কেন্দ্রের হুঁশিয়ারির পর শুরু ইউনিট কমিটি গঠন
jugantor
চট্টগ্রাম নগর বিএনপি
কেন্দ্রের হুঁশিয়ারির পর শুরু ইউনিট কমিটি গঠন

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দ্রের কঠোর হুঁশিয়ারির পর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার বাকলিয়া ও আলকরণ ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে এ তৎপরতার সূচনা করা হয়। বুধবার পর্যন্ত ৫ দিনে ৬টি ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে মোট ১২৯টি ইউনিট কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

নগর বিএনপি সূত্র জানায়, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ইউনিট কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নগর বিএনপির ৭ শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩ আগস্ট পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনলাইন প্ল্যাটফরমে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এতে তিনি ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ইউনিট কমিটি গঠন শুরুর নির্দেশ দেন। তা না হলে ৭ জনের বিরুদ্ধেই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫ সাংগঠনিক দলের আহ্বায়ক এমএ আজিজ, এসএম সাইফুল আলম, এরশাদ উল্লাহ, নাজিমুর রহমান এবং কাজী বেলাল, টিমগুলোর কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

সূত্রমতে, তৃণমূল গোছানোর জন্য গত মার্চে দলের তারেক রহমান পাঁচটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। এসব কমিটির প্রধানরা চেয়েছিলেন কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের মতো করে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিগুলো গঠন করতে। তাতে সায় দেননি ডা. শাহাদাত-বক্কর বলয়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, যেহেতু শাহাদাত-বক্কর মূল দলের শীর্ষ দুই পদে রয়েছেন, তাই তাদের পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি করা যাবে না। তৃণমূল গঠন প্রক্রিয়ায় এ দুজনকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত মতো পালটায়। তাদের সম্পৃক্ত করে সমঝোতার ভিত্তিতে ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়। এরপর এই ৭ নেতা একাধিক বৈঠকে বসে কয়েকটি বিষয়ে একমত হলে শুরু হয় কমিটি গঠন । তৃণমূল পুনর্গঠনে পাঁচলাইশ, বাকলিয়া ও চকবাজার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা সাতজন এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছি। কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে হয়নি। এরপরও কমিটি গঠন শুরু করে দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের ১২৯টি ইউনিট কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’

এমএ আজিজ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটি রেজুলেশন হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর উপস্থিত থাকবেন। পরবর্তী অধিবেশনে কমিটি করার সময় তারা থাকবেন না। আমরা ৫ টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাউন্সিলর ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে যে কমিটি গঠন করব, তা মূল কমিটি অনুমোদন করবে। তাতে কোনো রদবদল করা যাবে না। কাউন্সিলর ও কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে কমপক্ষে তিন বছর যারা বিএনপি করেছেন, তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া যারা মাঠে-ময়দানে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন, ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে পরবর্তী সময়ে মামলা, হামলা ও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

দলীয় অপর একটি সূত্র জানায়, ইউনিট কমিটি গঠনে ওয়ার্ড কমিটির নেতারা প্রভাববিস্তার করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকে ওয়ার্ড কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠেছিল। কিন্তু শাহাদাত ও বক্কর এসব কমিটি ভাঙতে রাজি হচ্ছেন না। এ নিয়ে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়েছে।

নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর যুগান্তরকে বলেন, ‘তৃণমূলের কমিটি নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। দ্রুত কাজ চলছে। এক মাসের মধ্যে সব ইউনিটের কমিটি গঠন করা হবে।’

ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে নগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর। এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্র। তারা এ কাজে ব্যর্থ হলে চলতি বছরের মার্চে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৃণমূল পুনর্গঠনে ৫টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। এসব টিমও তিন মাসের মধ্যে ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে এ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপি

কেন্দ্রের হুঁশিয়ারির পর শুরু ইউনিট কমিটি গঠন

 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দ্রের কঠোর হুঁশিয়ারির পর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার বাকলিয়া ও আলকরণ ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে এ তৎপরতার সূচনা করা হয়। বুধবার পর্যন্ত ৫ দিনে ৬টি ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে মোট ১২৯টি ইউনিট কমিটি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

নগর বিএনপি সূত্র জানায়, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ইউনিট কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নগর বিএনপির ৭ শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩ আগস্ট পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনলাইন প্ল্যাটফরমে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এতে তিনি ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ইউনিট কমিটি গঠন শুরুর নির্দেশ দেন। তা না হলে ৭ জনের বিরুদ্ধেই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫ সাংগঠনিক দলের আহ্বায়ক এমএ আজিজ, এসএম সাইফুল আলম, এরশাদ উল্লাহ, নাজিমুর রহমান এবং কাজী বেলাল, টিমগুলোর কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

সূত্রমতে, তৃণমূল গোছানোর জন্য গত মার্চে দলের তারেক রহমান পাঁচটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। এসব কমিটির প্রধানরা চেয়েছিলেন কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের মতো করে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিগুলো গঠন করতে। তাতে সায় দেননি ডা. শাহাদাত-বক্কর বলয়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, যেহেতু শাহাদাত-বক্কর মূল দলের শীর্ষ দুই পদে রয়েছেন, তাই তাদের পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি করা যাবে না। তৃণমূল গঠন প্রক্রিয়ায় এ দুজনকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত মতো পালটায়। তাদের সম্পৃক্ত করে সমঝোতার ভিত্তিতে ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়। এরপর এই ৭ নেতা একাধিক বৈঠকে বসে কয়েকটি বিষয়ে একমত হলে শুরু হয় কমিটি গঠন । তৃণমূল পুনর্গঠনে পাঁচলাইশ, বাকলিয়া ও চকবাজার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা সাতজন এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছি। কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে হয়নি। এরপরও কমিটি গঠন শুরু করে দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের ১২৯টি ইউনিট কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’

এমএ আজিজ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটি রেজুলেশন হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর উপস্থিত থাকবেন। পরবর্তী অধিবেশনে কমিটি করার সময় তারা থাকবেন না। আমরা ৫ টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাউন্সিলর ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে যে কমিটি গঠন করব, তা মূল কমিটি অনুমোদন করবে। তাতে কোনো রদবদল করা যাবে না। কাউন্সিলর ও কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে কমপক্ষে তিন বছর যারা বিএনপি করেছেন, তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া যারা মাঠে-ময়দানে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন, ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে পরবর্তী সময়ে মামলা, হামলা ও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

দলীয় অপর একটি সূত্র জানায়, ইউনিট কমিটি গঠনে ওয়ার্ড কমিটির নেতারা প্রভাববিস্তার করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকে ওয়ার্ড কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠেছিল। কিন্তু শাহাদাত ও বক্কর এসব কমিটি ভাঙতে রাজি হচ্ছেন না। এ নিয়ে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়েছে।

নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর যুগান্তরকে বলেন, ‘তৃণমূলের কমিটি নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। দ্রুত কাজ চলছে। এক মাসের মধ্যে সব ইউনিটের কমিটি গঠন করা হবে।’

ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে নগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর। এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্র। তারা এ কাজে ব্যর্থ হলে চলতি বছরের মার্চে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৃণমূল পুনর্গঠনে ৫টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। এসব টিমও তিন মাসের মধ্যে ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে এ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন