আইনজীবীদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম
jugantor
চট্টগ্রামে যমুনা টিভি সাংবাদিকের ওপর হামলা
আইনজীবীদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম
প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলাকারী আইনজীবীদের গ্রেফতার ও তাদের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল করতে আলটিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিকদের

নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বুধবার যমুনা টিভি রিপোর্টার আল আমিন সিকদার ও ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল আইনজীবী।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব যৌথভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটো, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা, সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, প্রণব বড়ুয়া অর্ণব, সিইউজের টিভি ইউনিট প্রধান মাসুদুল হক, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, যমুনা টিভির ব্যুরোপ্রধান জামশেদ রেহমান চৌধুরী প্রমুখ।

মোহাম্মদ আলী বলেন, চট্টগ্রামের যে কোনো প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে আইনজীবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিনের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অনাকাক্সিক্ষত। আমরা বিশ্বাস করি দেশবিরোধী কোনো স্বার্থের ইন্ধনে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ জঙ্গি হামলার রায়ের ঘটনার সংবাদ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও আইনজীবী সমিতিকে তাদের সদস্যপদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিন দিনের মধ্যে হামলাকারীদের আইনজীবী সনদ বাতিল না করলে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন শুরু করবে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা দুঃখজনক। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বারবার এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মোস্তাক আহমদ, সাবেক নির্বাহী সদস্য শামসুল হুদা মিন্টু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলীউর রহমান, নির্বাহী সদস্য শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, দেবদুলাল ভৌমিক, মনজুর কাদের মনজু, সিইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইফতেখার ফয়সাল, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমেদ কুতুব, প্রতিনিধি ইউনিটের ডেপুটি চিফ সরওয়ার আলম সোহেল প্রমুখ। এছাড়া সমাবেশে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি এইচএম মুজিবুল হক শুক্কুরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় রাতে আল আমিন সিকদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সাহেদুল হক ও ইসহাক আহমেদ নামের দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রামে যমুনা টিভি সাংবাদিকের ওপর হামলা

আইনজীবীদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম

প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলাকারী আইনজীবীদের গ্রেফতার ও তাদের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল করতে আলটিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিকদের

নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বুধবার যমুনা টিভি রিপোর্টার আল আমিন সিকদার ও ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল আইনজীবী।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব যৌথভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটো, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা, সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, প্রণব বড়ুয়া অর্ণব, সিইউজের টিভি ইউনিট প্রধান মাসুদুল হক, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, যমুনা টিভির ব্যুরোপ্রধান জামশেদ রেহমান চৌধুরী প্রমুখ।

মোহাম্মদ আলী বলেন, চট্টগ্রামের যে কোনো প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে আইনজীবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিনের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অনাকাক্সিক্ষত। আমরা বিশ্বাস করি দেশবিরোধী কোনো স্বার্থের ইন্ধনে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ জঙ্গি হামলার রায়ের ঘটনার সংবাদ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও আইনজীবী সমিতিকে তাদের সদস্যপদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিন দিনের মধ্যে হামলাকারীদের আইনজীবী সনদ বাতিল না করলে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন শুরু করবে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা দুঃখজনক। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বারবার এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মোস্তাক আহমদ, সাবেক নির্বাহী সদস্য শামসুল হুদা মিন্টু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলীউর রহমান, নির্বাহী সদস্য শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, দেবদুলাল ভৌমিক, মনজুর কাদের মনজু, সিইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইফতেখার ফয়সাল, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমেদ কুতুব, প্রতিনিধি ইউনিটের ডেপুটি চিফ সরওয়ার আলম সোহেল প্রমুখ। এছাড়া সমাবেশে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি এইচএম মুজিবুল হক শুক্কুরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় রাতে আল আমিন সিকদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সাহেদুল হক ও ইসহাক আহমেদ নামের দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন