খুলনায় জেলা পরিষদের গাছ কেটেছে বন বিভাগ
jugantor
খুলনায় জেলা পরিষদের গাছ কেটেছে বন বিভাগ

  খুলনা ব্যুরো  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক ২০০ গাছ কাটা হয়েছে। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই গাছ কেটেছে ও বিক্রির জন্য সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের নির্দেশে খুলনা জেলা পরিষদকে অবগত না করেই ওই গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার সামাজিক বন বিভাগের প্রধান দপ্তর ও খুলনা জেলা প্রশাসককে অবগত করেছেন। এর আগে বুধবার তিনি বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি ইস্যু করেছেন।

জানা যায়, খুলনার রূপসা উপজেলার কুঞ্জর জঙ্গার পাথরঘাটা বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে কুন্ডুবাড়ি পর্যন্ত ৮৮টি গাছ, একই উপজেলার বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে গদাইখালী থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত ২০টি এবং কুঞ্জর জঙ্গার পাথরঘাটা বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে কুন্ডুবাড়ি পর্যন্ত ৮০টি গাছ কাটার কার্যাদেশ দিয়েছে বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলমগীর শেখ, মেসার্স আবু বকর টিম্বার্স ও মেসার্স সাগর টেড্রার্স এই কার্যাদেশ পেয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ এই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যা ২৮ মার্চ বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপানো হয়।

কিন্তু এই বিষয়ে খুলনা জেলা পরিষদকে অবগত করেনি সামাজিক বন বিভাগ। প্রায় ৬ মাস পর মঙ্গলবার খুলনা জেলা পরিষদকে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছ কাটবে তার কার্যাদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়। ওই চিঠি পেয়ে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। তাদের জমিতে থাকা গাছ কাটার বিষয়ে অবগত না করেই দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশের বিষয় তারা জানতে চেয়ে বন বিভাগকে চিঠি পাঠায়। এসব গাছের মধ্যে বাবলা, রেন্ডি ও সিরিজ গাছের মতো একাধিক গাছ রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আছাদুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদের জমিতে গাছের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গাছ কেটে নেওয়ার কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যেখানে গাছ কাটা হয়েছে সেটার জমির মালিক খুলনা জেলা পরিষদ। রাস্তার মালিক জেলা পরিষদ হলেও গাছ বিক্রয় বা অপসারণের বিষয়ে জেলা পরিষদ অবগত নয়।

বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের জায়গা হলেও গাছের মালিক তারা নয়। এটা সামাজিক বনায়নের অংশ। এই গাছ বিক্রির সুবিধা স্থানীয় উপকারভোগীরা ৫৫ ভাগ, স্থানীয় সরকার ৫ ভাগ, পুনরায় বনায়নে ২০ ভাগ এবং জমির মালিক ২০ ভাগ পাবে। এ বিষয়ে স্থানীয় উপকারভোগী ও জমির মালিকদের সাথে চুক্তি হওয়ার পরই বনায়ন করা হয়। জেলা পরিষদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয় তবে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান করা হবে।

খুলনায় জেলা পরিষদের গাছ কেটেছে বন বিভাগ

 খুলনা ব্যুরো 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক ২০০ গাছ কাটা হয়েছে। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই গাছ কেটেছে ও বিক্রির জন্য সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের নির্দেশে খুলনা জেলা পরিষদকে অবগত না করেই ওই গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার সামাজিক বন বিভাগের প্রধান দপ্তর ও খুলনা জেলা প্রশাসককে অবগত করেছেন। এর আগে বুধবার তিনি বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি ইস্যু করেছেন।

জানা যায়, খুলনার রূপসা উপজেলার কুঞ্জর জঙ্গার পাথরঘাটা বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে কুন্ডুবাড়ি পর্যন্ত ৮৮টি গাছ, একই উপজেলার বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে গদাইখালী থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত ২০টি এবং কুঞ্জর জঙ্গার পাথরঘাটা বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে কুন্ডুবাড়ি পর্যন্ত ৮০টি গাছ কাটার কার্যাদেশ দিয়েছে বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলমগীর শেখ, মেসার্স আবু বকর টিম্বার্স ও মেসার্স সাগর টেড্রার্স এই কার্যাদেশ পেয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ এই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যা ২৮ মার্চ বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপানো হয়।

কিন্তু এই বিষয়ে খুলনা জেলা পরিষদকে অবগত করেনি সামাজিক বন বিভাগ। প্রায় ৬ মাস পর মঙ্গলবার খুলনা জেলা পরিষদকে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছ কাটবে তার কার্যাদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়। ওই চিঠি পেয়ে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। তাদের জমিতে থাকা গাছ কাটার বিষয়ে অবগত না করেই দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশের বিষয় তারা জানতে চেয়ে বন বিভাগকে চিঠি পাঠায়। এসব গাছের মধ্যে বাবলা, রেন্ডি ও সিরিজ গাছের মতো একাধিক গাছ রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আছাদুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদের জমিতে গাছের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গাছ কেটে নেওয়ার কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যেখানে গাছ কাটা হয়েছে সেটার জমির মালিক খুলনা জেলা পরিষদ। রাস্তার মালিক জেলা পরিষদ হলেও গাছ বিক্রয় বা অপসারণের বিষয়ে জেলা পরিষদ অবগত নয়।

বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের জায়গা হলেও গাছের মালিক তারা নয়। এটা সামাজিক বনায়নের অংশ। এই গাছ বিক্রির সুবিধা স্থানীয় উপকারভোগীরা ৫৫ ভাগ, স্থানীয় সরকার ৫ ভাগ, পুনরায় বনায়নে ২০ ভাগ এবং জমির মালিক ২০ ভাগ পাবে। এ বিষয়ে স্থানীয় উপকারভোগী ও জমির মালিকদের সাথে চুক্তি হওয়ার পরই বনায়ন করা হয়। জেলা পরিষদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয় তবে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান করা হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন