আট মাসে গড়ে বাল্যবিয়ে ২৮৮ শিশুর
jugantor
আট মাসে গড়ে বাল্যবিয়ে ২৮৮ শিশুর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কন্যাশিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শুক্রবার জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে ‘জানুয়ারি-আগস্ট-২০২২ কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’ উপস্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত আট মাসে ২৮টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই হাজার ৩০১ জন শিশুর বাল্যবিয়ে হয়েছে। এই সংখ্যা গড়ে ২৮৮ জন।

এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ২৪টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন পত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষণ করে কন্যাশিশু ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন সংগঠনের সম্পাদক নাছিমা আক্তার ডলি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় কন্যাশিশু ও নারীরা পথে ঘাটে, গণপরিবহণে, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমনকি বাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চলতি বছরের প্রথম আটমাসে ৭৬ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

মাঠ পর্যায়ে কন্যাশিশুদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ও মাসে ৯০০ থেকে এক হাজার কন্যাশিশু সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

যাদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৫ শিশু পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন।

এ ছাড়া, এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তিনজন কন্যাশিশু, অপহরণ ও মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ১৩৬ জন, যাদের মধ্যে ৭৪ জনকে জোরপূর্বক যৌনপেশায় নিয়োজিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত আট মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ জন কন্যাশিশু, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাই কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকার।

বাংলাদেশ ওয়াইডব্লিউসিএর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনিষা সরকার বলেন, শুধু আইন করে এ ধরনের নির্যাতন প্রতিকার করা যাবে না। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কন্যাশিশু ও নারীদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তাতে প্রায় শতভাগ নির্যাতনকারীই হলো পুরুষ। তাই এ ক্ষেত্রে পুরুষের মানসিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

আট মাসে গড়ে বাল্যবিয়ে ২৮৮ শিশুর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কন্যাশিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শুক্রবার জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে ‘জানুয়ারি-আগস্ট-২০২২ কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’ উপস্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত আট মাসে ২৮টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই হাজার ৩০১ জন শিশুর বাল্যবিয়ে হয়েছে। এই সংখ্যা গড়ে ২৮৮ জন।

এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ২৪টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন পত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষণ করে কন্যাশিশু ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন সংগঠনের সম্পাদক নাছিমা আক্তার ডলি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় কন্যাশিশু ও নারীরা পথে ঘাটে, গণপরিবহণে, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমনকি বাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চলতি বছরের প্রথম আটমাসে ৭৬ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

মাঠ পর্যায়ে কন্যাশিশুদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ও মাসে ৯০০ থেকে এক হাজার কন্যাশিশু সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

যাদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৫ শিশু পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন।

এ ছাড়া, এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তিনজন কন্যাশিশু, অপহরণ ও মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ১৩৬ জন, যাদের মধ্যে ৭৪ জনকে জোরপূর্বক যৌনপেশায় নিয়োজিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত আট মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ জন কন্যাশিশু, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাই কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকার।

বাংলাদেশ ওয়াইডব্লিউসিএর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনিষা সরকার বলেন, শুধু আইন করে এ ধরনের নির্যাতন প্রতিকার করা যাবে না। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কন্যাশিশু ও নারীদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তাতে প্রায় শতভাগ নির্যাতনকারীই হলো পুরুষ। তাই এ ক্ষেত্রে পুরুষের মানসিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন