‘জনগণের পুকুর’ দখলে নিতে মরিয়া মেয়র আরিফ
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
‘জনগণের পুকুর’ দখলে নিতে মরিয়া মেয়র আরিফ

  সিলেট ব্যুরো  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নগরের হিন্দু আলী পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় ভূমিখেকোদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরটি দখল করতে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ব্যবহার করছেন তিনি। এছাড়া উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও ‘জনগণের পুকুর’ দাবি করে এটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন মেয়র আরিফ। সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন সৈয়দানী বাগ (সৈয়দ বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সৈয়দ খালেদ হোসেন মাহতাব।

এমন অভিযোগ ওঠার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের নির্দেশে তিনি পুকুরের পরিচ্ছন্নতার কাজে শ্রমিকদের পাঠিয়েছেন। দখলের চেষ্টার অভিযোগ সত্য নয়। সংবাদ সম্মেলনের পর সিসিক মেয়র আরিফ তাৎক্ষণিকভাবে যুগান্তরকে এমনটা জানালেও পরে এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদ সম্মেলনের সংবাদে আরিফুল হক চৌধুরী, মেয়র, সিলেট সিটি করপোরেশন-এর বিরুদ্ধে সৈয়দানী বাগের বাসিন্দা সৈয়দ খালেদ হোসেন মাহতাব অ্যাডভোকেট ‘পুকুর’ দখলের অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে করা এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। যা মানহানির শামিল। গত ৯ আগস্ট ২০২২ সিসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা উল্লেখিত পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে যায়। কোনো অবস্থাতেই সিসিকের কর্মীরা পুকুর দখল করতে যায়নি। তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুকুরটি পরিচ্ছন্ন করে পুকুরের পানি নাগরিকদের ব্যবহার উপযোগী করার দায়িত্ব পালন করে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী সময়ে সিলেট মহানগরের সব খাল, নালা, পুকুর, জলাশয় উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানির প্রবাহ ও পানি ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী নগরের সব খাল, নালা, জলাশয় ও পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে সিলেট সিটি করপোরেশন। এরই অংশ হিসাবে সৈয়দানী বাগের পুকুরটিও পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেয় সিসিক।’

তবে সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট সৈয়দ খালেদ হোসেন মাহতাব। তিনি দাবি করেন হিন্দু আলী পুকুর তাদের মৌরসি সম্পত্তির অংশ। বংশ পরম্পরায় পুকুরটি ভোগদখল ও মৎস্য চাষ করে আসছেন তারা। এটা জনসাধারণের কোনো পুকুর নয়। পুকুরের অন্যতম মালিক মোছা. আছক বানুর কন্যা ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মা মোছা. আমিনা খাতুনদের কাছ থেকে সৈয়দ আজিজুল হোসেনরা ক্রয় করেন। স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের নাম ভাঙিয়ে সিটি মেয়র আরিফ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট মাহতাব। তিনি মেয়র আরিফের অপদখলের চেষ্টা থেকে পুকুরটি রক্ষা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

‘জনগণের পুকুর’ দখলে নিতে মরিয়া মেয়র আরিফ

 সিলেট ব্যুরো 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নগরের হিন্দু আলী পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় ভূমিখেকোদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরটি দখল করতে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ব্যবহার করছেন তিনি। এছাড়া উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও ‘জনগণের পুকুর’ দাবি করে এটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন মেয়র আরিফ। সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন সৈয়দানী বাগ (সৈয়দ বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সৈয়দ খালেদ হোসেন মাহতাব।

এমন অভিযোগ ওঠার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের নির্দেশে তিনি পুকুরের পরিচ্ছন্নতার কাজে শ্রমিকদের পাঠিয়েছেন। দখলের চেষ্টার অভিযোগ সত্য নয়। সংবাদ সম্মেলনের পর সিসিক মেয়র আরিফ তাৎক্ষণিকভাবে যুগান্তরকে এমনটা জানালেও পরে এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদ সম্মেলনের সংবাদে আরিফুল হক চৌধুরী, মেয়র, সিলেট সিটি করপোরেশন-এর বিরুদ্ধে সৈয়দানী বাগের বাসিন্দা সৈয়দ খালেদ হোসেন মাহতাব অ্যাডভোকেট ‘পুকুর’ দখলের অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে করা এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। যা মানহানির শামিল। গত ৯ আগস্ট ২০২২ সিসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা উল্লেখিত পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে যায়। কোনো অবস্থাতেই সিসিকের কর্মীরা পুকুর দখল করতে যায়নি। তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুকুরটি পরিচ্ছন্ন করে পুকুরের পানি নাগরিকদের ব্যবহার উপযোগী করার দায়িত্ব পালন করে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী সময়ে সিলেট মহানগরের সব খাল, নালা, পুকুর, জলাশয় উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানির প্রবাহ ও পানি ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী নগরের সব খাল, নালা, জলাশয় ও পুকুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে সিলেট সিটি করপোরেশন। এরই অংশ হিসাবে সৈয়দানী বাগের পুকুরটিও পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেয় সিসিক।’

তবে সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট সৈয়দ খালেদ হোসেন মাহতাব। তিনি দাবি করেন হিন্দু আলী পুকুর তাদের মৌরসি সম্পত্তির অংশ। বংশ পরম্পরায় পুকুরটি ভোগদখল ও মৎস্য চাষ করে আসছেন তারা। এটা জনসাধারণের কোনো পুকুর নয়। পুকুরের অন্যতম মালিক মোছা. আছক বানুর কন্যা ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মা মোছা. আমিনা খাতুনদের কাছ থেকে সৈয়দ আজিজুল হোসেনরা ক্রয় করেন। স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের নাম ভাঙিয়ে সিটি মেয়র আরিফ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট মাহতাব। তিনি মেয়র আরিফের অপদখলের চেষ্টা থেকে পুকুরটি রক্ষা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন