চিলমারীতে সার সংকটে দিশেহারা কৃষক
jugantor
চিলমারীতে সার সংকটে দিশেহারা কৃষক

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিলমারীতে আমন মৌসুমে সব ধরনের সারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি বস্তা সার কিনতে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে কৃষককে। ভরা মৌসুমে সার সংকটে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, সারের কোনো সংকট নেই। দাম বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় আট হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়া ভালো থাকায় আট হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। মোট চাহিদা ৬৭০ টন সারের পুরোটাই পাওয়া গেছে বলে উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে।

কৃষকরা জানান, চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে জমিতে সার দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু জমিতে তারা প্রয়োজনীয় সার দিতে পারছেন না। ভরা মৌসুমে সার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। খোলাবাজারে সব ধরনের সার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭৫০ টাকার এমওপি ১ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, ১ হাজার ১০০ টাকার টিএসপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, ৮০০ টাকার ডিএপি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় এবং ১ হাজার ১০০ টাকার ইউরিয়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া দামে সার এনে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করছেন অনুমোদিত সারের ডিলার ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলার শরিফেরহাট খন্দকারপাড়ার কৃষক সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন। অনেক কষ্টে তিনি দুই বস্তা ইউরিয়া জোগাড় করতে পারলেও আর কোনো সার পাচ্ছেন না। খরখরিয়া এলাকার কৃষক তছলিম উদ্দিন জানান, সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি ধান রোপণ করেছেন। এক বস্তা সার জোগাড় করতে পারলেও বাকি সার নিয়ে তিনি চিন্তিত।

উপজেলার থানাহাট বাজারের আলম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জানান, কুড়িগ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা বস্তা কিনে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বস্তা বিক্রি করছেন। সেখানে ডিলারের কাছ থেকে কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার কিনে বাইরে বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রণয় বিষাণ দাস জানান, চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬৭০ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা দিয়ে শতভাগ সার পাওয়া গেছে। কিছু মানুষ রবিশস্যের জন্য অগ্রিম সার কিনে জমা করায় সাময়িক সংকট সৃষ্টি হলেও আগামী মাসে আর কোনো সংকট থাকবে না। তিনি আরও জানান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের জন্য আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছি।

চিলমারীতে সার সংকটে দিশেহারা কৃষক

 চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিলমারীতে আমন মৌসুমে সব ধরনের সারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি বস্তা সার কিনতে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে কৃষককে। ভরা মৌসুমে সার সংকটে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, সারের কোনো সংকট নেই। দাম বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় আট হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়া ভালো থাকায় আট হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। মোট চাহিদা ৬৭০ টন সারের পুরোটাই পাওয়া গেছে বলে উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে।

কৃষকরা জানান, চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে জমিতে সার দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু জমিতে তারা প্রয়োজনীয় সার দিতে পারছেন না। ভরা মৌসুমে সার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। খোলাবাজারে সব ধরনের সার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭৫০ টাকার এমওপি ১ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, ১ হাজার ১০০ টাকার টিএসপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, ৮০০ টাকার ডিএপি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় এবং ১ হাজার ১০০ টাকার ইউরিয়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া দামে সার এনে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করছেন অনুমোদিত সারের ডিলার ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলার শরিফেরহাট খন্দকারপাড়ার কৃষক সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন। অনেক কষ্টে তিনি দুই বস্তা ইউরিয়া জোগাড় করতে পারলেও আর কোনো সার পাচ্ছেন না। খরখরিয়া এলাকার কৃষক তছলিম উদ্দিন জানান, সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি ধান রোপণ করেছেন। এক বস্তা সার জোগাড় করতে পারলেও বাকি সার নিয়ে তিনি চিন্তিত।

উপজেলার থানাহাট বাজারের আলম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জানান, কুড়িগ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা বস্তা কিনে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বস্তা বিক্রি করছেন। সেখানে ডিলারের কাছ থেকে কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার কিনে বাইরে বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রণয় বিষাণ দাস জানান, চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬৭০ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা দিয়ে শতভাগ সার পাওয়া গেছে। কিছু মানুষ রবিশস্যের জন্য অগ্রিম সার কিনে জমা করায় সাময়িক সংকট সৃষ্টি হলেও আগামী মাসে আর কোনো সংকট থাকবে না। তিনি আরও জানান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের জন্য আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন