চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে চালের দাম
jugantor
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে চালের দাম
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা * ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ১২ হাজার টাকা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে চালের দাম দ্বিতীয় দফা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে। ৬ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম একদফা বেড়েছিল। শনি ও রোববার থেকে আরেক দফা দাম বাড়ল।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। মানভেদেও চালের দাম বেড়েছে। বিদেশ থেকে জিটুজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হলেও দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যাচ্ছে না। সামনে আরও দাম বাড়বে-এমন আশায় কিছু কিছু মিলার চাল মজুত করছেন। এছাড়া চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের ১০-১৫ জন বড় ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত রয়েছে। মিল মালিকরা চালের সরবরাহ একেবারে কমিয়ে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের মিলারদের যোগসাজশে তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াচ্ছে। এসব কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, ডলারের দামের অস্থিরতায় বেসরকারি পর্যায়ে অনেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী বা চালের দাম হুহু করে বাড়ছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলীয় মোকামগুলো থেকে চাল পরিবহণে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। পরিবহণের বাড়তি ভাড়ার কারণেও চালের দাম বাড়ছে।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সরকার নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও চালের দাম কমাতে পারেনি। সর্বশেষ ২৫ জুন চাল আমদানির শুল্ককর সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। শুল্কছাড়ের পর প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাল আমদানি হয়েছে সামান্য। জানা যায়, চাক্তাইয়ের চালপট্টি ও পাহাড়তলীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি চালের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে গেছে। জিরাশাইল সিদ্ধ, নাজিরশাইল সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ, পাইজাম সিদ্ধ ও আতপ, মিনিকেট সিদ্ধ ও আতপ, কাটারিভোগ সিদ্ধ ও আতপ, বেতি আতপ ও মোটা সিদ্ধ-সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। পরিবহণ ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি বর্তমানে ধানের দামও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি-চালের বাজার চড়া হওয়ায় কৃষকরা বাড়তি দামের আশায় কিছু ধান ধরে রেখেছেন। এ কারণে বাজারে চালের এক ধরনের সংকটও তৈরি হয়েছে। আড়তদাররা জানান, বর্তমানে পাইকারিতে জিরাশাইল সিদ্ধ চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৩০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে এ চালের দাম ছিল বস্তাপ্রতি ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।

পাইকারি বাজারে মোটা চাল বি-২৮ ও পাইজাম ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন দিন আগে এ চাল প্রতি বস্তা দাম ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৫২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। চিকন চাল মিনিকেট বস্তাপ্রতি ৩ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে এ চালের দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। একই চাল দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ১০০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চাল বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে।

পাহাড়তলী বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেন যুগান্তরকে জানান, গত সপ্তাহে একদফা চালের দাম বেড়েছিল। রোববার থেকে আবার বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ডলার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় উত্তরবঙ্গের বড় মিলার ও বড় কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে চালের দাম

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা * ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ১২ হাজার টাকা
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে চালের দাম দ্বিতীয় দফা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে। ৬ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম একদফা বেড়েছিল। শনি ও রোববার থেকে আরেক দফা দাম বাড়ল।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। মানভেদেও চালের দাম বেড়েছে। বিদেশ থেকে জিটুজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হলেও দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যাচ্ছে না। সামনে আরও দাম বাড়বে-এমন আশায় কিছু কিছু মিলার চাল মজুত করছেন। এছাড়া চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের ১০-১৫ জন বড় ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত রয়েছে। মিল মালিকরা চালের সরবরাহ একেবারে কমিয়ে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের মিলারদের যোগসাজশে তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াচ্ছে। এসব কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, ডলারের দামের অস্থিরতায় বেসরকারি পর্যায়ে অনেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী বা চালের দাম হুহু করে বাড়ছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলীয় মোকামগুলো থেকে চাল পরিবহণে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। পরিবহণের বাড়তি ভাড়ার কারণেও চালের দাম বাড়ছে।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সরকার নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও চালের দাম কমাতে পারেনি। সর্বশেষ ২৫ জুন চাল আমদানির শুল্ককর সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। শুল্কছাড়ের পর প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাল আমদানি হয়েছে সামান্য। জানা যায়, চাক্তাইয়ের চালপট্টি ও পাহাড়তলীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি চালের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে গেছে। জিরাশাইল সিদ্ধ, নাজিরশাইল সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ, পাইজাম সিদ্ধ ও আতপ, মিনিকেট সিদ্ধ ও আতপ, কাটারিভোগ সিদ্ধ ও আতপ, বেতি আতপ ও মোটা সিদ্ধ-সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। পরিবহণ ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি বর্তমানে ধানের দামও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি-চালের বাজার চড়া হওয়ায় কৃষকরা বাড়তি দামের আশায় কিছু ধান ধরে রেখেছেন। এ কারণে বাজারে চালের এক ধরনের সংকটও তৈরি হয়েছে। আড়তদাররা জানান, বর্তমানে পাইকারিতে জিরাশাইল সিদ্ধ চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৩০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে এ চালের দাম ছিল বস্তাপ্রতি ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।

পাইকারি বাজারে মোটা চাল বি-২৮ ও পাইজাম ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন দিন আগে এ চাল প্রতি বস্তা দাম ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৫২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। চিকন চাল মিনিকেট বস্তাপ্রতি ৩ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে এ চালের দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। একই চাল দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ১০০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চাল বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে।

পাহাড়তলী বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেন যুগান্তরকে জানান, গত সপ্তাহে একদফা চালের দাম বেড়েছিল। রোববার থেকে আবার বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ডলার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় উত্তরবঙ্গের বড় মিলার ও বড় কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন