মিয়ানমার-জাতিসংঘ প্রত্যাবাসন চুক্তি

বাস্তবায়নে শঙ্কায় রোহিঙ্গারা

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার-জাতিসংঘ চুক্তি বাস্তবায়নে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোহিঙ্গা নেতারা। বুধবার নেপিদোতে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সোহার্দ্যপূর্ণ রোহিঙ্গা প্রত্যবাসনে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির আওতায় ‘পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য একটি রূপরেখা’ তৈরির অঙ্গীকারও করা হয়েছে। এতে ‘স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনে পরিবেশ তৈরি করতে উভয়পক্ষ সম্মত হলেও চুক্তি কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে রোহিঙ্গা নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

তারা বলছেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন করা হলে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী। তবে এবারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। সে চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রত্যাবাসনের ধোঁয়াশা কাটছে না বলে দাবি করছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জানুয়ারিতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দায়সারা চুক্তি হলেও ওই চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। অথচ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মিয়ানমারে নিয়োজিত জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক বিষয় সমন্বয়কারী নাট ওৎসবি। এ সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে অনেক কাজ হবে এবং সে কাজগুলোকে অবমূল্যায়ন করা উচিত হবে না বলে মনে করছেন ওৎসবি।

তিনি বলেন, ‘অনেক কাজ করার আছে। এ কাজকে হেয়প্রতিপন্ন করা ঠিক নয়। আমরা প্রায় সাত লাখ মানুষের প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলেছি, যাদের কেবল ফিরিয়ে নেয়াটাই শেষ কথা নয়, ফিরে যাওয়ার জন্য রাখাইনে যথাযথ পরিবেশও তৈরি করতে হবে। সমাজে তাদের পরিচয়, তাদের নিরাপত্তা, চাকরি, জীবনযাপন, বসবাসের জায়গা, অবকাঠামো- সবকিছুরই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জাফর আলম স্থানীয় সাংবাদিকদের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সে দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পর দেশটির বাসিন্দা হিসেবে রোহিঙ্গাদের যে সবুজ ও গোলাপি পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছিল, তা গুরুত্বহীন হয়ে যায় ৮২ সালের নতুন নাগরিকত্ব আইনে।

মিয়ানমারের ইতিহাসে চোখ ফেরালে দেখা যায়, ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তা নৃগোষ্ঠীভিত্তিক নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করে। বিতর্কিত ওই বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। আইনের ৪ নম্বর ধারায় শর্ত দেয়া হয়, কোনো জাতিগোষ্ঠী রাষ্ট্রের নাগরিক কিনা তা আইন-আদালত নয়, নির্ধারণ করবে সরকারের নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘কাউন্সিল অব স্টেট’।

বস্তুত এ আইনটিই জান্তাশাসিত মিয়ানমারে সর্বোচ্চ সেনা বিদ্বেষের শিকার রোহিঙ্গাদের ভাসমান জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরে একটি সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্র। তাই জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে যে রূপরেখার চুক্তি হয়েছে তা আদৌ বাস্তবায়িত হয় কিনা তা নিয়ে রোহিঙ্গারা শঙ্কায় রয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter