রাজশাহীতে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ
jugantor
রাজশাহীতে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ
গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারি ও গৃহস্থরা

  রাজশাহী ব্যুরো  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর এলএসডি বা লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পড়েছে। খামার ও গৃহস্থের বাড়িতে পালিত গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় খামারি ও গৃহস্থরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গরু বাছুরের এ রোগের প্রতিকার পেতে তারা ছুটছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরে। পশু ডাক্তারের সুপারিশ অনুযায়ী ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। কিন্তু এই রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠছে না আক্রান্ত পশু। খামারিরা বলছেন, মহামারি আকারে ছড়াচ্ছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএনডি)। ফলে গবাদিপশু দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কম বয়সি গরু বাছুর মারা যাচ্ছে খেতে না পেরে। ফলে আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা এলাকার গ্রামগঞ্জে সম্প্রতি গবাদিপশুতে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার পবা উপজেলার প্রায় অধিকাংশ গ্রামেই গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়েছে এলএসডি রোগ। মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও দুর্গাপুর উপজেলায়ও লাম্পি স্কিন ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। গত কয়েক দিনে দুর্গাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে তিন শতাধিক গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ছড়ানোর খবর পেয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত গবাদিপশুর ভ্যাকসিন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের খামারি জাহিদ হোসেন জানান, বর্ষার শুরুতেই লাম্পি স্কিন দেখা দিয়েছিল এলাকার কয়েকটি খামারে। গত দুই মাস ধরে এই রোগ বিস্তার লাভ করেছে অন্য এলাকাতেও। এই রোগ এক গরু থেকে আরেক গরুর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগে বেশ কিছু গবাদিপশুর মৃত্যুর খবরও আছে। অনেক কৃষক আক্রান্ত পশুকে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে রাখছেন। ফলে সংক্রমণের হার বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। কৃষকরা আরও বলছেন, যেখানে জলাভূমি ও মশা মাছির উপদ্রব বেশি সেসব এলাকায় বেশি দেখা দিচ্ছে লাম্পি স্কিন রোগ। পবা উপজেলা বড়গাছি গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, আক্রান্ত গরু প্রথমে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। গবাদিপশুর শরীরে জ্বর থাকছে কয়েক দিন। এরপর ফোস্কা চাকা চাকা হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে গরু গাভী বাছুর কিছুই খাচ্ছে না। দিন দিন দুর্বল হয়ে কোনো কোনোটি মারাও যাচ্ছে। একটি গরু আক্রান্তের কয়েক দিনের মধ্যে অন্যগুলোতেও লাম্পি স্কিন ছড়িয়ে যাচ্ছে। তারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলফিকার মোহা. আখতার হোসেন বলেন, দেশের অনেক জায়গার মতো রাজশাহীতেও ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ গবাদিপশুতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি ভাইরাসজনিত গবাদিপশুর চর্মরোগ। আফ্রিকার অনেক দেশে এই রোগে গবাদিপশুর মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ। এই রোগ বাংলাদেশে এখনো মহামারি আকার ধারণ করেনি। আতঙ্কের বিশেষ কারণ নেই। প্রতিষেধক আছে। চিকিৎসায় ফলাফলও ভালো।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এলএসডি একটি পক্স ভাইরাস যা গবাদিপশুর গুটিবসন্ত নামে পরিচিত। এই রোগের সংক্রমণে গবাদিপশুর শরীরের অনেক স্থানে ক্ষত হয়, শরীর গরম থাকে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, গরুর নাক-মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রমণশীল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এক পশু থেকে আরেক পশুতে। সাধারণত এই রোগ বর্ষা, শরৎ ও বসন্তের শুরুতে বেশি দেখা যায়। যে সময়ে মশা-মাছির আধিক্য বেশি থাকে। জলাভূমি এলাকায় এই রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করে। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আক্রান্ত গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া, খামার বা গোয়াল ঘরের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, গরু মশারির নিচে রাখা এবং আক্রান্ত গরু অন্য গরু থেকে পৃথক ও পরিষ্কার জায়গায় রাখা দরকার। এতে অন্য গরুর শরীরে এই রোগ ছড়াবে না। সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। জানা গেছে, রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ উপজেলাগুলোতে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। গরুর গায়ে মশা-মাছি যেন বসতে না পারে সেদিকে খামারিদের বিশেষ নজর রাখতে পরামর্শ দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাঠকর্মীরা। তারা গ্রামাঞ্চলে লিফলেটও বিতরণ করছে। কর্মকর্তারা অবশ্য আশা করছেন আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটলে ক্রমেই লাম্পি স্কিনের প্রাদুর্ভাবও কমে যাবে।

রাজশাহীতে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ

গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারি ও গৃহস্থরা
 রাজশাহী ব্যুরো 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর এলএসডি বা লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পড়েছে। খামার ও গৃহস্থের বাড়িতে পালিত গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় খামারি ও গৃহস্থরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গরু বাছুরের এ রোগের প্রতিকার পেতে তারা ছুটছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরে। পশু ডাক্তারের সুপারিশ অনুযায়ী ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। কিন্তু এই রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠছে না আক্রান্ত পশু। খামারিরা বলছেন, মহামারি আকারে ছড়াচ্ছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএনডি)। ফলে গবাদিপশু দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কম বয়সি গরু বাছুর মারা যাচ্ছে খেতে না পেরে। ফলে আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলা এলাকার গ্রামগঞ্জে সম্প্রতি গবাদিপশুতে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার পবা উপজেলার প্রায় অধিকাংশ গ্রামেই গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়েছে এলএসডি রোগ। মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও দুর্গাপুর উপজেলায়ও লাম্পি স্কিন ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। গত কয়েক দিনে দুর্গাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে তিন শতাধিক গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ছড়ানোর খবর পেয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত গবাদিপশুর ভ্যাকসিন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের খামারি জাহিদ হোসেন জানান, বর্ষার শুরুতেই লাম্পি স্কিন দেখা দিয়েছিল এলাকার কয়েকটি খামারে। গত দুই মাস ধরে এই রোগ বিস্তার লাভ করেছে অন্য এলাকাতেও। এই রোগ এক গরু থেকে আরেক গরুর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগে বেশ কিছু গবাদিপশুর মৃত্যুর খবরও আছে। অনেক কৃষক আক্রান্ত পশুকে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে রাখছেন। ফলে সংক্রমণের হার বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। কৃষকরা আরও বলছেন, যেখানে জলাভূমি ও মশা মাছির উপদ্রব বেশি সেসব এলাকায় বেশি দেখা দিচ্ছে লাম্পি স্কিন রোগ। পবা উপজেলা বড়গাছি গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, আক্রান্ত গরু প্রথমে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। গবাদিপশুর শরীরে জ্বর থাকছে কয়েক দিন। এরপর ফোস্কা চাকা চাকা হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে গরু গাভী বাছুর কিছুই খাচ্ছে না। দিন দিন দুর্বল হয়ে কোনো কোনোটি মারাও যাচ্ছে। একটি গরু আক্রান্তের কয়েক দিনের মধ্যে অন্যগুলোতেও লাম্পি স্কিন ছড়িয়ে যাচ্ছে। তারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলফিকার মোহা. আখতার হোসেন বলেন, দেশের অনেক জায়গার মতো রাজশাহীতেও ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ গবাদিপশুতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি ভাইরাসজনিত গবাদিপশুর চর্মরোগ। আফ্রিকার অনেক দেশে এই রোগে গবাদিপশুর মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ। এই রোগ বাংলাদেশে এখনো মহামারি আকার ধারণ করেনি। আতঙ্কের বিশেষ কারণ নেই। প্রতিষেধক আছে। চিকিৎসায় ফলাফলও ভালো।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এলএসডি একটি পক্স ভাইরাস যা গবাদিপশুর গুটিবসন্ত নামে পরিচিত। এই রোগের সংক্রমণে গবাদিপশুর শরীরের অনেক স্থানে ক্ষত হয়, শরীর গরম থাকে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, গরুর নাক-মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রমণশীল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এক পশু থেকে আরেক পশুতে। সাধারণত এই রোগ বর্ষা, শরৎ ও বসন্তের শুরুতে বেশি দেখা যায়। যে সময়ে মশা-মাছির আধিক্য বেশি থাকে। জলাভূমি এলাকায় এই রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করে। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আক্রান্ত গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া, খামার বা গোয়াল ঘরের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, গরু মশারির নিচে রাখা এবং আক্রান্ত গরু অন্য গরু থেকে পৃথক ও পরিষ্কার জায়গায় রাখা দরকার। এতে অন্য গরুর শরীরে এই রোগ ছড়াবে না। সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। জানা গেছে, রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ উপজেলাগুলোতে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। গরুর গায়ে মশা-মাছি যেন বসতে না পারে সেদিকে খামারিদের বিশেষ নজর রাখতে পরামর্শ দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাঠকর্মীরা। তারা গ্রামাঞ্চলে লিফলেটও বিতরণ করছে। কর্মকর্তারা অবশ্য আশা করছেন আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটলে ক্রমেই লাম্পি স্কিনের প্রাদুর্ভাবও কমে যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন