দীর্ঘমেয়াদি নীতিতে কমছে গুরুত্ব
jugantor
পোলট্রি খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ
দীর্ঘমেয়াদি নীতিতে কমছে গুরুত্ব

  মিজান চৌধুরী  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব কমছে পোলট্রি খাতের। আগামী তিন বছরের (২০২২-২০২৫) জন্য একটি গুচ্ছ কর্মকৌশল (এপিএ) প্রণয়ন করেছে সরকার। এটি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিও করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই কৌশলপত্রে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পোলট্রি খাত খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়ানোর গবেষণায়ও কম জোর দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক কর্মসম্পদন চুক্তিপত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। সরকারের নীতি প্রণয়নে এ খাতের গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও প্রান্তিক খামারিদের প্রণোদনার জটিলতা শিগগিরই দূর হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এখন লক্ষ্য পোলট্রি খাত সম্প্রাসরণ ও গবেষণাসহ পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করা। সাভারে একটি গবেষণাগার আছে। সেখানে গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় উপজাতির মুরগি উৎপাদন করা হয়েছে। প্রথমদিকে লক্ষ্য ছিল পোলট্রির উৎপাদন বাড়ানোর। এখন আমাদের লক্ষ্য গুণগত মান বৃদ্ধি করা। এজন্য গবেষণা চলছে। গবেষণায় অনেক সাফল্য আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বছরব্যাপী যে কাজ করবে তার ওপর একটি পরিকল্পনা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে, যা অর্থবছরের শুরুতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটি বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) নামে পরিচিত। ওই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বছর শেষে কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে তার ওপর একটি স্কোর বা নম্বর দিয়ে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন হিসাবে ধরা হয়।

এরই মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২ এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের এপিএ-এর কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পোলট্রি খাত উন্নয়ন, ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গবেষণার জন্য খুব বেশি কৌশল প্রণয়ন করা হয়নি। একইভাবে ২০২২-২০২৫ অর্থবছরের যে সম্ভাব্য এপিএ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে মন্ত্রণালয়, সেখানেও এ খাতের অবস্থান খুবই দুর্বল।

সর্বশেষ ২০২২-২০২৩ থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের চলতি ও আগাম এপিএ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪-২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন মাছ, ১৬৪ মেট্রিক টন দুধ, মাংস ৫ লাখ টন এবং ২২৩০ কোটি ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এছাড়া মাংস, চিংড়ি পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের মজুত নিরূপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে গরু ও মহিষের জাত উন্নয়ন করার লক্ষ্য স্থির করা হয়। পশু ও প্রাণী খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে গবেষণাগার স্থাপন, ফুড সেফটি নিশ্চিতকরণ ও ক্যাটেল ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা চালু করা হবে। বন্যা ও মহামারির সময় মৎস্য ও প্রাণিজাত পণ্যেও উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন ও অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনায় কোথাও পোলট্রি খাত নিয়ে কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের এপিএ প্রতিবেদনেও নতুন কোনো পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি। আর ২০২০-২০২১ অর্থবছরের এপিএ প্রতিবেদনে পরিকল্পনার কোথাও পোলট্রি খাত নিয়ে কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিগত দুই অর্থবছরসহ পাঁচ অর্থবছরের এপিএ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পোলট্রি খাতে গুরুত্ব খুবই কমছে।

এর কারণ জানতে চাইলে পোলট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, সরকারের যত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে সেখানে মূলত ডেইরি ও মৎস্য খাতই প্রাধান্য পেয়েছে। অথচ আমিষের চাহিদা পূরণে ৪০-৫০ শতাংশ অবদানই পোলট্রি খাতের। সেটির গুরুত্ব কম। তিনি আরও বলেন, পোলট্রি শিল্পকে রক্ষায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিপিআইসিসির সমন্বয়ে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

পোলট্রি খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

দীর্ঘমেয়াদি নীতিতে কমছে গুরুত্ব

 মিজান চৌধুরী 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব কমছে পোলট্রি খাতের। আগামী তিন বছরের (২০২২-২০২৫) জন্য একটি গুচ্ছ কর্মকৌশল (এপিএ) প্রণয়ন করেছে সরকার। এটি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিও করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই কৌশলপত্রে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পোলট্রি খাত খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়ানোর গবেষণায়ও কম জোর দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক কর্মসম্পদন চুক্তিপত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। সরকারের নীতি প্রণয়নে এ খাতের গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও প্রান্তিক খামারিদের প্রণোদনার জটিলতা শিগগিরই দূর হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এখন লক্ষ্য পোলট্রি খাত সম্প্রাসরণ ও গবেষণাসহ পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করা। সাভারে একটি গবেষণাগার আছে। সেখানে গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় উপজাতির মুরগি উৎপাদন করা হয়েছে। প্রথমদিকে লক্ষ্য ছিল পোলট্রির উৎপাদন বাড়ানোর। এখন আমাদের লক্ষ্য গুণগত মান বৃদ্ধি করা। এজন্য গবেষণা চলছে। গবেষণায় অনেক সাফল্য আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বছরব্যাপী যে কাজ করবে তার ওপর একটি পরিকল্পনা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে, যা অর্থবছরের শুরুতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটি বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) নামে পরিচিত। ওই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বছর শেষে কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে তার ওপর একটি স্কোর বা নম্বর দিয়ে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন হিসাবে ধরা হয়।

এরই মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২ এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের এপিএ-এর কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পোলট্রি খাত উন্নয়ন, ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গবেষণার জন্য খুব বেশি কৌশল প্রণয়ন করা হয়নি। একইভাবে ২০২২-২০২৫ অর্থবছরের যে সম্ভাব্য এপিএ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে মন্ত্রণালয়, সেখানেও এ খাতের অবস্থান খুবই দুর্বল।

সর্বশেষ ২০২২-২০২৩ থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের চলতি ও আগাম এপিএ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪-২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন মাছ, ১৬৪ মেট্রিক টন দুধ, মাংস ৫ লাখ টন এবং ২২৩০ কোটি ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এছাড়া মাংস, চিংড়ি পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের মজুত নিরূপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে গরু ও মহিষের জাত উন্নয়ন করার লক্ষ্য স্থির করা হয়। পশু ও প্রাণী খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে গবেষণাগার স্থাপন, ফুড সেফটি নিশ্চিতকরণ ও ক্যাটেল ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা চালু করা হবে। বন্যা ও মহামারির সময় মৎস্য ও প্রাণিজাত পণ্যেও উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন ও অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনায় কোথাও পোলট্রি খাত নিয়ে কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের এপিএ প্রতিবেদনেও নতুন কোনো পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি। আর ২০২০-২০২১ অর্থবছরের এপিএ প্রতিবেদনে পরিকল্পনার কোথাও পোলট্রি খাত নিয়ে কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিগত দুই অর্থবছরসহ পাঁচ অর্থবছরের এপিএ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পোলট্রি খাতে গুরুত্ব খুবই কমছে।

এর কারণ জানতে চাইলে পোলট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, সরকারের যত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে সেখানে মূলত ডেইরি ও মৎস্য খাতই প্রাধান্য পেয়েছে। অথচ আমিষের চাহিদা পূরণে ৪০-৫০ শতাংশ অবদানই পোলট্রি খাতের। সেটির গুরুত্ব কম। তিনি আরও বলেন, পোলট্রি শিল্পকে রক্ষায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিপিআইসিসির সমন্বয়ে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন