কমলনগরে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু
jugantor
কমলনগরে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় কুলসুম বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কুলসুম উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের বলির পোল এলাকার প্রবাসী হাফিজ উল্যার স্ত্রী। হাফিজ জানান, লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতাল প্রাইভেটে ভুল রক্ত প্রয়োগের এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর আফরোজা খাতুন (২২) নামে আরেক প্রসূতি মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুলসুম বেগম একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। প্রসবের সময় তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতাল প্রাইভেটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞ মুমতাহিনা ও চিকিৎসক ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। হাসপাতালে পরীক্ষায় রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘এ’ পজিটিভ নির্ণয় করা হয়। স্বজনদের রক্ত সংগ্রহ করতে বললে তারা এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেন।

পরে তা রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর রোগীকে ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে রোগীর লিভারে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। তাকে আবারও চিকিৎসক ইকবাল হোসেনের কাছে নেওয়া হয়। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীর কিডনিতে সমস্যা পাওয়ায় জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিডনি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে কুলসুমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ আসে। পরে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, মডেল হাসপাতালে রোগীর রক্তের গ্রুপ ভুল নির্ণয় করে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ করা হয়েছে। ওইদিন বেলা পৌনে ৩টার দিকে কুলসুম মারা যান।

কুলসুম বেগমের স্বামী প্রবাসী হাফিজ উল্যা বলেন, লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে আমার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি এর বিচার দাবি করেছেন।

কুলসুম বেগমের আত্মীয় আলাউদ্দিন জানান, ভুল চিকিৎসায় জড়িত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তিনি আবেদন করেছেন।

সিভিল সার্জন মো. আহমেদ কবির বলেন, অভিযোগের কপি তিনি হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগেশ্বরীতে ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু : নাগেশ্বরীতে নিউ উত্তরণ ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পরে আফরোজা খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতি মারা গেছেন। তিনি বেরুবাড়ী ইউনিয়নের মোবাল্লেগপাড়ার আশরাফুল আলমের স্ত্রী। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লিনিক চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আফরোজাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রোগীর অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. হাফিজুর রহমান। সিজারিয়ান অপারেশন করান ডা. কবিতা ইসলাম। বিকালে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন আফরোজা। এরপর সন্তানসহ প্রসূতিকে নেওয়া হয় সাধারণ বেডে। কিছুক্ষণ পর মারা যান আফরোজা। এ ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত ক্লিনিকের ভেতরে-বাইরে হট্টগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর রোগীর স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বামী আশরাফুল বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস রেখে আমি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করিনি। আল্লাহ যেন আমাকে এ কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দেন।

ক্লিনিকের পরিচালক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, সবকিছু রোগীর স্বজনদের সামনে ঘটায় ডাক্তারদের প্রতি তাদের কোনো অভিযোগ ছিল না। বহিরাগত কিছু লোক বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেছিল।

কমলনগরে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু

 যুগান্তর ডেস্ক 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় কুলসুম বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কুলসুম উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের বলির পোল এলাকার প্রবাসী হাফিজ উল্যার স্ত্রী। হাফিজ জানান, লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতাল প্রাইভেটে ভুল রক্ত প্রয়োগের এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর আফরোজা খাতুন (২২) নামে আরেক প্রসূতি মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুলসুম বেগম একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। প্রসবের সময় তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতাল প্রাইভেটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞ মুমতাহিনা ও চিকিৎসক ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। হাসপাতালে পরীক্ষায় রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘এ’ পজিটিভ নির্ণয় করা হয়। স্বজনদের রক্ত সংগ্রহ করতে বললে তারা এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেন।

পরে তা রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর রোগীকে ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে রোগীর লিভারে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। তাকে আবারও চিকিৎসক ইকবাল হোসেনের কাছে নেওয়া হয়। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীর কিডনিতে সমস্যা পাওয়ায় জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিডনি হাসপাতালে স্থান না পাওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে কুলসুমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ আসে। পরে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, মডেল হাসপাতালে রোগীর রক্তের গ্রুপ ভুল নির্ণয় করে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ করা হয়েছে। ওইদিন বেলা পৌনে ৩টার দিকে কুলসুম মারা যান।

কুলসুম বেগমের স্বামী প্রবাসী হাফিজ উল্যা বলেন, লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে আমার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি এর বিচার দাবি করেছেন।

কুলসুম বেগমের আত্মীয় আলাউদ্দিন জানান, ভুল চিকিৎসায় জড়িত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তিনি আবেদন করেছেন।

সিভিল সার্জন মো. আহমেদ কবির বলেন, অভিযোগের কপি তিনি হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগেশ্বরীতে ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু : নাগেশ্বরীতে নিউ উত্তরণ ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পরে আফরোজা খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতি মারা গেছেন। তিনি বেরুবাড়ী ইউনিয়নের মোবাল্লেগপাড়ার আশরাফুল আলমের স্ত্রী। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লিনিক চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আফরোজাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রোগীর অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. হাফিজুর রহমান। সিজারিয়ান অপারেশন করান ডা. কবিতা ইসলাম। বিকালে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন আফরোজা। এরপর সন্তানসহ প্রসূতিকে নেওয়া হয় সাধারণ বেডে। কিছুক্ষণ পর মারা যান আফরোজা। এ ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত ক্লিনিকের ভেতরে-বাইরে হট্টগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর রোগীর স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বামী আশরাফুল বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস রেখে আমি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করিনি। আল্লাহ যেন আমাকে এ কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দেন।

ক্লিনিকের পরিচালক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, সবকিছু রোগীর স্বজনদের সামনে ঘটায় ডাক্তারদের প্রতি তাদের কোনো অভিযোগ ছিল না। বহিরাগত কিছু লোক বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন