জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন: জিএম কাদের
jugantor
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন: জিএম কাদের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, ৫১ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন। জ্বালানি তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে। প্রমাণ হলো দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দরদ নেই। শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অকটেনের মূল্য এক লাফে ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ৮৯ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ৮৬ টাকা লিটারের পেট্রোলের দাম ৫১ দশমিক ১৬ ভাগ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫ ভাগ বেড়ে প্রতি লিটার ৮০ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকায়। অথচ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম এখন নিম্নমুখী। গত ৪-৫ মাসে বিভিন্ন স্থানে বেঞ্চমার্ক ক্রুড ওয়েলের দাম কমেছে ২৯ থেকে ৩০ শতাংশ। ইউএস বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারের নিচে নেমে যায়। গত মার্চে যার দর উঠেছিল ১২৪ ডলারে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৯৪ ডলারে। সারা বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, তখন দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধি সব মহলকে হতাশ করেছে।

জিএম কাদের বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়ে যাবে পরিবহণ ব্যয়। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে, বাড়বে দামও। এতে রপ্তানি শিল্পেও বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। ভয়াবহ পরিণতির দিকে অগ্রসর হবে দেশের অর্থনীতি। হাহাকার উঠবে সাধারণ মানুষের পরিবারে। তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।

বাসদের প্রতিবাদ : জ্বালানি তেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি এবং ভোলায় গুলি করে দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে, তখন তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃষি, শিল্প, পরিবহণসহ সব ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়িয়ে দেবে আর সাধারণ নাগরিকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। দুর্নীতি ও লুটপাটের বোঝা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দুর্বৃত্ত তোষণের রাজনীতি চলছে।

ভোলায় বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং দুজনের হত্যার নিন্দা করে বাসদ সাধারণ সম্পাদক দমনপীড়নের পথ পরিহার করার আহ্বান জানান। বিরোধী দল-মতের প্রতি দমনপীড়ন আর জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে অতীতে কোনো শাসক রেহাই পায়নি। দমনপীড়ন ও লুণ্ঠনের পথ পরিহার করুন। বাঁচার দাবিতে তেল, সার ও পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বাসদের এই নেতা।

জাতীয় কৃষক জোটের মানববন্ধন ও সমাবেশ : জ্বালানি তেল ও সারের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক জোট শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ নুরুল আমিন কাওসারের সভাপতিত্বে কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ফসি। সমাবেশে বক্তরা বলেন, ইউরিয়া সার, জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও কৃষিপণ্য পরিবহণ খরচ বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

বক্তারা আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ দামে ইউরিয়া, ডিএসপি, ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে। মুনাফাখোর ডিলারদের বিরুদ্ধে সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। নেতারা অবিলম্বে দেশ ও জাতির স্বার্থে সার ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আহ্বান জানান।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন: জিএম কাদের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, ৫১ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন। জ্বালানি তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে। প্রমাণ হলো দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দরদ নেই। শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অকটেনের মূল্য এক লাফে ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ৮৯ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ৮৬ টাকা লিটারের পেট্রোলের দাম ৫১ দশমিক ১৬ ভাগ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫ ভাগ বেড়ে প্রতি লিটার ৮০ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকায়। অথচ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম এখন নিম্নমুখী। গত ৪-৫ মাসে বিভিন্ন স্থানে বেঞ্চমার্ক ক্রুড ওয়েলের দাম কমেছে ২৯ থেকে ৩০ শতাংশ। ইউএস বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারের নিচে নেমে যায়। গত মার্চে যার দর উঠেছিল ১২৪ ডলারে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৯৪ ডলারে। সারা বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, তখন দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধি সব মহলকে হতাশ করেছে।

জিএম কাদের বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়ে যাবে পরিবহণ ব্যয়। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে, বাড়বে দামও। এতে রপ্তানি শিল্পেও বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। ভয়াবহ পরিণতির দিকে অগ্রসর হবে দেশের অর্থনীতি। হাহাকার উঠবে সাধারণ মানুষের পরিবারে। তাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।

বাসদের প্রতিবাদ : জ্বালানি তেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি এবং ভোলায় গুলি করে দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে, তখন তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃষি, শিল্প, পরিবহণসহ সব ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়িয়ে দেবে আর সাধারণ নাগরিকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। দুর্নীতি ও লুটপাটের বোঝা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দুর্বৃত্ত তোষণের রাজনীতি চলছে।

ভোলায় বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং দুজনের হত্যার নিন্দা করে বাসদ সাধারণ সম্পাদক দমনপীড়নের পথ পরিহার করার আহ্বান জানান। বিরোধী দল-মতের প্রতি দমনপীড়ন আর জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে অতীতে কোনো শাসক রেহাই পায়নি। দমনপীড়ন ও লুণ্ঠনের পথ পরিহার করুন। বাঁচার দাবিতে তেল, সার ও পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বাসদের এই নেতা।

জাতীয় কৃষক জোটের মানববন্ধন ও সমাবেশ : জ্বালানি তেল ও সারের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক জোট শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ নুরুল আমিন কাওসারের সভাপতিত্বে কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ফসি। সমাবেশে বক্তরা বলেন, ইউরিয়া সার, জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও কৃষিপণ্য পরিবহণ খরচ বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

বক্তারা আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ দামে ইউরিয়া, ডিএসপি, ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে। মুনাফাখোর ডিলারদের বিরুদ্ধে সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। নেতারা অবিলম্বে দেশ ও জাতির স্বার্থে সার ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আহ্বান জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন