উড়ো চিঠি নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও রাসিকের বিভ্রান্তি
jugantor
উড়ো চিঠি নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও রাসিকের বিভ্রান্তি

  রাজশাহী ব্যুরো  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি উড়ো চিঠিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এবং শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কিছু দিন আগে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের নামে কে বা কারা একটি উড়ো চিঠি রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দেন। তার অধ্যাপক হাবিবুরের সাথে সাক্ষাৎ না করার বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে চিঠি চালাচালির ঘটনাও ঘটেছে।

রাজশাহী বোর্ড চেয়ারম্যান বলেছেন, এ ধরনের কোনো চিঠি তিনি মেয়রকে পাঠাননি। চিঠিটি ভুয়া। তৃতীয় কোনো পক্ষ মেয়রের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের সম্পর্ককে তিক্ত করতেই এ জাল চিঠি ছেড়েছেন। চিঠিটিতে মেয়রকে উদ্দেশ করে যা লেখা হয়েছে তা কোনো ব্যক্তি দেখলেই বুঝতে পারবেন, এটি তৃতীয় কোনো পক্ষের কাজ।

জানা গেছে, এ চিঠির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মেয়রের দপ্তর বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পালটা চিঠি দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বোর্ড চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অধ্যাপক হাবিবুরের চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘আপনার সঙ্গে আমাকে দেখা করার জন্য গেটে অপেক্ষা করতে হবে? আপনার কাছে সময় চাইতে হবে? বিষয়টি কল্পনা করা আমার জন্য দুরূহ। আপনি জানেন কি আমার জা-শাশুড়ি এমপি। আওয়ামী পরিবারে আমার জন্ম। ভবিষ্যতে আমিও এমপি বা মন্ত্রী হতে পারি। গাজীপুর ও কাটাখালীর মেয়রের দিকে তাকান। বর্তমানে তাদের কী অবস্থা?’

ওই চিঠিটি ১৮ জুলাই মেয়রের দপ্তরে ডাকযোগে পৌঁছায়। এরপর রাসিক থেকে চিঠিটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জহুরুল ইসলাম ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আরেকটি চিঠি পাঠান। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলাবিষয়ক শাখার উপসচিব আবু নাসের বেগের স্বাক্ষরে ২২ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে এ বিষয়ে ১০ দিনের মধ্যে অধ্যাপক হাবিবুরের কাছে ব্যাখ্যা চান। তিনি ইতোমধ্যে ভুয়া এ চিঠির বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। এর আগে ২৬ জুলাই তিনি একটি চিঠি দিয়ে মেয়র লিটনকেও ভুয়া চিঠির বিষয়টি অবহিত করে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার এ চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের অনুরূপ স্বাক্ষরে একটি আপত্তিকর চিঠি রাসিক মেয়রের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কোনো স্মারক নম্বর ব্যবহার করা হয়নি। চিঠিটি উপশহর ডাকঘর থেকে পোস্ট করা হয়েছে, যা মেয়রের দপ্তর থেকে বোর্ড চেয়ারম্যান জেনেছেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সব দাপ্তরিক চিঠি বোর্ডসংলগ্ন জিপিও-৬০০০ থেকে পোস্ট করা হয়। চিঠিটিতে যে ধরনের প্যাড এবং ফরমেট ব্যবহার করা হয়েছে তা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের দাপ্তরিক চিঠিতে ব্যবহার করা হয় না। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিব্রত এবং তা তদন্তের দাবি করে। ওই চিঠির সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে রাসিক মেয়রের দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা না গেলেও অধ্যাপক হাবিবুর যুগান্তরকে বলেন, কোনো বোর্ড চেয়ারম্যান তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ মানুষও মেয়রকে এ ধরনের চিঠি দিতে পারেন না। তৃতীয় কোনো পক্ষ এখানে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছেন। শিক্ষা বোর্ডেরই কোনো চক্র এ অপকর্মে জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা করেন।

উড়ো চিঠি নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও রাসিকের বিভ্রান্তি

 রাজশাহী ব্যুরো 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি উড়ো চিঠিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এবং শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কিছু দিন আগে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের নামে কে বা কারা একটি উড়ো চিঠি রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দেন। তার অধ্যাপক হাবিবুরের সাথে সাক্ষাৎ না করার বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে চিঠি চালাচালির ঘটনাও ঘটেছে।

রাজশাহী বোর্ড চেয়ারম্যান বলেছেন, এ ধরনের কোনো চিঠি তিনি মেয়রকে পাঠাননি। চিঠিটি ভুয়া। তৃতীয় কোনো পক্ষ মেয়রের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের সম্পর্ককে তিক্ত করতেই এ জাল চিঠি ছেড়েছেন। চিঠিটিতে মেয়রকে উদ্দেশ করে যা লেখা হয়েছে তা কোনো ব্যক্তি দেখলেই বুঝতে পারবেন, এটি তৃতীয় কোনো পক্ষের কাজ।

জানা গেছে, এ চিঠির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মেয়রের দপ্তর বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পালটা চিঠি দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বোর্ড চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অধ্যাপক হাবিবুরের চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘আপনার সঙ্গে আমাকে দেখা করার জন্য গেটে অপেক্ষা করতে হবে? আপনার কাছে সময় চাইতে হবে? বিষয়টি কল্পনা করা আমার জন্য দুরূহ। আপনি জানেন কি আমার জা-শাশুড়ি এমপি। আওয়ামী পরিবারে আমার জন্ম। ভবিষ্যতে আমিও এমপি বা মন্ত্রী হতে পারি। গাজীপুর ও কাটাখালীর মেয়রের দিকে তাকান। বর্তমানে তাদের কী অবস্থা?’

ওই চিঠিটি ১৮ জুলাই মেয়রের দপ্তরে ডাকযোগে পৌঁছায়। এরপর রাসিক থেকে চিঠিটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জহুরুল ইসলাম ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আরেকটি চিঠি পাঠান। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলাবিষয়ক শাখার উপসচিব আবু নাসের বেগের স্বাক্ষরে ২২ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে এ বিষয়ে ১০ দিনের মধ্যে অধ্যাপক হাবিবুরের কাছে ব্যাখ্যা চান। তিনি ইতোমধ্যে ভুয়া এ চিঠির বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। এর আগে ২৬ জুলাই তিনি একটি চিঠি দিয়ে মেয়র লিটনকেও ভুয়া চিঠির বিষয়টি অবহিত করে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার এ চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের অনুরূপ স্বাক্ষরে একটি আপত্তিকর চিঠি রাসিক মেয়রের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কোনো স্মারক নম্বর ব্যবহার করা হয়নি। চিঠিটি উপশহর ডাকঘর থেকে পোস্ট করা হয়েছে, যা মেয়রের দপ্তর থেকে বোর্ড চেয়ারম্যান জেনেছেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সব দাপ্তরিক চিঠি বোর্ডসংলগ্ন জিপিও-৬০০০ থেকে পোস্ট করা হয়। চিঠিটিতে যে ধরনের প্যাড এবং ফরমেট ব্যবহার করা হয়েছে তা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের দাপ্তরিক চিঠিতে ব্যবহার করা হয় না। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিব্রত এবং তা তদন্তের দাবি করে। ওই চিঠির সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে রাসিক মেয়রের দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা না গেলেও অধ্যাপক হাবিবুর যুগান্তরকে বলেন, কোনো বোর্ড চেয়ারম্যান তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ মানুষও মেয়রকে এ ধরনের চিঠি দিতে পারেন না। তৃতীয় কোনো পক্ষ এখানে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছেন। শিক্ষা বোর্ডেরই কোনো চক্র এ অপকর্মে জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা করেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন