টিসিবির ২০০ টন নষ্ট পেঁয়াজ ভাগাড়ে
jugantor
তুরস্ক থেকে আমদানি
টিসিবির ২০০ টন নষ্ট পেঁয়াজ ভাগাড়ে

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আমদানি করা ২০০ টন পেঁয়াজ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এসব পেঁয়াজ তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়েছিল। ডকুমেন্ট পাঠাতে বিলম্বের কারণে বন্দর থেকে খালাস করতে দীর্ঘ সময় লাগায় এসব পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। নষ্ট পেঁয়াজের বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এসব নষ্ট পেঁয়াজ চট্টগ্রাম সিইপিজেড নেভি মার্কেটের সামনে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে টিসিবি কর্তৃপক্ষ। এর দায়ভার তুরস্কের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে বলে টিসিবি দাবি করেছে। এদিকে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলোতে এ পণ্যটি মিলছে না। ফলে ন্যায্যমূল্যের পেঁয়াজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

টিসিবি সূত্র জানায়, তুরস্ক থেকে টিসিবি বিভিন্ন পরিমাণের ১১ লট পেঁয়াজ আমদানি করে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজটি এক মাস ধরে আটকে ছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে না পারায় পেঁয়াজগুলো ১ মাস ধরে খালাস করতে পারেনি টিসিবি। দীর্ঘ সময় পর এসে জাহাজ থেকে পেঁয়াজগুলো খালাসের পর দেখা গেছে, প্রায় ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। পেঁয়াজের ওপরটা কালচে হয়ে গেছে। পচন ধরেছে কোনো কোনো পেঁয়াজে। গত এক সপ্তাহ টিসিবি অফিসের পাশে সিইপিজেড নেভি মার্কেটের সামনে ভালো পেঁয়াজ বাছাই করা হয়। বুধবার রাতে বাছাই করা শেষে ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ ভাগাড়ে ফেলে দেয়া হয়। টোকাইদের ভাগাড় থেকে পেঁয়াজ কুড়িয়ে নিতে দেখা গেছে।

সরকারি এই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্টের দায়ভার কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও টিসিবি দাবি করেছে, রপ্তানিকারক তথা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ডকুমেন্ট দেয়নি। এ কারণে তারা যথাসময়ে পণ্য খালাস করতে পারেনি। তাছাড়া টিসিবির সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে চুক্তি সে অনুযায়ী যত টন পণ্য টিসিবির গুদামে গ্রহণ করা হবে ঠিক তত টন পণ্যের বিল পরিশোধ করা হবে। নষ্ট পণ্যের বিল সরকার কোনো অবস্থাতেই দেবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পচনশীল পণ্য জরুরি ভিত্তিতে খালাসের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ খালাসের ক্ষেত্রে আমদানিকারক টিসিবি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এই দুই প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে। দুপক্ষই পেঁয়াজ খালাসের জন্য ডকুমেন্ট জমা দেওয়াসহ সার্বিক প্রস্তুতিতে উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে। যে কারণে এই দুর্মূল্যের বাজারে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিসিবি ট্রাক সেলে যে পণ্য বিক্রি করে সেখানে পেঁয়াজ দিতে পারছে না। সাধারণ ক্রেতারা তাই ন্যায্যমূল্যের এই পণ্যটি থেকে সাময়িকভাবে হলেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

চান্দগাঁও এলাকার কবির হেসেন নামের টিসিবির এক ডিলার যুগান্তরকে জানান, বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাহিদামতো সরবরাহ করতে পারছে না সংস্থাটি। অনেক ক্রেতা কম দামে পেঁয়াজ কিনতে আমাদের ট্রাক সেলে এসে ফেরত যাচ্ছেন। আমাদের করার কিছু নেই।

টিসিবি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সময়মতো খালাস নিতে না পারায় ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাছাই শেষে নষ্ট পেঁয়াজ ভাগাড়ে ফেলে দিতে হয়েছে। তুরস্কের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সময়মতো শিপিং ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে না পারায় পেঁয়াজগুলো খালাসে দেরি হয়েছে। এ কারণে এক লটের প্রায় ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজেরাই পেঁয়াজ বাছাই করেছেন। খারাপ বা নষ্ট পণ্য আমরা বুঝে নেইনি। তাই দায়ও টিসিবির নেই।

তুরস্ক থেকে আমদানি

টিসিবির ২০০ টন নষ্ট পেঁয়াজ ভাগাড়ে

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আমদানি করা ২০০ টন পেঁয়াজ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এসব পেঁয়াজ তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়েছিল। ডকুমেন্ট পাঠাতে বিলম্বের কারণে বন্দর থেকে খালাস করতে দীর্ঘ সময় লাগায় এসব পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। নষ্ট পেঁয়াজের বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এসব নষ্ট পেঁয়াজ চট্টগ্রাম সিইপিজেড নেভি মার্কেটের সামনে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে টিসিবি কর্তৃপক্ষ। এর দায়ভার তুরস্কের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে বলে টিসিবি দাবি করেছে। এদিকে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলোতে এ পণ্যটি মিলছে না। ফলে ন্যায্যমূল্যের পেঁয়াজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

টিসিবি সূত্র জানায়, তুরস্ক থেকে টিসিবি বিভিন্ন পরিমাণের ১১ লট পেঁয়াজ আমদানি করে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজটি এক মাস ধরে আটকে ছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে না পারায় পেঁয়াজগুলো ১ মাস ধরে খালাস করতে পারেনি টিসিবি। দীর্ঘ সময় পর এসে জাহাজ থেকে পেঁয়াজগুলো খালাসের পর দেখা গেছে, প্রায় ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। পেঁয়াজের ওপরটা কালচে হয়ে গেছে। পচন ধরেছে কোনো কোনো পেঁয়াজে। গত এক সপ্তাহ টিসিবি অফিসের পাশে সিইপিজেড নেভি মার্কেটের সামনে ভালো পেঁয়াজ বাছাই করা হয়। বুধবার রাতে বাছাই করা শেষে ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ ভাগাড়ে ফেলে দেয়া হয়। টোকাইদের ভাগাড় থেকে পেঁয়াজ কুড়িয়ে নিতে দেখা গেছে।

সরকারি এই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্টের দায়ভার কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও টিসিবি দাবি করেছে, রপ্তানিকারক তথা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ডকুমেন্ট দেয়নি। এ কারণে তারা যথাসময়ে পণ্য খালাস করতে পারেনি। তাছাড়া টিসিবির সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে চুক্তি সে অনুযায়ী যত টন পণ্য টিসিবির গুদামে গ্রহণ করা হবে ঠিক তত টন পণ্যের বিল পরিশোধ করা হবে। নষ্ট পণ্যের বিল সরকার কোনো অবস্থাতেই দেবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পচনশীল পণ্য জরুরি ভিত্তিতে খালাসের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ খালাসের ক্ষেত্রে আমদানিকারক টিসিবি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এই দুই প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে। দুপক্ষই পেঁয়াজ খালাসের জন্য ডকুমেন্ট জমা দেওয়াসহ সার্বিক প্রস্তুতিতে উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে। যে কারণে এই দুর্মূল্যের বাজারে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিসিবি ট্রাক সেলে যে পণ্য বিক্রি করে সেখানে পেঁয়াজ দিতে পারছে না। সাধারণ ক্রেতারা তাই ন্যায্যমূল্যের এই পণ্যটি থেকে সাময়িকভাবে হলেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

চান্দগাঁও এলাকার কবির হেসেন নামের টিসিবির এক ডিলার যুগান্তরকে জানান, বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাহিদামতো সরবরাহ করতে পারছে না সংস্থাটি। অনেক ক্রেতা কম দামে পেঁয়াজ কিনতে আমাদের ট্রাক সেলে এসে ফেরত যাচ্ছেন। আমাদের করার কিছু নেই।

টিসিবি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সময়মতো খালাস নিতে না পারায় ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাছাই শেষে নষ্ট পেঁয়াজ ভাগাড়ে ফেলে দিতে হয়েছে। তুরস্কের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সময়মতো শিপিং ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে না পারায় পেঁয়াজগুলো খালাসে দেরি হয়েছে। এ কারণে এক লটের প্রায় ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজেরাই পেঁয়াজ বাছাই করেছেন। খারাপ বা নষ্ট পণ্য আমরা বুঝে নেইনি। তাই দায়ও টিসিবির নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন