ভুয়া স্মারকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা
jugantor
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল
ভুয়া স্মারকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার ভুয়া স্মারক নম্বর ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার ওই বিল ছাড়ানোর চেষ্টা করেন হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. ফোরকান। বিলে স্বাক্ষর করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও। তবে শেষ পর্যন্ত স্মারক পরিবর্তনের জালিয়াতি ধরা পড়ে হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে। এ বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়ার বিলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একটি বিলের স্মারক নম্বর ব্যবহার করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নাম মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই টাকা তুলে নিতে স্মারক নম্বর জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বেডসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে। কিন্তু সেখানে অনিয়ম ধরা পড়ায় দুদকে মামলা হয়। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থও আটকে যায়। এছাড়া অনিয়ম ধরা পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই সব সামগ্রী বুঝে না নিলেও শেষ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের সময় মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করতে শুরু করে। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকায় আটটি আইসিইউ বেড ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ। কেনাকাটায় অনিয়ম ধরা পড়ায় দুদকে মামলা হয়। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষে বুঝে না নেওয়ায় দীর্ঘদিন ওই সব সামগ্রী পড়ে ছিল। তবে করোনা মহামারির বিশেষ পরিস্থিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে পড়ে থাকা ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করা শুরু হয়। তখন থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল নেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে। কিন্তু সঠিক স্মারক নম্বর ব্যবহার করে অর্থ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুদকের মামলা। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একটি পুরোনো বকেয়া বিলের স্মারক নম্বর ব্যবহার করে কৌশলে টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

কথা হয় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন সংক্রান্ত ২০১৩-১৪ সালের প্রায় ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার একটি বকেয়া বিল নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে। চমেক হাসপাতালের একটি বিলের স্মারক নম্বর ব্যবহার করে জেনারেল হাসপাতালের বকেয়া বিলটি উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছিল। শেষ মুহূর্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের হিসাবরক্ষক, যারাই জড়িত তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে।’

আইনগত কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘এতদিন আইসিইউ’র মালামালগুলো রিসিভ করা হয়নি। কোভিডের সময় সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। ফলে বিল ছাড়ের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু স্মারক নম্বর যাচাই করার দায়িত্ব হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার। ঘটনাটি জানার পর থেকে প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম। পরে পুলিশসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বুধবার দুদককে বিষয়টি জানানো হয়। তারা যেহেতু আগে থেকেই যন্ত্রপাতি ক্রয় কার্যাদেশ জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করছে, ভুয়া স্মারকে বিল তুলে নেওয়ার নতুন বিষয়টিও দুদক তদন্ত করবে। বৃহস্পতিবার কিছু কাগজপত্রসহ দুদক কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

সূত্র বলছে, বিলের কাগজ তৈরি করেন হিসাবরক্ষক ফোরকান। বিলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের স্বাক্ষর নেওয়ার পর মঙ্গলবারই বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক অফিসে নিয়ে যান ফোরকান। নিয়ন্ত্রক অফিসের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তার সন্দেহ হলে যাচাই-বাছাই শুরু করেন। তাতেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

এর আগে ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কার্যাদেশের মাধ্যমে আইসিইউর জন্য ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদনেরও ব্যবস্থা করা হয়। ওই বছরের মে মাসে ‘ভুয়া কার্যাদেশ’র বিপরীতে অর্থ ছাড়েরও অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে শেষ মুহূর্তে ভুয়া কার্যাদেশের বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই যন্ত্রপাতি গ্রহণ করা হয়নি। ওই কাজের সঙ্গেও জড়িত ছিল ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহমেদ এন্টারপ্রাইজ।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

ভুয়া স্মারকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার ভুয়া স্মারক নম্বর ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার ওই বিল ছাড়ানোর চেষ্টা করেন হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. ফোরকান। বিলে স্বাক্ষর করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও। তবে শেষ পর্যন্ত স্মারক পরিবর্তনের জালিয়াতি ধরা পড়ে হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে। এ বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়ার বিলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একটি বিলের স্মারক নম্বর ব্যবহার করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নাম মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই টাকা তুলে নিতে স্মারক নম্বর জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বেডসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে। কিন্তু সেখানে অনিয়ম ধরা পড়ায় দুদকে মামলা হয়। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থও আটকে যায়। এছাড়া অনিয়ম ধরা পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই সব সামগ্রী বুঝে না নিলেও শেষ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের সময় মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করতে শুরু করে। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকায় আটটি আইসিইউ বেড ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ। কেনাকাটায় অনিয়ম ধরা পড়ায় দুদকে মামলা হয়। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষে বুঝে না নেওয়ায় দীর্ঘদিন ওই সব সামগ্রী পড়ে ছিল। তবে করোনা মহামারির বিশেষ পরিস্থিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে পড়ে থাকা ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করা শুরু হয়। তখন থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল নেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে। কিন্তু সঠিক স্মারক নম্বর ব্যবহার করে অর্থ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুদকের মামলা। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একটি পুরোনো বকেয়া বিলের স্মারক নম্বর ব্যবহার করে কৌশলে টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

কথা হয় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন সংক্রান্ত ২০১৩-১৪ সালের প্রায় ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার একটি বকেয়া বিল নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে। চমেক হাসপাতালের একটি বিলের স্মারক নম্বর ব্যবহার করে জেনারেল হাসপাতালের বকেয়া বিলটি উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছিল। শেষ মুহূর্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের হিসাবরক্ষক, যারাই জড়িত তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে।’

আইনগত কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘এতদিন আইসিইউ’র মালামালগুলো রিসিভ করা হয়নি। কোভিডের সময় সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। ফলে বিল ছাড়ের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু স্মারক নম্বর যাচাই করার দায়িত্ব হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার। ঘটনাটি জানার পর থেকে প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম। পরে পুলিশসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বুধবার দুদককে বিষয়টি জানানো হয়। তারা যেহেতু আগে থেকেই যন্ত্রপাতি ক্রয় কার্যাদেশ জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করছে, ভুয়া স্মারকে বিল তুলে নেওয়ার নতুন বিষয়টিও দুদক তদন্ত করবে। বৃহস্পতিবার কিছু কাগজপত্রসহ দুদক কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

সূত্র বলছে, বিলের কাগজ তৈরি করেন হিসাবরক্ষক ফোরকান। বিলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের স্বাক্ষর নেওয়ার পর মঙ্গলবারই বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক অফিসে নিয়ে যান ফোরকান। নিয়ন্ত্রক অফিসের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তার সন্দেহ হলে যাচাই-বাছাই শুরু করেন। তাতেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

এর আগে ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কার্যাদেশের মাধ্যমে আইসিইউর জন্য ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদনেরও ব্যবস্থা করা হয়। ওই বছরের মে মাসে ‘ভুয়া কার্যাদেশ’র বিপরীতে অর্থ ছাড়েরও অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে শেষ মুহূর্তে ভুয়া কার্যাদেশের বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই যন্ত্রপাতি গ্রহণ করা হয়নি। ওই কাজের সঙ্গেও জড়িত ছিল ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহমেদ এন্টারপ্রাইজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন