সব গণহত্যা ও সন্ত্রাসের নিন্দা বিচার দাবি
jugantor
নির্মূল কমিটির অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলন
সব গণহত্যা ও সন্ত্রাসের নিন্দা বিচার দাবি

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী তালেবানদের ক্ষমতা দখলের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সোমবার অনলাইনে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবাধিকার নেতা শাহরিয়ার কবির। এতে পাঁচটি মহাদেশের ১৫ জন বরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার ও শান্তি কর্মী বক্তব্য দেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য, বেলজিয়ামের সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা; তুরস্কের পেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার ও কবি তারেক গুনেরসেল; ফোরাম ফর সেকুলার ইজিপ্ট অ্যান্ড মিডল ইস্টের সভাপতি, মিসরের লেখক সাংবাদিক মহসিন আরিশি; মিয়ানমারের তামপাদিপা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মানবাধিকার নেতা ড. খিন জাও উইন; পাকিস্তানের নারী অধিকার ও শান্তি কর্মী ‘তেহরিক-ই-নিশওয়ান’-এর সভাপতি ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী সীমা কেরমানি; ফ্রান্সের খাইবার ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সভাপতি, মানবাধিকার নেতা, লেখক সাংবাদিক ফজল উর রহমান আফ্রিদি; ফোরাম ফর সেকুলার নেপালের সভাপতি, রাষ্ট্রদূত যুবনাথ লামসাল; টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউমানিটি, তুরস্ক-এর সভাপতি, লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ফেরহাত আতিক; আফগান-অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকার কর্মী অ্যাটর্নি কোবরা মোরাদি, সাংবাদিক ও লেখক হিরন্ময় কার্লেকার, নাও অ্যান্ডিশান কালচারাল-সোশিয়াল অর্গানাইজেশন হেরাতের সাবেক প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিল সদস্য, নেদারল্যান্ডে নির্বাসিত আফগান মানবাধিকার নেত্রী সোমাইয়া রামিশ; সুইজারল্যাণ্ডে নির্বাসিত আফগান লেখক ও মানবাধিকার কর্মী আসলাম জামি; পোল্যান্ডের নেভার এগেইনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মানবাধিকার নেত্রী নাটালিয়া সিনায়েভা প্যানকোস্কা, পোল্যান্ডের নির্বাসিত আফগান যুবনেতা সবুর শাহ দাউদ জাই; নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সুইডেন প্রবাসী লেখক সাব্বির খান ও নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি মানবাধিকার নেতা আসিফ মুনীর তন্ময়।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেষ রাত্রিতে স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক ঘাতকরা সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে এই দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের তালেবানি আফগানিস্তানের মতো একটি মৌলবাদী, সন্ত্রাসী মনোলিথিক মুসলিম রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিল।

পাওলো কাসাকা বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক মানুষ অনাহারের শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে। যারা মানবতা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদের উচিত আফগানিস্তানের গণতন্ত্রকামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তারেক গুনেরসেল বলেন, ১৫ আগস্ট একটি মর্মান্তিক ঘটনার বার্ষিকী। একটি ধ্বংসাত্মক সংগঠন তালেবান গত বছর এদিনে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতায় এসে তারা গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাকে হত্যা করেছে। আমরা ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীরা তাদের অমানবিকতার প্রতিবাদ করছি। একটি মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সমাপনী ভাষণে সম্মেলনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আগামী ডিসেম্বরে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় গণহত্যাবিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানান।

নির্মূল কমিটির অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলন

সব গণহত্যা ও সন্ত্রাসের নিন্দা বিচার দাবি

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী তালেবানদের ক্ষমতা দখলের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সোমবার অনলাইনে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবাধিকার নেতা শাহরিয়ার কবির। এতে পাঁচটি মহাদেশের ১৫ জন বরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার ও শান্তি কর্মী বক্তব্য দেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য, বেলজিয়ামের সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা; তুরস্কের পেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার ও কবি তারেক গুনেরসেল; ফোরাম ফর সেকুলার ইজিপ্ট অ্যান্ড মিডল ইস্টের সভাপতি, মিসরের লেখক সাংবাদিক মহসিন আরিশি; মিয়ানমারের তামপাদিপা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মানবাধিকার নেতা ড. খিন জাও উইন; পাকিস্তানের নারী অধিকার ও শান্তি কর্মী ‘তেহরিক-ই-নিশওয়ান’-এর সভাপতি ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী সীমা কেরমানি; ফ্রান্সের খাইবার ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সভাপতি, মানবাধিকার নেতা, লেখক সাংবাদিক ফজল উর রহমান আফ্রিদি; ফোরাম ফর সেকুলার নেপালের সভাপতি, রাষ্ট্রদূত যুবনাথ লামসাল; টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউমানিটি, তুরস্ক-এর সভাপতি, লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ফেরহাত আতিক; আফগান-অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকার কর্মী অ্যাটর্নি কোবরা মোরাদি, সাংবাদিক ও লেখক হিরন্ময় কার্লেকার, নাও অ্যান্ডিশান কালচারাল-সোশিয়াল অর্গানাইজেশন হেরাতের সাবেক প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিল সদস্য, নেদারল্যান্ডে নির্বাসিত আফগান মানবাধিকার নেত্রী সোমাইয়া রামিশ; সুইজারল্যাণ্ডে নির্বাসিত আফগান লেখক ও মানবাধিকার কর্মী আসলাম জামি; পোল্যান্ডের নেভার এগেইনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মানবাধিকার নেত্রী নাটালিয়া সিনায়েভা প্যানকোস্কা, পোল্যান্ডের নির্বাসিত আফগান যুবনেতা সবুর শাহ দাউদ জাই; নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সুইডেন প্রবাসী লেখক সাব্বির খান ও নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি মানবাধিকার নেতা আসিফ মুনীর তন্ময়।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেষ রাত্রিতে স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক ঘাতকরা সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে এই দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের তালেবানি আফগানিস্তানের মতো একটি মৌলবাদী, সন্ত্রাসী মনোলিথিক মুসলিম রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিল।

পাওলো কাসাকা বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক মানুষ অনাহারের শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে। যারা মানবতা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদের উচিত আফগানিস্তানের গণতন্ত্রকামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তারেক গুনেরসেল বলেন, ১৫ আগস্ট একটি মর্মান্তিক ঘটনার বার্ষিকী। একটি ধ্বংসাত্মক সংগঠন তালেবান গত বছর এদিনে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতায় এসে তারা গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাকে হত্যা করেছে। আমরা ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীরা তাদের অমানবিকতার প্রতিবাদ করছি। একটি মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সমাপনী ভাষণে সম্মেলনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আগামী ডিসেম্বরে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় গণহত্যাবিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর