চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন ডেঙ্গি বাড়ছে করোনাও
jugantor
চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন ডেঙ্গি বাড়ছে করোনাও

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গি। এডিস মশা থেকে সংক্রমিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও। রোববার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ ডেঙ্গি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার আগের দিনও এই সংখ্যা ছিল ২৭। এর পাশাপাশি জেলায় করোনা সংক্রমণও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কেননা আক্রান্তরা সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছেন। সব বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গি রোগীর তথ্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আসছে না। আবার অনেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারাও থেকে যাচ্ছেন হিসাবের বাইরে।

এদিকে এক সপ্তাহে কোভিড শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একইসঙ্গে ডেঙ্গি ও কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের। তবে তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখনো পর্যন্ত ডেঙ্গি ও কোভিড রোগীদের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ৬৪৫ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২৪ জন। বাকিরা সবাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

জানুয়ারিতে ৫ জন ও ফেব্রুয়ারিতে ১ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হন। এরপর টানা ৩ মাস কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি। এরপর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ জুন থেকে ফের ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী দেখা যেতে থাকে। জুনে ১৭ জন, জুলাইয়ে ৫০ জন, আগস্টে ৭৬ জন আক্রান্ত হন। সেপ্টেম্বরে এসে দ্রুতই পালটে যেতে থাকে দৃশ্যপট। প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন। এই এক মাসেই মৃত্যু হয় ৫ জনের।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াছ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, একজন ডেঙ্গি রোগী পাওয়া গেলেও আমরা সেই পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক হিসাবে ধরে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালে যেসব জটিল রোগী ভর্তি হচ্ছেন আমাদের কাছে শুধু তাদের তথ্যই আসছে। আবার অনেক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আমরা তথ্য পাই না। প্রকৃতপক্ষে আক্রান্তের সংখ্যা আমাদের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হবে। তিনি বলেন, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড শনাক্তের সংখ্যা কোনো কোনোদিন ১৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী শনাক্তের হার ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ১৫ দিন ধরেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন করোনা চলে গেছে। এমন ভুল ধারণা থেকে তারা স্বাস্থ্যবিধি মানা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই সংক্রমণ বাড়ছে।

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন ডেঙ্গি বাড়ছে করোনাও

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গি। এডিস মশা থেকে সংক্রমিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও। রোববার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ ডেঙ্গি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার আগের দিনও এই সংখ্যা ছিল ২৭। এর পাশাপাশি জেলায় করোনা সংক্রমণও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কেননা আক্রান্তরা সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছেন। সব বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গি রোগীর তথ্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আসছে না। আবার অনেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারাও থেকে যাচ্ছেন হিসাবের বাইরে।

এদিকে এক সপ্তাহে কোভিড শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একইসঙ্গে ডেঙ্গি ও কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের। তবে তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখনো পর্যন্ত ডেঙ্গি ও কোভিড রোগীদের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ৬৪৫ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২৪ জন। বাকিরা সবাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

জানুয়ারিতে ৫ জন ও ফেব্রুয়ারিতে ১ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হন। এরপর টানা ৩ মাস কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি। এরপর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ জুন থেকে ফের ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী দেখা যেতে থাকে। জুনে ১৭ জন, জুলাইয়ে ৫০ জন, আগস্টে ৭৬ জন আক্রান্ত হন। সেপ্টেম্বরে এসে দ্রুতই পালটে যেতে থাকে দৃশ্যপট। প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন। এই এক মাসেই মৃত্যু হয় ৫ জনের।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াছ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, একজন ডেঙ্গি রোগী পাওয়া গেলেও আমরা সেই পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক হিসাবে ধরে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালে যেসব জটিল রোগী ভর্তি হচ্ছেন আমাদের কাছে শুধু তাদের তথ্যই আসছে। আবার অনেক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আমরা তথ্য পাই না। প্রকৃতপক্ষে আক্রান্তের সংখ্যা আমাদের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হবে। তিনি বলেন, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড শনাক্তের সংখ্যা কোনো কোনোদিন ১৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী শনাক্তের হার ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ১৫ দিন ধরেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন করোনা চলে গেছে। এমন ভুল ধারণা থেকে তারা স্বাস্থ্যবিধি মানা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই সংক্রমণ বাড়ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন