পঞ্চগড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃতের পরিবারকে মানবিক সহায়তা
jugantor
করতোয়ায় নৌকাডুবি
পঞ্চগড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃতের পরিবারকে মানবিক সহায়তা
প্রশাসনের গাফিলতি ছিল -রেলপথমন্ত্রী

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার বোদা উপজেলার আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া ৬৯ জনের পরিবারকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান যৌথভাবে মানবিক সহায়তা হিসাবে নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করেন। মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বৃহস্পতিবার নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ৫০ হাজার টাকা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে ২৫ হাজার টাকা, রেলমন্ত্রীর পক্ষে এবং রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা ও চালসহ দুই বস্তা শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়। বুধবার রেলমন্ত্রী নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা ও মৃতের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেন। তিনি প্রত্যেককে একটি করে শাড়ি ও লুঙ্গী বিতরণ করেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে আরও আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি সাংবাদিকদের বলেন, এখানে প্রশাসনের গাফিলতি ছিল। আমাদের লোকও দেখেনি। এটা একটা অবহেলার কারণ হিসাবে আমি দেখছি। ঘাটে যারা দায়িত্বে ছিল, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। এখানে যাত্রীদেরও অবহেলা আছে। মাঝিরও উচিত ছিল একসঙ্গে এত মানুষকে নৌকায় না তোলা। আর যারা ঘাটের দায়িত্বে ছিল, তাদেরও দায়িত্বের অভাব ছিল। যদি দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটত না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এতবড় একটা আয়োজন, অসংখ্য মানুষ মহালয়ার অনুষ্ঠানে আসবে। কাজেই আয়োজকদেরও একটা দায়-দায়িত্ব আছে। আউলিয়ার ঘাটে সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। অবশ্যই ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণ এ বছরের মধ্যে শুরু হবে। রেলমন্ত্রী বলেন, নৌকা ডুবিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও এই দুর্দিনে সহায়তার জন্য আপনাদের পাশে রয়েছে সরকার। সরকারবিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানুষের বিপদের সময় বিরোধিতা করবেন না। এটা নিয়ে রাজনীতিও করবেন না। বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়। উদ্ধার কাজ তরান্বিতসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক এলাকায় কাজ করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, নৌকা ডুবিতে এত মানুষের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তিনি আন্তরিক ও মানবিক। তার পক্ষে সমবেদনা জানিয়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে এসেছি। সরকারসহ আওয়ামী লীগের নেতারা আপনাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জোগাতে পাশে রয়েছে। এ দুর্ঘটনার প্রথম থেকেই সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আতিকুল হক, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম ও পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল আলীম মাহমুদ প্রমুখ।

এদিকে, পঞ্চম দিনের মতো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে অভিযান শুরু করে। নৌকাডুবির ঘটনায় সর্বশেষ বুধবার বিকাল পর্যন্ত ৬৯ লাশ উদ্ধার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের জরুরি তথ্য কেন্দ্রের তথ্যমতে, ৬৯ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তথ্য কেন্দ্র ও তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায়। তিনি বলেন, আগামী রোববার তদন্ত রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া হবে। তদন্ত রিপোর্টে নৌকাডুবির কারণ, দায়ী কারা এবং সুপারিশও থাকবে।

করতোয়ায় নৌকাডুবি

পঞ্চগড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃতের পরিবারকে মানবিক সহায়তা

প্রশাসনের গাফিলতি ছিল -রেলপথমন্ত্রী
 পঞ্চগড় প্রতিনিধি 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার বোদা উপজেলার আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া ৬৯ জনের পরিবারকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান যৌথভাবে মানবিক সহায়তা হিসাবে নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করেন। মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বৃহস্পতিবার নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ৫০ হাজার টাকা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে ২৫ হাজার টাকা, রেলমন্ত্রীর পক্ষে এবং রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা ও চালসহ দুই বস্তা শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়। বুধবার রেলমন্ত্রী নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা ও মৃতের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেন। তিনি প্রত্যেককে একটি করে শাড়ি ও লুঙ্গী বিতরণ করেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে আরও আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি সাংবাদিকদের বলেন, এখানে প্রশাসনের গাফিলতি ছিল। আমাদের লোকও দেখেনি। এটা একটা অবহেলার কারণ হিসাবে আমি দেখছি। ঘাটে যারা দায়িত্বে ছিল, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। এখানে যাত্রীদেরও অবহেলা আছে। মাঝিরও উচিত ছিল একসঙ্গে এত মানুষকে নৌকায় না তোলা। আর যারা ঘাটের দায়িত্বে ছিল, তাদেরও দায়িত্বের অভাব ছিল। যদি দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটত না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এতবড় একটা আয়োজন, অসংখ্য মানুষ মহালয়ার অনুষ্ঠানে আসবে। কাজেই আয়োজকদেরও একটা দায়-দায়িত্ব আছে। আউলিয়ার ঘাটে সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। অবশ্যই ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণ এ বছরের মধ্যে শুরু হবে। রেলমন্ত্রী বলেন, নৌকা ডুবিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও এই দুর্দিনে সহায়তার জন্য আপনাদের পাশে রয়েছে সরকার। সরকারবিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানুষের বিপদের সময় বিরোধিতা করবেন না। এটা নিয়ে রাজনীতিও করবেন না। বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়। উদ্ধার কাজ তরান্বিতসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক এলাকায় কাজ করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, নৌকা ডুবিতে এত মানুষের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তিনি আন্তরিক ও মানবিক। তার পক্ষে সমবেদনা জানিয়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে এসেছি। সরকারসহ আওয়ামী লীগের নেতারা আপনাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জোগাতে পাশে রয়েছে। এ দুর্ঘটনার প্রথম থেকেই সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আতিকুল হক, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম ও পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল আলীম মাহমুদ প্রমুখ।

এদিকে, পঞ্চম দিনের মতো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে অভিযান শুরু করে। নৌকাডুবির ঘটনায় সর্বশেষ বুধবার বিকাল পর্যন্ত ৬৯ লাশ উদ্ধার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের জরুরি তথ্য কেন্দ্রের তথ্যমতে, ৬৯ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তথ্য কেন্দ্র ও তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায়। তিনি বলেন, আগামী রোববার তদন্ত রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া হবে। তদন্ত রিপোর্টে নৌকাডুবির কারণ, দায়ী কারা এবং সুপারিশও থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন