আমাদের কর্মসূচি শোক দিবস বিরোধী ছিল না
jugantor
বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
আমাদের কর্মসূচি শোক দিবস বিরোধী ছিল না

  ঢাবি প্রতিনিধি  

১৫ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শোক দিবসের অনুষ্ঠান বিরোধী ছিলো না বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন দাবি করেন। বরং তারা মনে করেন, তাদের এ কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সেই থেকে এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি চলে না বুয়েট ক্যাম্পাসে। কিন্তু শনিবার ছাত্রলীগের ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ায় প্রশাসনের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অথচ তাদের এ কর্মসূচির পর সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এর পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এজন্য শিক্ষার্থীদের অবস্থান পরিষ্কার করতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা আমাদের নিরাপদ ক্যাম্পাস যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে শনিবার আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হই। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্লাটফরমে আমাদের কর্মসূচি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যা আমাদের করেছে ভীতসন্ত্রস্ত এবং একই সঙ্গে ব্যথিত।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করা। অতীতে বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিরাজমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বলি হয়েছেন, যাদের সর্বশেষ সংযোজন ছিল আবরার ফাহাদ।

শনিবারের কর্মসূচি কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠান বিরোধী ছিল না দাবি করে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন-ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে। তার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমৃদ্ধিময় সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত। আমরা এও বিশ্বাস করি যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন, তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ধারণের প্রয়োজন পড়ে না।

বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে বলে দাবি করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

আমাদের কর্মসূচি শোক দিবস বিরোধী ছিল না

 ঢাবি প্রতিনিধি 
১৫ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শোক দিবসের অনুষ্ঠান বিরোধী ছিলো না বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন দাবি করেন। বরং তারা মনে করেন, তাদের এ কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সেই থেকে এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি চলে না বুয়েট ক্যাম্পাসে। কিন্তু শনিবার ছাত্রলীগের ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ায় প্রশাসনের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অথচ তাদের এ কর্মসূচির পর সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এর পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এজন্য শিক্ষার্থীদের অবস্থান পরিষ্কার করতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা আমাদের নিরাপদ ক্যাম্পাস যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে শনিবার আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হই। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্লাটফরমে আমাদের কর্মসূচি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যা আমাদের করেছে ভীতসন্ত্রস্ত এবং একই সঙ্গে ব্যথিত।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করা। অতীতে বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিরাজমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বলি হয়েছেন, যাদের সর্বশেষ সংযোজন ছিল আবরার ফাহাদ।

শনিবারের কর্মসূচি কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠান বিরোধী ছিল না দাবি করে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন-ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে। তার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমৃদ্ধিময় সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত। আমরা এও বিশ্বাস করি যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন, তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ধারণের প্রয়োজন পড়ে না।

বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে বলে দাবি করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন