরমধ্যে জামিরতা গ্রামের মানিক ব্যাপারী বলেন, তার খামারে ১৪টি গরু লালন-পালন করা হয়েছে। ২০-২৫টি ষাঁড় গরু প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যাবেন।

এবারও রেশমবাড়ি গ্রামের সালাম ব্যাপারী ২০০টি, গাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ১০০টি, পোতাজিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ৬০টি, জামিরতা গ্রামের জহুরুল হাজী ২০টি, পাচিল গ্রামের আব্দুল আলীম ৫০টি, অহেদ আলী ১০টি, মির্জা সরকার ৬০টি ষাঁড় গরু কিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ছোট চামতারা গ্রামের ইয়ামিন মোল্লা জানান, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি এক বছর আগে ২টি ষাঁড় গরু ২ লাখ টাকা দিয়ে কিনে লালন-পালন করছেন। এ দুই গরুর খাওয়া খরচ বাবদ ১ বছরে আরও ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কুরবানির ঈদের হাটে তিনি এ দুটি গরু ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। লাভের টাকা দিয়ে তার সারা বছরের সংসার খরচ চলবে। তার মতো এ গ্রামের মোদালেব হোসেন দুটি, আব্দুর রাজ্জাক চারটি, ইউনুস সরকার দুটি, বানতিয়ার গ্রামের কুলসুম বেগম চারটি, অয়জাল সরকার একটি ষাঁড় গরু কিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ২ লাখ ৮০ হাজার গরু রয়েছে। এখানে গো-খামার রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এ বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গো-খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা ৪৫ হাজার ষাঁড় গরু ও ২৫ হাজার ছাগল-ভেড়া মোটাতাজা ও লালন-পালন করেছেন। তারা এলাকার চাহিদা পূরণ করে এ বছরও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে এ গরু নিয়ে যাবেন। এ জন্য আমাদের তরফ থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। এ এলাকার গবাদি পশুকে প্রাকৃতিক উপায়ে তাজা ঘাস ও সুষম খাদ্য খাওয়ায়ে মোটাতাজা ও লালন-পালন করা হয়। এখানে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। ফলে এ এলাকার গবাদি পশুর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় দেশের সর্বত্র এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

শাহজাদপুরে ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত

 শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এ বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গো-সম্পদের রাজধানী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে গরু ৪৫ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ২৫ হাজার।

শাহজাদপুর প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও গো-খামারিরা আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ বছর ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছে। এরমধ্যে গরু ৪৫ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ২৫ হাজার। এর সিংহভাগই প্রস্তুত করেছে দুর্গম যমুনা নদীর চরাঞ্চলের হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষকরা। তারা চরের তাজা ঘাস ও সুষম খাদ্য খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে এসব গবাদি পশু প্রস্তুত করায় গরুগুলো যেমন হৃষ্টপুষ্ট তেমনি মোটাতাজা ও দেখতে অতি সুন্দর। ফলে সহজেই এ অঞ্চলের ক্রেতাদের মন আকৃষ্ট করছে। হাটবাজারে এ এলাকার গবাদি পশুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বুধবার ভোর থেকে যমুনা নদীবেষ্টিত সোনাতনী ইউনিয়নের বানতিয়ার ও ছোট চামতারা গ্রাম থেকে নৌকাযোগে এসব গবাদি পশু ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটে যাওয়া শুরু করেছে।

বানতিয়ার গ্রামের সোনা মিয়া জানান, বুধবার বাদ ফজর আমাদের গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠের কুরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে দেড় শতাধিক ষাড় গরু নিয়ে ৫টি নৌকা ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে অন্তত ২০টি গরু রয়েছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা মূল্যের। এছাড়া বাকিগুলো আড়াই লাখ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের হবে। এছাড়া আগামীকাল থেকে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় গরু নিয়ে আরও শতাধিক নৌকা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। তিনি জানান, চরের অধিকাংশ মানুষ হতদরিদ্র। একাধিক ভাঙনে বাড়িঘর যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এরা অন্যের জমি বছরে ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ঘর তুলে বাস করে। জীবিকার তাগিদে তারা বসবাসের ঘরের এক কোণে ২/১টি করে ষাঁড় গরু লালন-পালন করে। কুরবানির ঈদে এসব পশু বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে তাদের সারা বছরের খাওয়ার খরচ চলে। আর যাদের একটু অবস্থা ভালো তারা ৪ থেকে ১০টি ষাঁড় গরু বছরজুড়ে লালন-পালন করে। এ আয়ের অর্থ দিয়ে তাদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে। এছাড়া মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা রয়েছে। তারা প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ও স্থানীয় হাট থেকে কুরবানির পশু কিনে নৌকাযোগে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটে বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হয়। এদেরকে স্থানীয়ভাবে ব্যাপারী বলে। একেকজন ব্যাপারী ২০-২৫টি থেকে শুরু করে ২০০ থেকে ৪০০টি করে ষাঁড় গরু কিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে বিক্রি করে। এরমধ্যে জামিরতা গ্রামের মানিক ব্যাপারী বলেন, তার খামারে ১৪টি গরু লালন-পালন করা হয়েছে। ২০-২৫টি ষাঁড় গরু প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যাবেন।

এবারও রেশমবাড়ি গ্রামের সালাম ব্যাপারী ২০০টি, গাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ১০০টি, পোতাজিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ৬০টি, জামিরতা গ্রামের জহুরুল হাজী ২০টি, পাচিল গ্রামের আব্দুল আলীম ৫০টি, অহেদ আলী ১০টি, মির্জা সরকার ৬০টি ষাঁড় গরু কিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ছোট চামতারা গ্রামের ইয়ামিন মোল্লা জানান, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি এক বছর আগে ২টি ষাঁড় গরু ২ লাখ টাকা দিয়ে কিনে লালন-পালন করছেন। এ দুই গরুর খাওয়া খরচ বাবদ ১ বছরে আরও ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কুরবানির ঈদের হাটে তিনি এ দুটি গরু ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। লাভের টাকা দিয়ে তার সারা বছরের সংসার খরচ চলবে। তার মতো এ গ্রামের মোদালেব হোসেন দুটি, আব্দুর রাজ্জাক চারটি, ইউনুস সরকার দুটি, বানতিয়ার গ্রামের কুলসুম বেগম চারটি, অয়জাল সরকার একটি ষাঁড় গরু কিনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ২ লাখ ৮০ হাজার গরু রয়েছে। এখানে গো-খামার রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এ বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গো-খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা ৪৫ হাজার ষাঁড় গরু ও ২৫ হাজার ছাগল-ভেড়া মোটাতাজা ও লালন-পালন করেছেন। তারা এলাকার চাহিদা পূরণ করে এ বছরও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে এ গরু নিয়ে যাবেন। এ জন্য আমাদের তরফ থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। এ এলাকার গবাদি পশুকে প্রাকৃতিক উপায়ে তাজা ঘাস ও সুষম খাদ্য খাওয়ায়ে মোটাতাজা ও লালন-পালন করা হয়। এখানে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। ফলে এ এলাকার গবাদি পশুর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় দেশের সর্বত্র এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন